মঙ্গলবার | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

আইসেস্কো ভার্চুয়াল কনফারেন্সে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রীর অংশগ্রহণ

বর্তমানকন্ঠ ডটকম : করোনা ভাইরাসজনিত রোগ কোভিড-১৯ এর বৈশ্বিক মহামারির প্রেক্ষিতে বিদ্যমান স্বাস্থ্য সংকট এবং সংস্কৃতি খাতে এর প্রভাব মোকাবেলায় ‘কোভিড-১৯ সংকটের প্রেক্ষিতে টেকসই সাংস্কৃতিক কর্মপরিকল্পনা’ [Sustainability of Cultural Action in the Face of Crises (Covid-19)] শীর্ষক ওআইসি সদস্যভুক্ত দেশসমূহের সংগঠন ইসলামিক বিশ্ব শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি সংস্থা (Islamic World Educational, Scientific and Cultural Organization: ICESCO) এর আয়োজনে সদস্যভুক্ত দেশসমূহের সংস্কৃতি মন্ত্রীদের অংশগ্রহণে বিশেষ ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যোগদান করেন সংস্কৃতি বিষয়ক প্রতিমন্ত্রী কে এম খালিদ।

প্রতিমন্ত্রী আজ রাজধানীর বেইলি রোডস্থ মিনিস্টার্স অ্যাপার্টমেন্টের নিজ বাসভবন থেকে এ ভার্চুয়াল কনফারেন্সে যুক্ত হন।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী তাঁর বক্তব্যে বলেন, নোভেল করোনাভাইরাস সারা বিশ্বের রাজনীতি, অর্থনীতি, সমাজ ও সংস্কৃতির বিভিন্ন খাতে বিরূপ প্রভাব ফেলছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা করোনা সংকট মোকাবিলা ও এর তাৎক্ষণিক প্রভাব নিরসনে ইতোমধ্যে মোট দেশজ উৎপাদনের শতকরা ৩ দশমিক ৭ ভাগের সমতুল্য প্রায় ১২ দশমিক ১১ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের একগুচ্ছ (১৯টি) আর্থিক প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেছেন যেখান থেকে বেশ কিছু সংখ্যক ক্ষতিগ্রস্ত সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান ও প্রান্তিক শিল্পীদের উপকৃত হওযার সুযোগ রয়েছে। এসব প্রণোদনা প্যাকেজ ছাড়াও ইতোমধ্যে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন তহবিল হতে ক্ষতিগ্রস্ত সাংস্কৃতিক সংঘ, প্রতিষ্ঠান এবং শিল্পীদেরকে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে এবং ২ কোটি ৯০ লাখ টাকা (৩ দশমিক ৪৮ লাখ মার্কিন ডলার) ব্যয়ে বই ক্রয় করা হয়েছে যা সংস্কৃতি খাতকে জোরদারকরণ ও পুনর্জাগরণে সহায়তা করবে।

কে এম খালিদ বলেন, এখন আমাদের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো সম্পদ আহরণ এবং সুবিন্যস্ত কর্মকাঠামো তৈরি করা যা এ সংকট বিশেষ করে সংস্কৃতি খাতে এর প্রভাব নিরসনে সহায়তা করবে। লাইভ স্ট্রিমিং পারফরম্যান্স এবং ডিজিটাল কালচারাল ট্যুরিজম এর মাধ্যমে বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী শিল্পকলাসমূহ এ সংকটে টিকে থাকবে বলে প্রতিমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, ডিজিটাল কালচারাল ট্যুরিজমের প্রসারে প্রত্নতাত্তি¦ক ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যগত স্থাপনা এবং জাদুঘরসমূহে ভার্চুয়াল পরিদর্শন চালুর চিন্তাভাবনা করা যেতে পারে। ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্ম গুগল আর্ট এণ্ড কালচার (Google Art and Culture) ব্যবহার করে এসব স্থাপনা ও জাদুঘরসমূহের থ্রি-ডি ডকুমেন্টেশন তৈরি করা যাবে। এসব বাস্তবায়নে প্রথমত আমাদের প্রয়োজন সংস্কৃতি খাতে ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহারের সক্ষমতা বৃদ্ধিকরণ; দ্বিতীয়ত নতুন প্রযুক্তি ও প্রযুক্তিগত চর্চা গ্রহণকে আমাদের স্বাগত জানানো ও সমর্থন করা; তৃতীয়ত ডিজিটাল কনটেন্ট তৈরি ও ছড়িয়ে দেয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সহায়তা করা।

সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, সংস্কৃতি খাতকে টিকিয়ে রাখতে সরকার বিভিন্ন সাহিত্য ও শৈল্পিক সৃজনশীলতাভিত্তিক কিছু প্রকল্প নেয়ার চিন্তাভাবনা করছে, কিন্তু এর জন্য প্রয়োজন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা। ইউনেস্কো ও আইসেস্কো এক্ষেত্রে সামনে এগিয়ে এসে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার হাত সম্প্রসারিত করতে পারে।

বাংলাদেশ সময় আজ বিকাল ৩টা হতে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে আইসেস্কোর সদস্যভুক্ত ৫৪টি দেশের সংস্কৃতি মন্ত্রীগণ অংশগ্রহণ করেছেন। সংযুক্ত আরব আমিরাতের সংস্কৃতি ও জ্ঞান উন্নয়ন মন্ত্রী মিসেস নাওরা আল কাবি (Mrs Noura Al Kaabi) এর সভাপতিত্বে তিন ঘণ্টার এ বিশেষ ভার্চুয়াল কনফারেন্স পরিচালনা করেন আইসেস্কো (ICESCO) এর মহাপরিচালক ড. সেলিম এম আলমালিক (Dr. Salim M. AlMalik)।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *