সোমবার | ৩রা আগস্ট, ২০২০ ইং |

ডাঃ ইসমত কবীর, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, যুক্তরাজ্য : বৃটিশদের গর্ব কি নিয়ে? এক সময় ছিল ঐতিহ্যবাহী রাজপরিবার, চৌকষ রাজকীয় সেনাবাহিনী বা দুনিয়াজুড়ে বিপুল জনপ্রিয় গণমাধ্যম ‘বিবিসি’।

এখন এগুলোর কোনটাই নয়। বৃটেনের প্রতিটি নাগরিকের হৃদয়ের স্পন্দন এখন এনএইচএস। ছোট-বড়, ধনী-নির্ধন, পুরুষ-মহিলা, শ্রেণী-পেশা নির্বিশেষে ব্রিটিশদের অহংকার হলো এনএইচএস।

‘এনএইচএস’ এর ডাক্তার-নার্স বৃটেনের সবচেয়ে বেশি ভরসাযোগ্য বিশ্বস্ত পেশাজীবি।

ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস বা জাতীয় স্বাস্থ্য সেবার জন্ম পাঁচই জুলাই, ১৯৪৮। শুরু থেকেই দেশজুড়ে ‘মাতৃগর্ভ থেকে কবর’ (From womb to tomb) পর্যন্ত সার্বজনীন স্বাস্থ্য সেবা নিশ্চিত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে এনএইচএস।

এর তিন মূলনীতি (১) প্রত্যেকের চাহিদা মেটাতে হবে (২) বিণামূল্যে সেবা দিতে হবে গ্রহিতার দোরগোড়ায় (৩) চাহিদার উপর নির্ভর করবে সেবার গুন ও মান, সেবাগ্রহীতার অর্থ-বিত্তের উপর নয়।

ষোল লক্ষ নিবেদিতপ্রাণ কর্মী নিয়ে এনএইচএস বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম প্রতিষ্ঠান। প্রায় দুশো বিভিন্ন জাতিসত্ত্বার থেকে আসা এ বিপুল সংখ্যক কর্মীদের নিয়ে গড়ে উঠেছে বহু সংস্কৃতির সম্মিলনে অপূর্ব এক কর্মপরিবেশ (মাল্টি কালচারাল ওয়ার্ক এনভায়রনমেন্ট)।

‘এনএইচএস’ এর প্রাথমিক স্বাস্থ্য সেবার পুরোটাই জেনারেল প্র‍্যাকটিশনার (জিপি) নির্ভর। তাই বৃটেনবাসীদের দৈনন্দিন জীবনের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত ডাক্তার হচ্ছেন জিপি।

প্রতিবছর অনন্য সেবার জন্য সেরা জিপি বাছাই করে সম্মানিত করে এনএইচএস। এবারের সেরা জিপি নির্বাচিত হয়েছেন বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত ডাঃ ফারজানা হুসেন।

আজ স্থানীয় সময় বিকেল পাঁচটায় সকল বৃটেনবাসী রাস্তায়, বারান্দায়, আঙিনায় দাঁড়িয়ে করতালি দিয়ে অভিনন্দন, ধন্যবাদ জানাবেন এনএইচএস এর কর্মীদের, ৭২তম জন্মদিনে। এ করতালি দেওয়ার অনুষ্ঠানে নেতৃত্ব দেবেন প্রধান মন্ত্রী বরিস জনসন।

বৃটেনের গর্ব এনএইচএস।
আর এ বছর এনএইচএস এর গর্ব ডাঃ ফারজানা হুসেন।

লেখক : জেরিয়াট্রিক ও জেনারেল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রেজিস্ট্রার, কুইন এলিজাবেথ দা কুইন মাদার হসপিটাল, মারগেট, কেন্ট, যুক্তরাজ্য।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *