শুক্রবার | ১০ই জুলাই, ২০২০ ইং |

কিউবার চিকিৎসকদের নোবেল দেওয়ার দাবি ইউরোপে

বর্তমানকন্ঠ ডটকম : করোনা সংক্রমণ বদলে দিয়েছে কূটনীতির চেনা সমীকরণ। ৬ মাসের সংকট ৬ দশকের শত্রুতা ভুলিযে দিয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্পর্কের গবেষকদের অবাক করে প্রায় রাতারাতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের ঘনিষ্ঠ হয়ে উঠেছে কিউবা। ন্যাটোর সদস্য ইউরোপের যে সব দেশ এতদিন কিউবাকে বারবার সমস্যায় ফেলেছে, এখন সে সব দেশেই ফিদেল কাস্ত্রোর দেশের চিকিত্সকদের নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওযার জোরালো দাবি উঠেছে। একধাপ এগিয়ে ইতালি সরকারিভাবে নোবেল কমিটিকে এ ব্যাপারে প্রস্তাব পাঠিয়েছে। কিউবান চিকিৎসকদের নোবেল দেওযার দাবিকে জোরালো করতে বিশেষ বৈঠক করেছে ইন্টারন্যাশনাল কমিটি ফর পিস, জাস্টিস অ্যান্ড ডিগনিটির মতো আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠনগুলি। ফ্রান্স, স্পেন, ইতালি, হাঙ্গেরি, বেলজিয়াম, আয়ারল্যান্ড ও সুইজারল্যান্ডের ৪০টির বেশি রাজনৈতিক দল, মানবাধিকার সংগঠন ও বণিকসভার তরফে কিউবার চিকিৎসকদের নোবেল দেওযার প্রস্তাব পেশ করা হয়েছে।

গত মার্চ থেকে ইউরোপে সংক্রমণ কার্যত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গিয়েছিল। ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইংল্যান্ডে আক্রান্তের সংখ্যা লাফিটে লাফিয়ে বেড়েছে। আমেরিকা নিজেই সংক্রমণের জেরে কাবু হযে পড়ায় ইউরোপের দেশগুলির পক্ষে অবস্থা সামাল দেওয়া প্রায় অসম্ভব হযে পড়েছিল। এই দুর্দিনে এগিযে আসে কিউবা। পুরোনো শত্রুতা দূরে ঠেলে ফিদেল কাস্ত্রোর দেশ চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের বিরাট একটি দলকে ইউরোপে পাঠায়। ইতালি ও ইংল্যান্ডে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিয়েছে এই দলটি। ইতালির স্বাস্থ্য দপ্তরের এক আধিকারিক জানিয়েছেন, সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর আমেরিকার কাছে সাহায্য চেয়ে পাওয়া যায়নি। একের পর এক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী আক্রান্ত হওয়ায় চিকিৎসা পরিষেবা ভেঙে পড়েছিল। কিউবা থেকে আসা চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা না এলে ইতালির পক্ষে ঘুরে দাঁড়ানো অসম্ভব ছিল। কিউবান চিকিৎসকদের প্রশংসা করেছে ব্রিটেনও। গতমাস থেকে দক্ষিণ আফ্রিকায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে শুরু করার পর সেখানে ২১৬ জন চিকিৎসককে পাঠিয়েছে কিউবা। করোনা আক্রান্ত যাত্রীবাহী জাহাজ এমএস ব্রেইমার মার্কিন বন্দরে নোঙর করার অনুমতি পায়নি। কিউবাই শেষপর্যন্ত তাদের বন্দরে জাহাজটিকে নোঙর করায়। একহাজার যাত্রী ও কর্মীকে কোয়ারান্টিনে রাখার ব্যবস্থা করে। আক্রান্তদের সুস্থ করে তোলে। এবার সেই কিউবার সমর্থনে সরব হয়েছে গোটা ইউরোপ।

অন্যদিকে, এই দাবিতে যথেষ্ট বিব্রত আমেরিকা। কয়েক দশক ধরে কিউবাকে কাবু করার চেষ্টা করেছে তারা। এতদিন আমেরিকার পাশে দাঁড়িয়েছিল ন্যাটোর সদস্য ইউরোপীয় দেশগুলি। এখন সেই দেশগুলিই কিউবার পাশে দাঁড়ানোয় নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *