বুধবার | ৫ই আগস্ট, ২০২০ ইং |

কৃষকরা সরকারী ক্রয় কেন্দ্রে ধান না দিয়ে কম দামে বাজারে বিক্রি করছেন

জাহিদুর রহমান তারিক, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, ঝিনাইদহ : ঝিনাইদহে ধান সংগ্রহ অভিযানে সাড়া নেই। কৃষকরা সরকারী ক্রয় কেন্দ্রে ধান না দিয়ে বাজারে বিক্রি করছেন। ফলে এক মাস ১৮ দিনে মাত্র ১৩১ মেট্রিক টন ধান কিনতে পেরেছে ঝিনাইদহ খাদ্য বিভাগ। এ অবস্থা চলতে থাকলে এবার ধান সংগ্রহ অভিযান ব্যার্থ হতে পারে।

খাদ্য বিভাগ সুত্রে জানা গেছে, ঝিনাইদহের ৬ উপজেলায় চলতি মৌসুমে ১৪ হাজার ১৪২ মেট্রিক টন ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা ধার্য্য করা হয়। এর মধ্যে ঝিনাইদহ সদর উপজেলায় ৩৯১৪ মেট্রিক টনের বিপরীতে ১১৫ টন, কালীগঞ্জে ২৫৪৪ টনের বিপরীতে মাত্র ৩ টন, কোটচাঁদপুরে ৯৮৮ টনের বিপরীতে ২ টন ও মহেশপুরে ৩১৮৯ টনের বিপরীতে ১১ টন ধান কেনা হয়েছে। শৈলকুপা ও হরিণাকুন্ডু উপজেলার কৃষকরা সরকারী খাদ্য গুদামে এখনো ধান বিক্রি করেনি। ফলে ২৯ জুন পর্যন্ত জেলায় ১৪ হাজার ১৪২ মেট্রিক টনের বিপরীতে মাত্র ১৩১ টন ধান কেনা গেছে।

সুত্রমতে গত ১৩ মে ঝিনাইদহ জেলায় ধান কেনার উদ্বোধন করা হয়। আগামী ৩১ আগষ্ট পর্যন্ত তা চলবে। কৃষকরা জানান, সরকারী মুল্যোর সঙ্গে বাজারে ধানের মুল্য খুব বেশি তফাৎ নয়। গুদামে কৃষকরা ধান নিয়ে গেলে পদে পদে হয়রানী ও শর্ত পুরণ করার চেয়ে কিছুটা কম দামে বাজারে ধান বিক্রি করতেই তারা বেশি সাচ্ছন্দবোধ করছেন বলে কয়েকজন কৃষক জানান।

বাবুল বিশ্বাস নামে এক কৃষক জানান, সরকারী ভাবে ধানের মন ১০৪০ টাকা। বাজারে এখন ধানের মুল্য ৯৫০। তিনি জানান, দুরের গ্রাম থেকে ঝিনাইদহের বিভিন্ন গুদামে ধান নিয়ে গেলে গাড়ি ভাড়া, সময় ও শ্রম ব্যায় করেও যদি শর্ত পুরণ করা না যায় তবে ধান নিয়ে আবার বাড়ি ফিরে আসতে হয়। এতে কৃষকরা হয়রানী ও আর্থিক দুই দিক থেকে ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। তাই তারা নিকটস্থ বাজারে ধান বিক্রি করে দিচ্ছেন।

তবে ঝিনাইদহ খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনজুর রহমান জানান, বাইরের বাজার ও সরকারী দাম প্রায় এক হয়ে যাওয়ার কারণে কৃষকরা ধান বিক্রি করছেন না এটা ঠিক। তারপরও এখনো দুই মাস সময় আছে। এর মধ্যে বাজার কিছুটা কমলে হয়তো ধান কেনার লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হতে পারে। আমরা সেই অপেক্ষায় আছি।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *