মঙ্গলবার | ২২শে সেপ্টেম্বর, ২০২০ ইং |

কোভিড১৯ এর টেস্ট ; আরটিপিসিআর (rRT-PCR) এবং এন্টিবডি টেস্ট

ডাঃ ইসমত কবীর, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, যুক্তরাজ্য : আর.আরটিপিসিআর এর পুরো নাম হচ্ছে রিয়াল টাইম রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ পলিমারেজ চেন রিএকশন (Real Time Reverse Transcriptase Polymerase Chain Reaction).

কোভিড১৯ এর ভাইরাস একটা আরএনএ ভাইরাস। এর বংশগতি বা বিস্তার লাভের মূল উপকরণ লুকিয়ে থাকে আরএনএ বা রিবোনিউক্লিক এসিড এর মধ্যে। তাই এই নির্দিষ্ট আরএনএ’র উপস্থিতি নির্ণয় করা টেস্টটির উদ্দেশ্য।

প্রথমে আক্রান্ত ব্যক্তির নাক বা গলা থেকে ‘সোয়াব’ সংগ্রহ করে ভাইরাস-মিডিয়া সমৃদ্ধ টিউবে করে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরীক্ষাগারে পাঠানো হয়।

নমুনাতে বা ড্রপলেটে ভাইরাস থেকে আরএনএকে আলাদা করা হয়।

এবার আরএনএকে রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ নামের এনজাইম দিয়ে সিডিএনএ (cDNA) বা কমপ্লিমেনটারি ডিএনএ তৈরি করা হয়। ডিএনএ থেকে আরএনএ তৈরীর স্বাভাবিক প্রক্রিয়াটি হলো ট্রান্সক্রিপশন। এর উল্টোটা হচ্ছে বলে প্রক্রিয়াটার নাম হয়ে যাচ্ছে রিভার্স ট্রান্সক্রিপসন, আর ব্যবহৃত এনজাইম বা জারকটির নাম হচ্ছে রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ (আরটি)।

তৈরী ডিএনএ থেকে পরবর্তী ধাপে অগণিত ডিএনএ তৈরী বা বিবর্ধিত (Amplification) হয় এক চেইন রিএকশন বা ক্রমিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে। এ ধাপের এনজাইমটি হচ্ছে পলিমারেজ। পিসিআর অক্ষরগুচ্ছ এসেছে ‘পলিমারেজ চেইন রিএকশন’ থেকে।

ডিএনএ বিবর্ধন এ প্রক্রিয়াটায় যুক্ত হয় দৃশ্যমান ফ্লুয়োরেসেন্ট, তার ফলে পুরো প্রক্রিয়াটা রিয়াল টাইমে দেখা যায়।

এ জন্য এ পদ্ধতিটির পুরো নাম রিয়াল টাইম রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ পলিমারেজে চেন রিএকশন বা আর আরটি পিসিআর।

এ পদ্ধতি ব্যয়বহুল, শুধু মেশিন এর দামই না, কীট এর দামও বেশি। দক্ষ টেকশিনিয়ান ছাড়া এটি করার উপায় নেই।

এটি খুব নির্ভর‍যোগ্য এবং সংবেদনশীল , ভাইরাসের ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র এমআরএনএ এর ভগ্নাংশের উপস্থিতিও এ পদ্ধতিতে নির্ণয় করা সম্ভব। তাই এ পদ্ধতি সংক্রমণ নির্ণয়ের ‘গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড’!

নমুনা সংগ্রহ বা পদ্ধতিগত ত্রুটির কারণে এটা ভুল ফল দিতে পারে।

এ পদ্ধতি ভাইরাসটির আরএনএ এর উপস্থিতি নির্ণয় করে, সেই আরএনএ সংক্রমণ করতে পারে কিনা তা বলতে পারে না। সেরে উঠা রোগীদের একমাস পরেও পজিটিভ টেস্ট পাওয়া গেছে কিন্তু তাঁদের থেকে সংক্রমণ এর প্রমাণ মেলেনি।

কোভিড১৯ এ এন্টিবডি টেস্ট

কোভিড১৯ এর ভাইরাস এ আক্রান্ত হলে অচিরেই শরীরে রোগ প্রতিরোধক ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে উঠে। দেহের এ প্রতিক্রিয়াটি একটা চৌকস, জটিল ও কার্যকর ব্যবস্থা যার ফলে শরীর ভাইরাস এর বিস্তার অকার্যকর করে দিতে সচেস্ট হয়।

এ প্রক্রিয়ার অন্যতম অস্ত্র হচ্ছে ভাইরাসটির বিরুদ্ধে তৈরী হওয়া সুনির্দিষ্ট এন্টিবডি। রক্ত বা দেহরস এ এন্টিবডির উপস্থিতি সনাক্ত হলে পরোক্ষভাবে সংক্রমিত হওয়ার প্রমাণ মেলে।

আইজি এম (IgM) এন্টিবডি পাওয়া গেলে ধরে নিতে হবে নিকট অতীতে সংক্রমণ ঘটেছিল বা এখনও সংক্রমণ বিদ্যমান আর আইজি জি (IgG) পেলে ধরে নিতে হবে আক্রান্ত ব্যক্তি সংক্রমণ থেকে মুক্তি পেতে সফল হয়েছেন। (পর্যাপ্ত ঘনত্বের এন্টিবডি থাকলে তিনি রক্তরস বা প্লাজমা দানও করতে পারবেন।)

প্রেগনেন্সি টেস্ট এর মতো একটা ব্যবহার বান্ধব স্ট্রিপ দিয়ে এ পরীক্ষা করা যায়। এতে খরচ খুব কম। ব্যয়বহুল মেশিন, দামী কিট, দক্ষ ল্যাব টেকনিশিয়ান এসব ছাড়াই করা এ টেস্টটি আক্রান্তের কাছাকাছি (Point of Care) করা সম্ভব।

পরীক্ষাগারে এলাইজা (Enzyme Linked Immunosorbent Assay) পদ্ধতিতেও এন্টিবডির উপস্থিতি এবং ঘনত্ব (Titre) কার্যকর ভাবে নির্ণয় করা যাচ্ছে। এটা প্লাজমা থেরাপিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

এটা পরোক্ষ পদ্ধতি বলে সংক্রমণের প্রথম কয়েকদিনে এর ভূমিকা নেই।

আরটিপিসিআর এবং এন্টিবডি টেস্ট একটি আরেকটার বিকল্প বা পরিপূরক নয়। এন্টিবডি টেস্ট হচ্ছে সম্পূরক ও সহায়ক টেস্ট।

কম খরচে কম সময়ে ব্যাপক জনগোষ্ঠীকে পরীক্ষার আওতায় আনতে হলে আরটিপিসিআর এর পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য এন্টিবডি টেস্টও চালিয়ে যেতে হবে।

লেখক : জেরিয়াট্রিক ও জেনারেল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রেজিস্ট্রার, কুইন এলিজাবেথ দা কুইন মাদার হসপিটাল, মারগেট, কেন্ট, যুক্তরাজ্য।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *