বৃহস্পতিবার | ২রা জুলাই, ২০২০ ইং |

কোভিড১৯ নতুন টেস্ট ; আরটি-ল্যাম্প RT- LAMP মুখের লালা দিয়ে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষা

ডাঃ ইসমত কবীর, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, যুক্তরাজ্য : বাংলাদেশে আরটি-পিসিআর এর সাথে যোগ হতে পারে সম্ভাবনাময় আরটি-ল্যাম্প । ২১ জুন, ২০২০ এ নতুন পরীক্ষার ট্রায়াল শুরু।

ইউনিভার্সিটি অব সাউথাম্পটন এর তত্ত্বাবধানে পাইলট প্রকল্প এর আওতায় ১৪০০০ জরুরী সেবা কর্মীদের ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের আগামী চার সপ্তাহ এ পরীক্ষাটির ট্রায়াল চালানো হবে। এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান হচ্ছে অপ্টিজিন (OptiGene)।

আরটি- পিসিআর

কোভিড১৯ এর ভাইরাস এর উপস্থিতি নির্ণয়ের সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য, সংবেদনশীল পরীক্ষা হচ্ছে আর.আরটি-পিসিআর বা কিউ.আরটিপিসিআর। এটাকে বলা হয় গোল্ড স্ট্যান্ডার্ড। কিন্তু এর কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায় এটা ব্যাপকভাবে ব্যবহার সম্ভব হচ্ছে না।

(১) নাক এবং গলা থেকে সোয়াব সংগ্রহ করতে হবে। নাক-গলা স্পর্শকাতর এলাকা বলে নমুনা সংগ্রহ কষ্টসাধ্য।
(২) আরটি-পিসিআর মেশিন ব্যয়বহুল, কিটও দামী।
(৩) দক্ষ টেকনিশিয়ান ছাড়া এটা করা যায় না।
(৪) মেশিন চালনার প্রক্রিয়াটি জটিল। বার বার ঠান্ডা ও গরম করার জন্য থার্মাল সাইক্লার নামে দামী যন্ত্রের দরকার হয়। কয়েকটি ধাপের সময় সাপেক্ষ এ টেস্টটির জন্য অন্তত দু ঘন্টা দরকার।
(৫) উচ্চ প্রযুক্তির পরীক্ষাগারের বাইরে এটা করা সম্ভব নয়।

আরটি- ল্যাম্প

নতুন টেস্টটির নাম হচ্ছে আরটি-ল্যাম্প (RT- LAMP) বা রিভার্স ট্রান্সক্রিপটেজ লুপমিডিয়েটেড আইসোথারমাল এমপ্লিফিকেশন (Reverse Transcriptase Loop-mediated isothermal AMPlification)

(১) মুখের লালা দিয়ে এ টেস্টটি করা যাবে।
(২) মেশিনটা তূলনামূলকভাবে সস্তা। বার বার তাপমাত্রার পরিবর্তন দরকার নেই বলে ব্যয়বহুল ‘থার্মাল সাইক্লার’ এর প্রয়োজন নেই।
(৩) উচ্চ-প্রযুক্তির পরীক্ষাগার দরকার নেই বলে সেবাদানকেন্দ্রগুলোতে (Point of care) এটা অনায়াসে করা যাবে।
(৪) একটি মাত্র ধাপে অল্প সময়ে (ত্রিশ থেকে চল্লিশ মিনিট) পরীক্ষার ফল লাভ সম্ভব।
(৫) পিসিআর এর মতোই ভাইরাস আরএনএ এর উপস্থিতি নির্ণয়ে এটা অত্যন্ত সংবেদনশীল এ পদ্ধতি।
(৬) অপেক্ষাকৃত নতুন হলেও এ প্রযুক্তি অন্যান্য আরএনএ ভাইরাসজনিত রোগ নির্ণয়ে ব্যবহৃত হয়ে আসছে।

স্বাস্থ্যসেবাসহ জরুরী সেবায় নিয়োজিত কর্মীদের নিয়মিত স্ক্রিনিং করার জন্য এটা হতে পারে এক যুৎসই ব্যবস্থা।

এ টেস্টটি কম খরচে, কম সময়ে ও দামী অবকাঠামো ছাড়া করা যাবে বলে উন্নয়নশীল দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে মানসম্মত পরীক্ষা সুবিধে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে।

লেখক : জেরিয়াট্রিক ও জেনারেল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রেজিস্ট্রার, কুইন এলিজাবেথ দা কুইন মাদার হসপিটাল, মারগেট, কেন্ট, যুক্তরাজ্য।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *