রবিবার | ৩১শে মে, ২০২০ ইং |

কোভিড -১৯ ভ্যাক্সিন mRNA 127 আরেক ধাপ অগ্রগতি

ডাঃ ইসমত কবীর, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, যুক্তরাজ্য : এবারের খবর যুক্তরাষ্ট্রর সিয়াটল থেকে। ম্যাসাচুসেটস এর জৈবপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান মডারনা (Moderna Inc) আর ন্যাশনাল হেলথ ইন্সটিটিউট (NIH) এর যৌথ উদ্যোগে গত জানুয়ারীতে শুরু হয় যুগান্তকারী এ ভ্যাক্সিন প্রকল্প। ফেজ ওয়ান ট্রায়াল শুরু হয় এ বছরের মার্চের ষোল তারিখে।

অক্সফোর্ডের অধ্যাপক সারাহ গিলবার্ট এর ChAdOx1 ভ্যাক্সিন থেকে এ প্রযুক্তি আরো অগ্রসর। এতে জীবন্ত ভাইরাস এর পরিবর্তে ব্যবহার করা হয়েছে শুধুই বংশগতির সূত্র (জেনেটিক কোড) সমৃদ্ধ এমআরএনএ (mRNA) যা গ্রহিতার মাংসপেশীর কোষ ব্যবহার করে বানিয়ে নেবে এন্টিজেন, তৈরি হবে রোগ প্রতিরোধের এন্টিবডি।

প্রাথমিক ট্রায়ালে অংশ নিয়েছিলেন ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সের ৪৫ জন স্বেচ্ছাসেবী৷ এদেরকে পনের জনের তিনটি গ্রুপে ভাগ করে যথাক্রমে দেওয়া হয়, ২৫, ১০০ বা ২৫০ মাইক্রোগ্রামের টীকার দুটো ডোজ। উদ্দেশ্য ছিল ভ্যাক্সিন এর কার্যকারিতা নিশ্চিত করা, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া লক্ষ্য করা আর ঠিক ডোজটি নিরুপণ করা।

ট্রায়ালটির সাফল্য ১৮ই মে, ২০২০ সোমবার ঘোষণা করা হয়।

(১) কোভিড১৯ এর সেরে উঠা রোগীদের রক্তরস বা প্লাজমায় যে পরিমাণ রোগ প্রতিরোধক এন্টিবডি থাকে সবচেয়ে কম ডোজ (২৫ মাইক্রোগ্রাম) পেয়েছেন এমন ভ্যাক্সিনগ্রহিতা স্বেচ্ছাসেবীর শরীরেও সে পরিমাণ ভাইরাস নিষ্ক্রিয় করার এন্টিবডি তৈরি হয়েছে।

(২) বেশি ডোজপ্রাপ্তদের শরীরে আনুপাতিক হারে বেশি এন্টিবডি পাওয়া গেছে।

(৩) মাত্র একজনের ক্ষেত্রে টীকা দেওয়ার জায়গা লাল হয়ে গিয়েছিলো (১০০ মাইক্রোগ্রাম ডোজ নিয়েছিলেন)।

(৪)সর্বোচ্চ ডোজ (২৫০ মাইক্রোগ্রাম) নিয়েছিলেন এমন তিনজনের কিছু শারিরীক অসুবিধে হয়েছিল দ্বিতীয় ডোজটি নেওয়ার পর কিন্তু তা মারাত্মক কিছু ছিল না।

(৫)এছাড়া পুরোটা সময় তাঁরা শারীরিক ও মানসিক ভাবে সুস্থ ছিলেন।

(৬) কার্যকর ডোজ হিসেবে ভাবা হচ্ছে ২৫ ও ১০০ এর মাঝামাঝি ৫০ মাইক্রোগ্রাম এর কথা যে ডোজটি দ্বিতীয় পর্বে ব্যবহৃত হবে।

এর আগে ইঁদুরের উপর ভ্যাক্সিনটি প্রয়োগে সাফল্য নিশ্চিত হয়েছিল।

এফডিএ ইতোমধ্যে অনুমোদন দিয়েছে, তাই এমাসেই শুরু হতে যাচ্ছে ফেজ ২ ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল। এতে অংশ নেবেন অন্তত ছয়শ জন স্বেচ্ছাসেবী।

“ঊষার দুয়ারে হানি আঘাত, আমরা আনিব নতুন প্রভাত!”

লেখক : জেরিয়াট্রিক ও জেনারেল মেডিসিন বিশেষজ্ঞ রেজিস্ট্রার, কুইন এলিজাবেথ দা কুইন মাদার হসপিটাল, মারগেট, কেন্ট, যুক্তরাজ্য।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *