শনিবার | ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং |

ভাসছে লাশ – সাগরে গেইম বাড়িয়েছে মানবপাচারকারী চক্র

মাঈনুল ইসলাম নাসিম, বর্তমানকন্ঠ ডটকম : লিবিয়াতে গৃহযুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রতিবেশী দেশ তিউনিসিয়া উপকূল থেকে সাগরে গেইম বাড়িয়ে দিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবপাচারকারী চক্র। তাছাড়া তিউনিসিয়া হয়ে ইতালির পথে সাগরে নামলে খরচ এবং সময় দুটোই কম লাগে বিধায় পুরনো এই রুটের ব্যবহার চলতি বছরের প্রথম চার মাসে ১৫০ ভাগ বৃদ্ধি পেয়েছে গত বছরের একই সময়ের তুলনায়। গেইমের সাথে তাল মিলিয়ে বেড়েছে প্রাণহানি।

তিউনিসিয়ার রাজধানী তিউনিস থেকে ২৭০ কিলোমিটার দক্ষিন-পূর্বে বন্দরনগরী স্ফাক্স এরিয়া থেকে ৫৩ জন অভিবাসী নিয়ে একটি নৌকা গত ৪ জুন রাতে রওয়ানা দিয়ে সূর্যোদয়ের আগেই হারিয়ে যায় তিউনিসিয়ান সমুদ্র সীমায়। ৫ দিনের মাথায় ৯ জুন মাছ ধরা জেলেদের নজরে আসে উত্তাল সাগরে ভাসমান লাশের উপস্থিতি। ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালানো হয়ে হতভাগ্য অভিবাসীদের মরদেহ উদ্ধারে।

২০ জনের নৌকায় গাদাগাদি করে ৫৩ জন উঠিয়ে দেয়ায় কিংবা হঠাৎ বড় কোন ঢেউয়ের কবলে পড়াতেই এমনটা হয়ে থাকতে পারে বলে জেলেদের ধারণা। ১১ জুন বৃহষ্পতিবার সর্বশেষ খবর অনুযায়ী ৩৯ জনের অর্ধ গলিত মরদেহ উদ্ধার করে তিউনিসিয়ার স্ফাক্সে নিয়ে যাওয়া হয়েছে দাফনের জন্য। নিহতদের অর্ধেকই নারী ও শিশু। মূলত আইভোরি কোস্ট সহ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের অভিবাসীরাই এবার সাগরে ডুবেছেন।

উল্লেখ্য, গত বছর এই রুটেই নৌকাডুবির ঘটনায় ৩৭ জন বাংলাদেশি প্রাণ হারান যাদের স্বপ্ন ছিলো ইতালি গিয়ে সোনার হরিণ ধরবেন। সাগরে বড় বড় মাছের পেটে চলে যাওয়ায় নিহত সকল বাংলাদেশির লাশ উদ্ধার সম্ভব হয়নি তখন। চলতি সপ্তাহে লিবিয়া ও তিউনিসিয়া থেকে প্রাপ্ত তথ্য মোতাবেক কয়েক হাজার বাংলাদেশি এখনো উপকূলীয় বিভিন্ন পয়েন্টে প্রতীক্ষার প্রহর গুণছে ভূমধ্যসাগরে মরণ খেলায় জীবন বাজি রেখে গেইমে যেতে।

মাঈনুল ইসলাম নাসিম, ফ্রিল্যান্স সাংবাদিক।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *