শনিবার | ৪ঠা জুলাই, ২০২০ ইং |

‘মেসভাড়া নিয়ে বিপাকে শিক্ষার্থীরা’

হাসান তামিম, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, ঢাকা : মরণঘাতী মহামারী করোনা ভাইরাসের ভয়াল থাবায় দিশেহারা পুরো বিশ্ব। পুরো পৃথিবীই যেন স্থবির হয়ে পড়েছে। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে দেশে দেশে চলছে লকডাউন, কারফিউ কিংবা জরুরি অবস্থা। বন্ধ রয়েছে যানবাহন চলাচল, সেই সাথে বন্ধ সকল ধরণের আন্তর্জাতিক ফ্লাইট। পর্যটক শূণ্যতায় ফাঁকা পর্যটন নগরীগুলো। এসবের ব্যতয় ঘটেনি বাংলাদেশেও। যার ফলে করোনা ভাইরাসের সংক্রমন ঠেকাতে সরকারি নির্দেশে দীর্ঘ একমাসের উপর বন্ধ রয়েছে দেশের সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান৷ শিক্ষার্থীদের কোলাহল আর হৈচৈ মুখর ক্যাম্পাসে এখন শুধুই শূণ্যতা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধের সাথে সাথে বন্ধ হয়ে গেছে শিক্ষার্থীদের থাকার মেস এবং হোস্টেল গুলো৷ যার ফলে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের আশেপাশের মেস ও হোস্টেলে থাকা শিক্ষার্থীরা চলে গেছেন নিজের গ্রামের বাড়িতে। তবে মেস বা হোস্টেল বন্ধ থাকলেও ঠিকই ভাড়ার টাকা গুনতে হচ্ছে মেসে থাকা এসব শিক্ষার্থীদের৷ শহরের বাসা কিংবা মেসে অবস্থান না করলেও ভাড়ার জন্য বাড়িওয়ালাদের চাপে অনেকটাই দুশ্চিন্তায় দিন কাটাতে হচ্ছে টিউশনি কিংবা খন্ডকালীন চাকুরি করে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া রাজধানীর হাজার হাজার সাধারণ শিক্ষার্থীর। এমন অবস্থায় শিক্ষার্থীদের দাবি,মেস মালিকরা যেন তাদের ভাড়া মওকুফ অথবা শিথিল করেন।

রাজধানীর আজিমপুর, নিউমার্কেট, চাঁনখারপুল, ধানমন্ডি, ঝিগাতলা, শাহবাগ, ফার্মগেইট সহ আশেপাশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান সংলগ্ন মেস এবং হোস্টেল গুলোতে কয়েক লাখ শিক্ষার্থীর বসবাস।

বেশ ক’জন শিক্ষার্থীর সাথে কথা হলে শিক্ষার্থীরা মেস ভাড়া মওকুফের দাবি জানান৷ শিক্ষার্থীরা বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় বা কলেজে গুলোতে অধ্যায়নরত শিক্ষার্থীদের অধিকাংশই মধ্যবিত্ত ও কৃষক পরিবারের সন্তান৷ আর মেসে অবস্থান করা এসব পরিবারের অধিকাংশ সন্তানই টিউশন অথবা খন্ডকালীন চাকুরি করে নিজেদের খরচ নিজেরাই জোগাড় করে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে সবকিছু বন্ধ থাকায় মধ্যবিত্ত ও কৃষক পরিবারের মানুষেরা অনেকটা কষ্টে জীবনযাপন করছে। এমন অবস্থায় মানবিক দিক বিবেচনা করে এই সংকটময় সময়ে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়া মওকুফ অথবা অর্ধেক কমানো হলে এতেও অনেক শিক্ষার্থী উপকৃত হবে বলে জানান তারা৷

মেসে থাকা ঢাকা কলেজে পড়ুয়া শিক্ষার্থী সানজিদ রায়হান বলেন, আমি আজিমপুরে দুটো টিউশনির টাকায় আমার মেস ভাড়া এবং খাবার কোনরকমে চালিয়ে নিতাম। বাড়ি থেকে বাবা তেমন একটা টাকা দিতে পারেন না। কিন্তু এখন সবকিছু বন্ধ থাকায় চরম বিপাকে পড়েছি। একদিকে মেস থেকে টাকার জন্য চাপ দিচ্ছে অপরদিকে পরিস্থিতি কবে নাগাদ স্বাভাবিক হবে তার কোন নিশ্চয়তা নেই। এমন অবস্থায় মেস মালিকরা যদি আমাদের অবস্থার কথা মানবিকতার সাথে বিবেচনা করেন তবে আমাদের জন্য উপকার হয়।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী সায়মা নাহার বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা সহ সকল ধরণের কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য স্থগিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মধ্যে অনেকেই আছেন যারা টিউশন বা পড়াশোনার পাশাপাশি ছোটখাটো বিভিন্ন কাজ করে নিজের খরচ বহন করেন। কিন্ত পরিস্থিতির জন্য এখন সেই পথ বন্ধ। এমন অবস্থায় মানবিক বিবেচনায় মেস মালিকদের উচিত ভাড়া মওকুফ করা অথবা কিছুটা হলেও শিথিল করা।

বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী হাসিব রাফি বলেন, করোনার কারণে আমাদের মতো মধ্যবিত্ত শ্রেণির অভিভাবকরা প্রায়শই কর্মহীন। আবার এমন অবরুদ্ধ অবস্থায় টিউশনি করিয়ে মেসের ভাড়া ও পড়াশোনা বাবদ খরচ বহন করা শিক্ষার্থীদেরও আয়ের উৎস বন্ধ । সেজন্য আমরা চাই মেস মালিকরা এমন কোনো পদক্ষেপ নেবেন যাতে উভয়পক্ষের জন্য সুবিধা হয়।

এমন পরিস্থিতিতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের অসুবিধার কথা বিবেচনা করে মেস মালিকদের সহনশীল আচরণ করা উচিৎ বলে মনে করছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)-র সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন। তিনি বলেন, বর্তমান দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে রাজধানীর মেস বা হোস্টেলগুলোর ভাড়া মওকুফ করলে দরিদ্র-অসহায় শিক্ষার্থীরা অনেক উপকৃত হবেন। আর এক্ষেত্রে মেস মালিকদের কথা মাথায় রেখে পুরো ভাড়া মওকুফ করা সম্ভব না হলেও অর্ধেক ভাড়া কমানো উচিত। এতে মেস মালিক ও মেসের বর্ডার উভয় পক্ষই উপকৃত হবেন।

সমাজের বিশিষ্টজনরাও মনে করছেন এমন পরিস্থিতিতে মেসে বা হোস্টেলে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া অস্বচ্ছল শিক্ষার্থীদের পাশে মেস মালিকদের সহায়তার হাত বাড়ানো প্রয়োজন। এক্ষেত্রে সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা অত্যন্ত জরুরি বলেও মনে করছেন তাঁরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-র সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার বলেন, করোনার কারণে মেসে বা হোস্টেলে থাকা অনেক শিক্ষার্থীরাই সমস্যায় পড়েছে। এক্ষেত্রে সকল মেস মালিকদের উচিৎ মানবিক বিবেচনায় ভাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করা।

বর্তমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের মেস ভাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়ে ঢাকা কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক নেহাল আহমেদ বলেন, বর্তমান সঙ্কটপূর্ণ মুহূর্তে আমাদের সবারই উচিত সবার পাশে দাঁড়ানো। আর শিক্ষার্থীরা অনেকেই যেহেতু টিউশন এবং খন্ডকালীন চাকুরি করে নিজের পড়াশোনা ব্যয় নির্বাহ করতো সেক্ষেত্রে এমন অবস্থায় মেস এবং বাড়ির মালিকদের উচিত হবে তাদের বিষয়টি বিবেচনা করা।

সময় বাচাঁতে ঘরে বসে কেনা-কাটা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *