রাজশাহী-৬ আসনে ছয় নতুন মুখ বিএনপিতে

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,শুক্রবার,২৪ নভেম্বর ২০১৭: পদ্মা পড়ের দুটি উপজেলা বাঘা ও চারঘাট নিয়ে রাজশাহী-৬ আসন। ১৯৯১ সাল থেকে ২০০৮ সাল পর্যন্ত চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ আসনে তিনবার বিএনপির মনোনিত প্রার্থী নির্বাচিত হয়েছেন। এবার এ আসনে দলটির মনোনয়ন চান স্থানীয় ছয়জন নেতা। তারা সবাই নতুন মুখ। এর আগে তাদের অনেকেই একাধিকবার দলের মনোনয়ন চেয়ে বঞ্চিত হয়েছেন। যাদের অনেকেই ইতোমধ্যেই নির্বাচনের প্রস্ততি নিয়ে মাঠে থেকে দল সংগঠিত করার চেষ্টা করছেন। নিজের পক্ষে সমর্থন আদায়ে তৃণমূলের নেতাকর্মী ছাড়াও কেন্দ্রে যোগাযোগ রক্ষা করে চলেছেন তারা।

১৯৯১ সাল থেকে ২০০১ সাল পর্যন্ত তিনটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনিত প্রার্থী সাংসদ নির্বাচিত হন। ১৯৯১ সালে সাংসদ নির্বাচিত হন জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আজিজুর রহমান। ১৯৯৬ সালে বিএনপির মনোনয়ন পেয়ে সাংসদ হন আওয়ামী লীগ নেতা আলাউদ্দিন। সাংসদ নির্বাচিত হওয়ার পর তিনি ফের আওয়ামী লীগের ফিরে গিয়ে মন্ত্রী হন। এর পর ২০০১ সালে এ আসনে মনোনয়ন পেয়ে এমপি হন সাবেক মন্ত্রী কবীর হোসেন। তবে দুইবার মনোনয়ন বঞ্চিত হলেও ২০০৮ সালে ফের দলের মনোনয়ন পেলেও আওয়ামী লীগ প্রার্থীর কাছে পরাজিত হন আজিজুর রহমান।

এ আসনে এবার মনোনয়ন চাইবেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য, জেলার সহ-সভাপতি ও চারঘাট উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাইদ চাঁদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য দেবাশীষ রায় মধু, ৮০ দশকের ছাত্র নেতা ও জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন, জেলার সহ-সভাপতি বজলুর রহমান, বাঘা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান খান মানিক ও জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জল।

এদের মধ্যে আবু সাইদ চাঁদ এক সময় জাসদ ও পরে জাতীয় পার্টির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ১৯৯১ সালে তিনি বিএনপিতে যোগদান করেন। কখনো বিতর্কিত আবার কখনো জনপ্রিয় নেতা হিসেবে বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটিসহ জেলার সহসভাপতি ও চারঘাট বিএনপির সভাপতির পদে স্থান করে নেন আবু সাঈদ।

আর দলে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান না করলেও ভগ্নিপতি রাসিক মেয়র ও নগরের সভাপতি মোসাদ্দেক হোসেন বুলবুলের ছত্রছায়ায় জেলা বিএনপির সহ-ভাপতির পদ পান আওয়ামী লীগ নেতা বজলুর রহমান। অপর মনোনয়ন প্রত্যাশী জেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আনোয়ার হোসেন উজ্জল রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয়ের শিক্ষক হত্যা মামলার আসামী।

অপরদিকে ৮০ দশকের ছাত্র নেতা হিসেবে পরিচিত দেবাশীষ রায় মধু রাজশাহী কলেজ, গোলাম মোস্তফা মামুন সিটি কলেজ ও নুরুজ্জামান খান মানিক রাজশাহী বিশ^বিদ্যালয় ছাত্রদলের গুরুত্বপুর্ন পদে দায়িত্ব পালন করেছেন।

জেলা বিএনপির সংগঠনিক সম্পাদক গোলাম মোস্তফা মামুন বলেন, বাঘায় আমার বাড়ি, আমার জন্মস্থান। আমি বিএনপির রাজনীতি করে আসছি দীর্ঘদিন ধরে। কখনো দলের কাছে কিছু চাইনি। সবসময়ে জনগণের পাশে থেকে কাজ করে যাচ্ছি। এখনো কাজ করে যাচ্ছি। দল চাইলে আগামী নির্বাচনে বাঘা-চারঘাট থেকে এমপি নির্বাচনে অংশ নিতে আগ্রহী। এর জন্য ওই এলাকার সাধারণ মানুষের সঙ্গে আমি দীর্ঘদিন ধরেই কাজ করে যাচ্ছি। তৃণমূলের নেতাকর্মীদের সঙ্গেও রয়েছে আমার বেশ যোগাযোগ।

বাঘা উপজেলা বিএনপির সভাপতি নুরুজ্জামান খান মানিক বলেন, দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে আমার গভীর সম্পর্ক। ছাত্র অবস্থায় থেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। আমি দেশের জন্য, সমাজের জন্য রাজনীতি করি। দলের নেতাকর্মীরাও আমাকে কাছে টেনে নেন খুব সহজেই। এ কারণে তাকে মনোনয়ন দিলে নির্বাচনে ভাল করবেন বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা।

জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি আবু সাইদ চাঁদ বলেন, আমি মাটি ও মানুষের হয়ে রাজনীতি করি। নিজের জন্য রাজনীতি করি না। তাই মানুষ যদি চায় এবং দল যদি ইচ্ছে করে তাহলে আগামী নির্বাচনে আমি প্রার্থী হব। এই আসনে নির্বাচিত হতে এবং বিএনপির আসন পুনরাদ্ধর করতে চাইলে দল যদি আমাকে মনোনয়ন দেয়, তাহলে আমি তার প্রতিদান দিব পারবো বলে বিশ্বাস রাখি বলেন চাঁদ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *