| ২৩শে জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ৯ই মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২৮শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী | বৃহস্পতিবার হুইল চেয়ারে বসে পদক নিলেন কনস্টেবল শাওরিত – Bartaman Kanho

Bartaman Kanho

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম

হুইল চেয়ারে বসে পদক নিলেন কনস্টেবল শাওরিত

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,সোমবার,০৮ জানুয়ারী, ২০১৮: প্যারেড করে অভিবাদন জানিয়ে রাজারবাগে প্রধানমন্ত্রীর মঞ্চের সামনে এসে দাঁড়ায় বিপিএম ও পিপিএম পদকপ্রাপ্তরা। উচ্চ থেকে নিম্ন পদস্থ কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সারিবদ্ধ হয়ে প্রধামন্ত্রীর সামনে দাঁড়িয়ে যান। কিন্তু নেই শুধু বিপিএম পদকে ভূষিত কনস্টেবল শাওরিত হাসান। পাশেই অন্য কর্তব্যরত পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় মঞ্চের দিকে যান শাওরিত। হুইল চেয়ারে বসেই প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে সাহসিকতার পদক গ্রহণ করেন চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডের ছায়ানীড় জঙ্গি আস্তানায় গুরুতর আহত কনস্টেবল শাওরিত হাসান।

পদক গ্রহণের পর প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে আবেগতাড়িত হয়ে পড়েন শাওরিত হাসান। বলেন, ‘মাত্রই ২০১৬ সালে পুলিশে যোগদান করেছি। পুলিশের জঙ্গি বিরোধী বিশেষায়িত ইউনিট সোয়াটে কাজ করছিলাম। কিন্তু কে জানতো স্প্রিন্টার ও জঙ্গিদের বিস্ফোরণে জীবনটা এলোমেলো হয়ে যাবে! কিন্তু ভালো লাগছে প্রধানমন্ত্রী আমার ত্যাগের স্বীকৃতি দিলেন। রাষ্ট্র আমাকে সহযোগিতা করছে।

২০১৭ সালে অসীম সাহসিকতা ও বীরত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতি হিসেবে পুলিশ বাহিনীর ১৮২ জন সদস্যকে বাংলাদেশ পুলিশ পদক- বিপিএম, বিপিএম-সেবা, রাষ্ট্রপতির পুলিশ পদক- পিপিএম ও পিপিএম-সেবা প্রদান করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

সোমবার সকালে রাজধানীর রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সের প্যারেড গ্রাউন্ডে পুলিশ সপ্তাহ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী তাদের মেডেল পরিয়ে দেন। পদক গ্রহণ শেষে হুইল চেয়ারে বসেই অন্যের সহযোগিতায় এগিয়ে যান নাস্তার টেবিলে।

গত বছরের ১৬ মার্চ চট্টগ্রামের সীতাকুন্ডে ছায়ানীড় জঙ্গি আস্তানায় জঙ্গিবিরোধী অভিযানে অংশ নেয়। সোয়াটের সমন্বয়ে অভিযান চলাকালে জঙ্গিরা ভেতর থেকে এলোপাথাড়ি বোমা ও গ্রেনেড বিস্ফোরণ ঘটায়। শাওরিতসহ সোয়াট টিমের সদস্যরা ওই ভবনের ছাদে প্রবেশ করলে জঙ্গিরা ফের গ্রেনেড ও বোমার বিস্ফোরণ ঘটায়। ৫/৬ ঘণ্টা পাল্টাপাল্টি গুলিবিনিময়ও ঘটে। জঙ্গিদের বিস্ফোরিত বোমার আঘাতে সোয়াট টিমের সদস্য শাওরিত হাসানসহ ও ৪ জন গুরুতর আহত হন।

সেদিনের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে শাওরিত হাসান বলেন, বোমার বিস্ফোরণের প্রচণ্ড ধাক্কায় আমার ব্যবহৃত ঢাল দুমড়েমুচড়ে যায়। বাম পা ভেঙে যায়। গুরুতর আহত অবস্থাতেও আমি দমে যাইনি। প্রাণপণ লড়ে গেছি।

তিনি বলেন, আমি আবার সুস্থ হয়ে নিজ কর্মে ফিরতে চাই। যারা এ দেশকে জঙ্গিবাদী রাষ্ট্রে পরিণত করতে চায় তাদের বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে চাই।

নিজের শরীরের অবস্থা সম্পর্কে বলেন, এখনো আমি হাঁটতে পারি না। বা পায়ে এখনো অপারেশনের রড রয়ে গেছে। সুস্থ হতে আরও বছরখানেক সময় লাগবে।

শাওরিত বলেন, পুলিশ প্রধান ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ আমাকে পদকে ভূষিত করায়। আমার আবেদন, আমার সুস্থতার জন্য সময় ও সুচিকিৎসা যেন অব্যাহত রাখা হয়।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *