যে কারণে ভারত সফরে নেতানিয়াহু

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,রোববার, ১৪ জানুয়ারী ২০১৮: ১৯৯২ সালে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপনের পর দ্বিতীয় কোনো ইসরায়েলি প্রধামনন্ত্রী হিসেবে রবিবার ছয় দিনের ভারত সফরে এসেছেন বেনইয়ামিন নেতানিয়াহু। প্রটোকল ভেঙে দিল্লি বিমান বন্দরে তাকে স্বাগত জানাতে গিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। দক্ষিণ এশিয়ার কোনো দেশে নেতানিয়াহুর এটাই প্রথম সফর।

এ নিয়ে এক টুইটার বার্তায় ভারতীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রবীশ কুমার জানান, দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ২৫ বছর (রূপালী জয়ন্তী) উপলক্ষে এই সফর।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, প্রতিরক্ষা, নিরাপত্তা, বাণিজ্য ও কৃষি খাতে সহযোগিতার বিষয় গুরুত্ব পাবে নেতানিয়াহু-মোদি বৈঠকে। দক্ষিণ এশিয়ার বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তি ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক আরো বাড়াতে চাইছে ইসরায়েল। বর্তমানে ইসরায়েলি অস্ত্রের সবচেয়ে বড় ক্রেতা ভারত।

ছয় মাস আগে, অর্থাৎ গত বছরের জুলাইয়ে প্রথম ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইসরায়েল সফর করেছেন মোদি। তখন নেতানিয়াহুকে ‘আমার বন্ধু’ বলে আখ্যা দেন তিনি। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী থাকার সময় থেকেই ইসরায়েলের সঙ্গে নিয়মিত সম্পর্ক রেখে চলছেন ভারতের এই প্রধানমন্ত্রী।

নেতানিয়াহুর ভারত সফর উপলক্ষে দিল্লির তিনমূর্তি চকের নাম পরিবর্তন করে ‘তিনমূর্তি হাইফা চক’ রেখেছে ভারত সরকার। বন্ধুত্বের নিদর্শন হিসেবে ইসরায়েলের হাইফা নগরীর নামেই এই নাম দেয়া হয়েছে। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ইসরায়েলের হাইফা নগরী রক্ষায় ৪৪ ভারতীয় সেনা জীবন দিয়েছিল।

ভারতীয় গণমাধ্যম ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহুর ভারত সফরে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব পাবে প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়। ভারতের সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে গণমাধ্যমটি লিখেছে, ‘ইসরায়েলের কাছ থেকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি কিনে ভারত। দুই দেশের সশস্ত্র বাহিনীর মধ্যেও নিয়মিত যোগাযোগ আছে।’

ভারতের জিন্দাল স্কুল অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যাফেয়ার্সের ডিন শ্রীরাম চৌলিয়া বলেন, ‘ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর সফর ভারতের সঙ্গে দেশটির কৌশলগত অংশীদারত্বে আরো উন্নয়ন নির্দেশ করে, যা তিনটি ভিত্তির ওপর দাঁড়িয়ে আছে- প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা, বাণিজ্য ও বিনিয়োগ ইস্যু।

এই বিশ্লেষক আরো বলেন, ‘জেরুজালেম ইস্যুতে জাতিসংঘে যদিও ভারত ট্রাম্পের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে ভোট দিয়েছে, তবে ইসরায়েল ভারতের প্রকৃত অবস্থান জানে। এজন্য সহযোগিতার ক্ষেত্রে তারা ভারতকে কোনো শর্ত দেয়নি। ভারতের কাছে অস্ত্র বিক্রি ও কূটনৈতিক সম্পর্কে লাভবান হচ্ছে ইসরায়েল।’

২০০৩ সালে ভারত সফর করেছিলেন ইসরায়েলের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অ্যারিয়েল শ্যারন। সে সময়ও ভারতে ক্ষমতায় ছিল জাতীয়তাবাদী দল বিজেপি। ১৯৯২ সালে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হলেও ফিলিস্তিনিদের সমর্থন দিয়ে এসেছে ভারত।

ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলের অবৈধ বসতি স্থাপনের বিরুদ্ধে সব সময়ই নিন্দা জানিয়ে এসেছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়। জেরুজালেমকে ট্রাম্প ইসরায়েলের রাজধানী স্বীকৃতি দেয়ার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে ভারত সফরে এলেন নেতানিয়াহু। তিনি জেরুজালেম ইস্যুতে ভারতের সমর্থন পাওয়ার চেষ্টাও করতে পারেন বলে অনেক বিশ্লেষকের ধারণা।

ভারতীয় গণমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, মোদির রাজ্য গুজরাট সফরের সম্ভাবনা রয়েছে নেতানিয়াহুর। সেখানে একটি রোড-শোতে অংশ নিতে পারেন তিনি। ভারত ছাড়ার আগে সর্বশেষ দেশটির অর্থনৈতিক রাজধানী মুম্বাই যাবেনইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী। সেখানে সাক্ষাৎ করবেন বলিউডের খ্যাতনামা তারকাদের সঙ্গে। ইসরায়েলি সিনেমায় অভিনয়ের জন্য আমন্ত্রণ জানাবেন তাদের। চলচ্চিত্র নির্মাণে দুই দেশের মধ্যে একটি চুক্তি হবে বলেও ধারণা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *