নরসিংদীতে ৬৯’র মহা নায়ক শহীদ আসাদ দিবস পালিত

খন্দকার শাহিন,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,শনিবার,২০ জানুয়ারী ২০১৮: ঐতিহাসিক ১১ দফা আন্দোলনের প্রথম শহীদ আসাদুজ্জামানের ৪৯তম মৃত্যুবার্ষিকী ২০ জানুয়ারি। এ উপলক্ষে নরসিংদীতে বিভিন্ন রাজনৈতিক, সামাজিক এবং সাংস্কৃতিক সংগঠন শহীদ আজাদ দিবস পালন করেছে। এদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হিসেবে দিবসটি উপলক্ষে সকালে আসাদের গ্রামের বাড়ি জেলার শিবপুরে ধানুয়ায় শহীদ সমাধিতে ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান স্থানীয় সংসদ সদস্য সিরাজুল ইসলাম,জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক তোফাজ্জল হোসেন মাস্টারসহ বিভিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সামাজিক-সাংস্কৃতিক।

’৬৯-এর এই দিনে তত্কালীন স্বৈরাচারী আইয়ুব সরকারের বিরুদ্ধে ঢাকা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের হরতাল চলাকালে পাকিস্তান পুলিশ এবং ইপিআর বাহিনীর বুলেটের আঘাতে নিহত হন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আসাদুজ্জামান আসাদ। তার মৃত্যুতে ’৬৯-এর গণআন্দোলন চূড়ান্ত রূপ নেয়। সারা বাংলায় ছড়িয়ে পড়ে একটি জনপ্রিয় সেøাগান ‘আসাদের মন্ত্র, জনগণতন্ত্র’। পাকিস্তানি দখলদারিত্ব থেকে জাতিকে মুক্ত করা এবং শোষণমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠা ছিল আসাদের স্বপ্ন।

গণঅভ্যুত্থানের মহান জাগরণ এ অঞ্চলের জনগোষ্ঠীকে স্বাধীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার জন্য এক উর্বর ক্ষেত্র তৈরি করে এবং ’৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে বাংলাদেশ একটি স্বাধীন সার্বভৌম দেশ হিসেবে প্রতিষ্ঠা লাভ করে। রক্তে আঁকা যে নতুন ইতিহাস আমরা রচনা করেছি সেই ইতিহাসের সোপান শ্রেণী অতিক্রম করে এক অসমাপ্ত সংগ্রামকে সাফল্যের দুয়ারে পৌঁছে দেয়ার ইস্পাতদৃঢ় আহ্বান নিয়ে প্রতিবছর এই দিনটি আমাদের মাঝে ফিরে আসে। এদিনে শহীদ আসাদের চেতনার সঙ্গে মিলেমিশে একাকার হয়ে যায় শোষিত, বঞ্চিত, নিপীড়িত মানবসত্তা। অধিকার বঞ্চিত মানুষ নতুন করে গণতান্ত্রিক সংগ্রামের অগ্নিমন্ত্রে উজ্জীবিত হয়ে ওঠে। আসাদের মন্ত্র আমাদের নতুন করে বাঁচার শপথে বলীয়ান করে তোলে। তাই শোষণ বঞ্চনা আর দুঃশাসনের শৃঙ্খল হতে দেশকে মুক্ত করার এক লৌহকঠিন শপথ গ্রহণের দিন ২০ জানুয়ারি।

গণতন্ত্র মুক্ত করতে অকুতোভয় এ বীরসেনানী রাজপথে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছিলেন। তার শোণিতের ধারা বেয়ে স্বৈরশাসনের পতন ত্বরান্বিত হয়েছিল। অর্জিত হয়েছিল এদেশের মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতন্ত্রের জন্য শহীদ আসাদের আত্মদান পরে বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে আমাদের অনুপ্রাণিত করে। একটি স্বাধীন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের জন্য আমৃত্যু সংগ্রাম করে গেছেন শহীদ আসাদুজ্জামান। গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিয়ে আমরা যদি এদেশের মানুষের মৌলিক ও মানবিক অধিকার সুপ্রতিষ্ঠিত করতে পারা যায় তাহলেই তার প্রতি যথাযথ সম্মান দেখানো হবে জানান সচেতন মহল।

শহীদ আসাদ ১৯৪২ সালের ১০ জুন জন্মগ্রহণ করেন। তার গ্রামের বাড়ি নরসিংদীর শিবপুর থানার ধানুয়া গ্রামে। বাবার নাম আলহাজ মোহাম্মদ আবু তাহের। তিনি ১৯৬০ সালে মেট্রিক এবং ১৯৬৩ সালে ইন্টারমিডিয়েট পাস করে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে থেকে ইতিহাসে সম্মানসহ এমএ পাস করেন। পরে সিটি ল’ কলেজে এলএলবিতে ভর্তি হন এবং ল’র ছাত্রাবস্থায় তিনি শহীদ হন। এদিকে ঐতিহাসিক এ দিবসটিকে ঘিরে বিভিন্ন সামাজিক, রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি গ্রহণ করেছে।

bknews2010

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *