নৌকা প্রতীকে ভোট দিন সমৃদ্ধি দেব: প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিবেদক-
বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,শুক্রবার,৩০ মার্চ ২০১৮:
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা প্রায় দেড় যুগ পর ঠাকুরগাঁও এসে আওয়ামী লীগের নির্বাচনী প্রতীক নৌকায় ভোট দেওয়ার ওয়াদা নিলেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, আগামী নির্বাচনে নৌকায় ভোট দিলে তিনি সোনার বাংলা উপহার দেবেন।
ঠাকুরগাঁওবাসীর উদ্দেশে শেখ হাসিনা বলেন, আমি আপনাদের কাছে ওয়াদা চাই। গত নির্বাচনে তিনটি আসনেই আপনারা নৌকা মার্কায় ভোট দিয়েছিলেন। ২০১৮ এর ডিসেম্বরে নির্বাচন হবে। সেই নির্বাচনে আমি আপনাদের কাছে নৌকা মার্কায় ভোট চাই। আপনারা ওয়াদা করেন, হাত তুলে ওয়াদা করেন নৌকা মার্কায় ভোট দেবেন।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে নৌকা মার্কায় ভোট চাইলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, নৌকা উন্নয়নের প্রতীক। খালেদা জিয়ার জেলে যাওয়া প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা বলেন, পবিত্র কুরআনে আছে, যে এতিমের টাকা মেরে খায়, তাকে শাস্তি পেতে হবে। যে এতিমের টাকা মেরে খায়, তার জন্য কিসের আন্দোলন।
এ জনসভার শুরুতেই ৩৩টি উন্নয়ন প্রকল্পের উদ্বোধন ও ৩৩টি প্রকল্পের ভিত্তিফলক উন্মোচন করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৮ ও ২০১৪ সালে পরপর দুবার ক্ষমতায় এসেছে বলেই প্রতিটি গ্রামে গ্রামে উন্নয়নের ছোঁয়া লেগেছে। এই উন্নয়নের ধারাবাহিকতা বজায় রাখার জন্য আগামী নির্বাচনেও নৌকায় ভোট দিতে হবে। আমরা দেশের উন্নয়ন চাই। বিএনপি আসা মানেই দেশ ধ্বংস হওয়া, আগুনে পুড়িয়ে মানুষ মারা, দুর্নীতি করা, লুটপাট করা, সন্ত্রাস করা, জঙ্গিবাদ সৃষ্টি করা। আওয়ামী লীগ আসা মানে উন্নয়ন, শান্তি, দেশের উন্নতি, ছেলেমেয়েদের লেখাপড়া, কর্মসংস্থান, মানুষের উন্নত জীবন। বাংলাদেশের গ্রামাঞ্চল থেকে সবখানে প্রত্যেকটা মানুষ সুখে-শান্তিতে বসবাস করবে এটাই আমাদের লক্ষ্য।

বিগত বিএনপি সরকারের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, বিএনপির আমলে পাঁচ-পাঁচবার দেশ দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন। কেন হলো? কারণ স্পষ্ট। খালেদা জিয়া আর তার ছেলেরা অর্থসম্পদ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে।
এ কথা আমি বলছি তা না, আমেরিকার গোয়েন্দা সংস্থা এটা বের করেছে এবং তাদের কোর্টের রায়ে বেরিয়েছে, সিঙ্গাপুরে ধরা পড়েছে তার ছেলেদের লুটপাটের টাকা। সেই টাকা আমরা দেশে ফিরিয়ে এনেছি; জনগণের টাকা জনগণের কাজে ব্যয় করেছি।
বিএনপির বর্তমান মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম ধরেই সমালোচনা করেন আওয়ামী লীগ সভনেত্রী শেখ হাসিনা।
তিনি বলেন, ওই যে ফখরুল ইসলাম, দিনরাত কথা বলতে বলতে, গলা ফুলায়ে কথা বলতে বলতে গলাই খারাপ হয়ে যায়। বারবার গলার চিকিৎসাও করতে হয়। মিথ্যা কথা বলার একটা সীমা আছে। সারা দিন মিথ্যা কথা বললে- এত মিথ্যা কথা বললে তো আল্লাহও নারাজ হন।

প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা যেখানে হয়েছে, সেই সদর (ঠাকুরগাঁও-১) আসন থেকেই ২০০১ সালের নির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের কৃষি ও বিমান প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব পেয়েছিলেন মির্জা ফখরুল।
সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে শেখ হাসিনা বলেন, বিমানমন্ত্রী যে ছিল, বিমানের কী উন্নয়নটা করেছেন বলেন? বিমানের প্লেন ঝরঝর, চলে না। টাকা-পয়সা সব লুটপাট। রাডার স্টেশন নষ্ট। সবকিছু ধ্বংস করে রেখে গেছেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ ২০০৯ সালে ক্ষমতায় আসার পর এ পর্যন্ত আটটি উড়োজাহাজ কেনা হয়েছে এবং আরও দুটো আসছে। সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট- এটা বন্ধ করে দিয়েছিল বিএনপির আমলে। বিমানমন্ত্রী আপনাদের এখানকার, আর সৈয়দপুর এয়ারপোর্টটা বন্ধ করে দেয়। বিএনপি যখন ক্ষমতায়- ওই এয়ারপোর্ট বন্ধ। আমরা সরকারে এসেছি, সেই এয়ারপোর্ট আজ চালু করে দিয়েছি, যেখান থেকে আজ সব মানুষ যাতায়াত করতে পারছে।

সে সময় রাজশাহী ও বরিশাল বিমানবন্দরও যে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল, সে কথা মনে করিয়ে দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তো আপনারা বুঝতেই পারেন এদের কাজটা কী- এরা ধ্বংস করতে পারে, সৃষ্টি করতে পারে না। এরা মানুষেরটা লুটপাট করে খেতে জানে, মানুষকে দিতে জানে না।
প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে বৃহস্পতিবার পুরো শহর ব্যানার, ফেস্টুন আর তোরণে সাজানো হয়। শহরের পুরাতন বাসস্ট্যান্ড গোলচত্বর সাজানো হয় মনোরম সাজে।
এর আগে ২০০১ সালের ১৮ সেপ্টেম্বর সর্বশেষ আওয়ামী লীগের নির্বাচনী জনসভায় যোগ দিতে ঠাকুরগাঁওয়ে এসেছিলেন শেখ হাসিনা।
উচ্ছ্বাসে মাতলেন ঠাকুরগাঁওবাসী আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঠাকুরগাঁওয়ে আগমন উপলক্ষে বিরাজ করে উৎসবের আমেজ। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে জেলা আওয়ামী লীগের জনসভায় ভাষণ দেন তিনি।

১৭ বছর পর প্রধানমন্ত্রীর আগমনে উজ্জীবিত ঠাকুরগাঁওবাসী। প্রধানমন্ত্রীকে একনজর দেখতে হাজার হাজার মানুষ জনসভাস্থলে এসে অপেক্ষা করেন অধীর আগ্রহে। গণমানুষের স্বতঃস্ফূর্ত উপস্থিতিতে ঠাকুরগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ পূর্ণ হয়ে ওঠে কানায় কানায়। মাঠ ছাপিয়ে বাইরে বঙ্গবন্ধু সড়ক, চৌরাস্তাসহ শহরের সড়ক লোকে লোকারণ্য হয়ে ওঠে। এ জনস্রোত দীর্ঘদিন দেখা যায়নি ঠাকুরগাঁওয়ে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, মির্জা ফখরুল বিমানমন্ত্রী ছিলেন। তিনি বিমানের কী উন্নয়ন করেছেন? বিমান চলে না। সবকিছু ধ্বংস করে গেছেন তিনি। সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট বন্ধ করে দিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বিমানের উন্নতি করেছি। পাঁচটি বিমান ক্রয় করেছি। আরও দুটো বিমান আনা হচ্ছে। সৈয়দপুর এয়ারপোর্ট চালু করেছি।
বিএনপি লুটপাট ও দুর্নীতিতে ব্যস্ত
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার ছেলেরা ব্যাংক থেকে ৯৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। জনসভায় নৌকা মার্কায় ভোট চেয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘নৌকায় ভোট দেন, সোনার বাংলা উপহার দেব।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে ঠাকুরগাঁও জেলা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে আওয়ামী লীগ আয়োজিত জনসভায় এসব কথা বলেন তিনি।
শেখ হাসিনা বলেন, ‘বিএনপি তো লুটপাটেই ব্যস্ত, দুর্নীতিতেই ব্যস্ত। ৯৮০ কোটি ২০ লাখ টাকা তার ছেলেরা ব্যাংক থেকে লুট করে নিয়ে গেছে। একটা টাকাও ফেরত দেয়নি।’

Be the first to comment on "নৌকা প্রতীকে ভোট দিন সমৃদ্ধি দেব: প্রধানমন্ত্রী"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*