ডেঙ্গু-চিকুনগুনিয়া ঝুঁকিতে রাজধানীর ১৮ এলাকা

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,বৃহস্পতিবার, ৫ এপ্রিল ২০১৮: ‘ডেঙ্গু’ শব্দটির সঙ্গে আরও আগে থেকে পরিচয় থাকলেও গত বছরই প্রথম ‘চিকনগুনিয়া’ শব্দের সঙ্গে দেশবাসীর পরিচয় হয়। এবং এই চিকুনগুনিয়ার ভাইরাস একটা পর্যায়ে রাজধানী ঢাকাসহ গোটা দেশে ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।

২০০৮ সালের দিকে বাংলাদেশের রাজশাহী এবং চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলায় প্রথম এ রোগের ভাইরাসটি ধরা পরে। পরবর্তীতে ২০১১ সালে ঢাকার দোহারে এটি লক্ষ্য করা গেলেও এরপর তেমনভাবে এ ভাইরাসের কথা শোনা যায়নি তবে ২০১৭ সালের প্রথমদিকে সারা দেশে ভাইরাসটি উল্লেখযোগ্য হারে লক্ষ্য করা যায়।

গত বছরের ন্যায় এ বছরও রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের ১৮টি এলাকা ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিতে আছে বলে স্বাস্থ্য অধিদফতরের এক জরিপে উঠে এসেছে। এরই মধ্যে সম্প্রতি কয়েক দফা বৃষ্টির কারণে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকি বেড়েছে।

তবে সিটি করপোরেশন খুব একটা আমলে নিচ্ছেনা বলে অভিযোগ নগরবাসীর। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর একসাথে কাজ করার তাগিদ বিশেষজ্ঞদের। যদিও কর্তৃপক্ষ শুনাচ্ছে বরাবরের মতই আশার বাণী।

স্থাস্থ্য অধিদফতরের জরিপে দেখা গেছে, রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনে প্রায় ১৮টি স্থান ঝুঁকিতে রয়েছে ডেঙ্গু ও চিকুনগুনিয়ার বাহক এডিস মশার। এ এলাকার বিশ শতাংশেরও বেশি বাড়িতে রয়েছে এডিস মশার প্রজননক্ষেত্র।

এর মধ্যে উত্তর সিটি করপোরেশনের বনানী, বসুন্ধরা, গাবতলী, মগবাজার, মালিবাগ, মিরপুর ১, মহাখালী ডিওএইচএস, নাখালপাড়া, শেওড়াপাড়া, টোলারবাগ আর উত্তরার পাশাপাশি দক্ষিণে বাংলাবাজার, ধানমন্ডি ১, এলিফেন্ট রোড গুলবাগ, মেরাদিয়া,মিন্টু রোড এবং শান্তিনগর বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।

এমতাবস্থায় নগরবাসীর দাবি, দ্রুত সময়ের মধ্যে মশক নিয়ন্ত্রণের স্বাভাবিক কার্যক্রম শুরু করা হোক। সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে সর্বোচ্চ সতর্কতামূলক প্রস্তুতি গ্রহণেরও দাবি রাজধানীবাসীর।

গত বছরের জুনে রাজধানীর ২১ এলাকাকে চিকুনগুনিয়ার ঝুঁকিযুক্ত হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছিল। এলাকাসমূহ ছিল- উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টর, মধ্যবাড্ডা, গুলশান-১, লালমাটিয়া, পল্লবী, মগবাজার, মালিবাগ চৌধুরী পাড়া, রামপুরা, তেজগাঁও, বনানী, নয়াটোলা, কুড়িল, পীরেরবাগ, রায়ের বাজার, শ্যামলী, উত্তরা ৪ নম্বর সেক্টর, মণিপুরিপাড়া, মোহাম্মদপুর, মহাখালী, মিরপুর-১ ও কড়াইল বস্তি।

চিকুনগুনিয়ার লক্ষণসমূহ: শুধুমাত্র নারী এডিস মশার কামড়েই এই সংক্রমণ হয়ে থাকে। সাধারণত কামড়ের ৩-৭ দিনের মধ্যে লক্ষণসমূহ ফুটে উঠে। অনেকে চিকুনগুনিয়া জ্বরকে ডেঙ্গুজ্বর বলে মনে করতে পারেন। কারণ এদের মধ্যে অনেক মিল রয়েছে। তবে এদের মধ্যে মূল পার্থক্য হল এই জ্বরে হাড়ের জোড়াগুলো ফুলে যায়। অন্যদিকে ডেঙ্গুজ্বরে সেটা হয় না।

এছাড়াও কাঁপুনি বা ঘাম ছাড়াই প্রচণ্ড জ্বর (১০২-১০৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট) এবং ব্যাথা থাকবে। গিরায় তীব্র যন্ত্রণা হবে। মাথা এবং পেশিতেও থাকবে প্রচণ্ড যন্ত্রণা। চোখে জ্বালাপোড়া এবং বমি বমি ভাব। অস্থিসন্ধিতে তীব্র ব্যাথার কারণে স্বাভাবিক চলাচলে ব্যাঘাত হতে পারে।

চিকুনগুনিয়ার চিকিৎসা:
রোগের লক্ষণসমূহ দেখা গেলে অতিদ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। কোনওভাবেই রোগীকে অ্যাসপিরিন বা অ্যান্টিবায়োটিক জাতীয় ওষুধ খাওয়ানো যাবে না। সম্পূর্ণ বিশ্রামে থাকতে হবে। ডিহাইড্রেশন এড়াতে প্রচুর পানি এবং তরল জাতীয় পদার্থ গ্রহণ করতে হবে। পানি দিয়ে সারা শরীর ভালভাবে মুছে দিতে হবে। জ্বর ও গায়ে ব্যাথার জন্য প্যারাসিটামল জাতীয় ওষুধ গ্রহণ করতে হবে।

চিকুনগুনিয়ার প্রতিরোধ: এখনও পর্যন্ত চিকুনগুনিয়ার কোনও প্রতিষেধক আবিষ্কৃত হয়নি। এমনকি কোনও ভ্যাকসিন বা টিকাও বের হয়নি। কিন্তু নিম্নোক্ত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করলে চিকুনগুনিয়া প্রতিরোধ করা সম্ভব।

১.দরজা জানালায় নেট ব্যবহার করুন এবং মশারি ব্যবহার করুন।
২.মশা প্রতিরোধক লোশন বা স্প্রে ব্যবহার করুন।
৩.হালকা রঙের ফুলহাতা জামা এবং ট্রাউজার ব্যবহার করতে পারেন।
৪.মশা বংশ বিস্তার করে এমন আবদ্ধ পানিযুক্ত জায়গা যেমন- ফুলের টব, পুরাতন কন্টেইনার ইত্যাদি পরিষ্কার রাখুন।
৫.বিশেষ করে ভোরবেলা এবং সন্ধ্যাবেলায় বেশি সতর্ক থাকুন। কারণ এই সময়ে চিকুনগুনিয়া দ্বারা আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সবচেয়ে বেশি।

উল্লেখ্য, তানজানিয়ায় ১৯৫২ সালে প্রথম রোগটি ধরা পড়ে। চিকুনগুনিয়া নামটি এসেছে তানজানিয়ার মাকুন্দি জনগোষ্ঠির ব্যবহৃত কিমাকুন্দি ভাষা থেকে। যার অর্থ “কুঁচিত হওয়া” বা বাঁকা হয়ে যাওয়া।

মূলত, চিকুনগুনিয়ার প্রাদুর্ভাব এশিয়া ও আফ্রিকাতেই বেশি দেখা যায়। ২০০০ সালে এটি ইউরোপ ও আমেরিকাতে ছড়িয়ে পড়ে। ২০১৪ সালে বিশ্বজুড়ে এক মিলিয়নের বেশি মানুষ চিকুনগুনিয়ায় আক্রান্ত হয়। ২০১৪ সালের দিকে যুক্তরাষ্ট্রেও এই ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ে।

bknews2010

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *