রোহিঙ্গা সংকটে মিলবে কি নতুন দিশা

ডেস্ক রিপোর্ট বর্তমানকণ্ঠ ডটক,বুধবার, ১১ এপ্রিল ২০১৮: প্রায় ১১ লাখ রোহিঙ্গা শরণার্থীর বিশাল চাপ বাংলাদেশের ঘাড়ে। মিয়ানমার থেকে বিতাড়িত এ মানুষদের আবাসন, খাদ্যের ব্যবস্থা করা এবং ওষুধসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় সহায়তা দিয়ে বাঁচিয়ে রাখা সরকারের জন্য বড় এক চ্যালেঞ্জ।

বিশ্ব সম্প্রদায় ও আন্তর্জাতিক এনজিওগুলো এ কাজে বাংলাদেশকে সহায়তা দিয়ে আসছে। কিন্তু রোহিঙ্গা সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে তা বাংলাদেশের নিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি যেমন তৈরি করবে, একইসঙ্গে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা পাওয়ার ক্ষেত্রেও জটিলতা সৃষ্টি হবে। সে ক্ষেত্রে বাংলাদেশের চাওয়া আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে প্রত্যাবাসন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের পাশাপাশি এ সমস্যার টেকসই সমাধান প্রয়োজন। কারণ, গত কয়েক দশকজুড়ে রাখাইনে রোহিঙ্গাদের ওপর নিপীড়ন চলছে।

এ ক্ষেত্রে জাতিসংঘ ও পশ্চিমা বিশ্বের মিয়ানমারের ওপর চাপ প্রয়োগ জরুরি। তবে এশিয়ার দুই পরাশক্তি চীন ও ভারতের কার্যকর ভূমিকা এ সমস্যা সমাধান দ্রুত ঘটাতে পারে। কারণ, মিয়ানমারের সঙ্গে এই দুই দেশেরই রয়েছে অনেক পুরনো সম্পর্ক। অর্থনৈতিক স্বার্থসংশ্লিষ্টতার বাইরেও ভূ-রাজনৈতিকভাবে মিয়ানমার দুই দেশের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ। পুরো অঞ্চলের স্থিতিশীলতার জন্যও ভারত-চীন দুই দেশের জন্যই রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান প্রয়োজনীয়। তবে গত আগস্ট মাসে নতুন করে রোহিঙ্গা সংকট শুরুর পর চীন বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েও জাতিসংঘে বরাবরই মিয়ানমারকে সমর্থন দিয়েছে। এ ক্ষেত্রে ভারতের অবস্থানও দোদুল্যমান।

গত সোমবার ভারত ও চীনের পক্ষ থেকে রোহিঙ্গা সংকটে বাংলাদেশের পাশে থাকার নতুন আশ্বাস এসেছে। ভারত ও বাংলাদেশের সচিব পর্যায়ের বৈঠকে রোহিঙ্গা সমস্যা সমাধানে পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করে ভারত। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিজয় গোখলে বলেন, রোহিঙ্গাদের দ্রুত প্রত্যাবাসন ও এ সমস্যার শান্তিপূর্ণ সমাধানে বাংলাদেশকে সব ধরনের সহযোগিতা দেবে ভারত।

বিজয় গোখলে জানান, বর্ষা মৌসুমে রোহিঙ্গাদের চাহিদার কথা বিবেচনায় নিয়ে মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত এ জনগণের সহায়তায় দ্বিতীয় দফায় ত্রাণসামগ্রী পাঠাচ্ছে ভারত। এ ছাড়া রোহিঙ্গা নারী ও শিশুদের জন্য মাঠপর্যায়ে হাসপাতাল চালু করতে যাচ্ছে দেশটি।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র সচিব শহীদুল হক বলেন, দ্বিপক্ষীয় সহযোগিতাপূর্ণ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আমরা কথা বলেছি। রোহিঙ্গা সমস্যা নিয়ে আমাদের মধ্যে আলোচনা হয়েছে। ভারত যেভাবে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে তাতে আমরা অত্যন্ত খুশি।
এদিকে চীনের নতুন রাষ্ট্রদূত জ্যাং জু স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎকালে, পালিয়ে আসা রোহিঙ্গাদের স্থায়ী প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশের পাশে থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন।

এক বিবৃতিতে রোহিঙ্গা সংকট অবসানে চীনের সহযোগিতা কামনা করে শিরীন শারমিন বলেন, বাংলাদেশ আলোচনার মাধ্যমে রোহিঙ্গাদের শান্তিপূর্ণ স্থায়ী প্রত্যাবর্তন চায়। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে মানবতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রশংসা করেন জ্যাং জু।
রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে জাতিসংঘে দুইবার বাংলাদেশের প্রস্তাবের বিরুদ্ধে ভোট দিলেও চীন শুরু থেকেই বলে আসছে রোহিঙ্গা ইস্যুতে তারা বাংলাদেশের পাশেই আছে। দেশটি রোহিঙ্গাদের জন্য বিপুল ত্রাণ সহায়তা দিয়েছে। এ ছাড়া মনে করা হয়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশের সঙ্গে মিয়ানমারের দ্বিপক্ষীয় চুক্তির পেছনেও রয়েছে চীনের ভূমিকা।

এদিকে জাতিসংঘ জানিয়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে বাংলাদেশ চুক্তি করলেও মিয়ানমার তাদের ফেরত নিতে এখনো প্রস্তুত নয়। এ ক্ষেত্রে দেশটির গড়িমসিও রয়েছে। বাংলাদেশ মনে করছে, আন্তর্জাতিক চাপই পারে রোহিঙ্গাদের নিজভূমিতে ফিরিয়ে নিতে। সে ক্ষেত্রে একই দিনে চীন ও ভারত রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ায় এ সংকট সমাধানের নতুন গতি আসতে পারে।

Be the first to comment on "রোহিঙ্গা সংকটে মিলবে কি নতুন দিশা"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*