গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচন: দিন ফিরছে ভোটারদের

নিজস্ব প্রতিবেদক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,শুক্রবার, ২৭ এপ্রিল, ২০১৮:
গাজীপুর ও খুলনা সিটি করপোরেশন নির্বাচনে আগামী ১৫ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এবার গাজীপুরে ভোটার ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। আর খুলনায় ভোটার ৪ লাখ ৯৪ হাজার ৪৫৪ জন।

গাজীপুর ও খুলনা সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটাররা বেশ খোশ মেজাজে। সিটি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গাজীপুর ও খুলনায় যেন উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। সরকারি দল আওয়ামী লীগ এবং দেশের অন্যতম বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপি এ নির্বাচনে অংশ নিচ্ছে। গত ২৪ এপ্রিল প্রতীক পাওয়ার পর প্রতিদিন সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা প্রচার-প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন। অনেক দিন পর নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন এমন আশায় মানুষের মধ্যে কিছু আনন্দঘন পরিবেশ লক্ষ করা গেছে।

২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারির জাতীয় নির্বাচন ছিল কিছুটা প্রশ্নবিদ্ধ। এরপর মানুষ নির্বাচনে স্বাভাবিকভাবে ভোট দিতে পারবে কি না- যে শঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বর্তমানে সে অনিশ্চয়তা কিছুটা কেটেছে। গাজীপুর এবং খুলনা সিটির নির্বাচনী প্রচারণায় উল্লেখযোগ্য কোনো সহিংসতার ঘটনা এখনো ঘটেনি। বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা নির্বিঘে তাদের প্রচারণা চালাচ্ছেন। দেখে মনে হচ্ছে ভোট নিয়ে তাদের শঙ্কা কিছুটা কমেছে। তাদের ভাবনা আগামী ১৫ মে তারা সুষ্ঠুভাবে কেন্দ্রে গিয়ে কাক্সিক্ষত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবেন। দুই সিটি নির্বাচনে বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা তাদের জোর প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছেন।

খুলনায় বিএনপির মেয়র প্রার্থী নজরুল ইসলাম মঞ্জু গতকাল ১৯ দফা নির্বাচনী ইশতেহার ঘোষণা করেছেন। তার ইশতেহারে অন্যান্য প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে- নাগরিক পরিকল্পনার প্রবর্তন, নাগরিক মর্যাদা ও সম্মান সংরক্ষণ এবং গুণীজন সম্মাননা, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত পরিস্থিতি মোকাবেলায় খুলনাকে সহনশীল শহর হিসেবে গড়ে তোলা, সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ঐতিহ্য সংরক্ষণ, শিশু-বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী সহায়ক পরিকল্পনা, ক্রীড়া বিনোদন ও শরীরচর্চার সুযোগ সৃষ্টি, ভেজালমুক্ত বিশুদ্ধ খাদ্য সরবরাহ, মহানগরীর সড়ক উন্নয়ন ও বর্জ্য-বৃষ্টির পানি নিষ্কাশন, শিক্ষাব্যবস্থার উন্নয়ন, খালিশপুর শিল্পাঞ্চল পুনরুজ্জীবনের পদক্ষেপ এবং শিল্প-কলকারখানা স্থাপনে সহযোগিতা প্রদান।
বেলা ১১টায় মহানগরীর কেডি ঘোষ রোডের দলীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে তিনি এ ইশতেহার ঘোষণা করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ২০ দলীয় জোটের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সমন্বয়কারি জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট শফিকুল আলম মনা, সদস্য সচিব জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি অ্যাডভোকেট শাহ আলম, মহানগর বিএনপির সিনিয়র সহসভাপতি সাহারুজ্জামান মোর্তুজা, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আমির এজাজ খান, সাবেক এমপি কাজী সেকেন্দার আলী ডালিম, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা সাখাওয়াত হোসেন, বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা মিডিয়া কমিটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ তারিকুল ইসলাম ও সদস্য সচিব এহতেশামুল হক শাওন।
আর গতকাল খুলনায় আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী তালুকদার আব্দুল খালেক জনসংযোগ করেছেন। এসময় তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা ছাড়া খুলনার ভাগ্য পরিবর্তন হয় না। শেখ হাসিনা খানজাহান আলী (রূপসা) সেতু, শেখ আবু নাসের বিশেষায়িত হাসপাতাল, আধুনিক রেল স্টেশন, মংলা বন্দর সচল, বন্ধ মিল-কারখানা চালুসহ নগর উন্নয়নে হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছেন। রেলসহ পদ্মা সেতু দৃশ্যমান। যা শেখ হাসিনার অবদান।

গতকাল ক্যাবল ফ্যাক্টরিতে শ্রমিক-কর্মচারীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ কথা বলেন। এর আগে সকালে মহানগরের খানজাহান আলী থানাধীন দুই নম্বর ওয়ার্ডে গণসংযোগ ও সাথী সমাবেশে বক্তব্য রাখেন তিনি।

জনসংযোগকালে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নির্বাহী সদস্য ও নির্বাচনের সমন্বয়কারী এস এম কামাল হোসেন, নগর আওয়ামী লীগ নেতা মুক্তিযোদ্ধা নুর ইসলাম বন্দ, দৌলতপুর থানা আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ সৈয়দ আলী উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে গতকাল গাজীপুর সিটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী জাহাঙ্গীর আলম এবং বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের সঙ্গে সাক্ষাৎকরেছেন মার্কিন দূতাবাসের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কাউন্সিলর বিল মোলার। পরে তিনি সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন।

এসময় তিনি গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে প্রধান দুই রাজনৈতিক দল আওয়ামী লীগ ও বিএনপির প্রার্থীদের শান্তিপূর্ণ প্রচারণা চালানোসহ সুষ্ঠু নির্বাচনের আহ্বান জানিয়েছেন।

বিল মোলার বলেন, গণতান্ত্রিক দেশ হিসেবে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক পন্থায় এগিয়ে যাচ্ছে। এর অংশ হিসেবে গাজীপুর সিটি করপোরেশন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচন যাতে সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রেখে অবাধ, সুষ্ঠু, স্বচ্ছ নিরপেক্ষ ও শান্তিপূর্ণভাবে হয় তার আহ্বান জানান।

পরে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, আমি গণতান্ত্রিক উপায়ে ও গণতান্ত্রিক চর্চার মধ্য দিয়ে নির্বাচনের ব্যাপারে আন্তরিক। ইউএস প্রতিনিধি সে দেশের সরকারের প্রতিনিধি হয়ে নির্বাচন প্রক্রিয়া পর্যবেক্ষণ করতে এসেছেন। এখানে স্থানীয় সরকারের কাজ কী, স্থানীয় সরকারের নির্বাচন কীভাবে হয়, তারা তা জানতে চেয়েছেন। নির্বাচনে অংশ নেওয়া সব দল এবং তাদের সমন্বয়ে কীভাবে প্রচার-প্রচারণা চালানো হচ্ছে তা তারা জানতে চেয়েছেন। এছাড়া আমরা ময়লা-আবর্জনা পরিষ্কার, উন্নত পরিকল্পিত ও রাস্তাঘাট নির্মাণসহ নানা কাজে আমেরিকার সহযোগিতা চেয়েছি।

আর বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকারের সঙ্গে দেখা করার সময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও গাজীপুর জেলা বিএনপির সভাপতি ফজলুল হক মিলন। পরে মিলন সাংবাদিকদের বলেন, এ সরকার বিএনপি নেতাকর্মীদের নানা রকম মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছে। এমনকি বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়াকেও মিথ্যা মামলা দিয়ে জেলে ঢুকিয়ে গণতন্ত্র চর্চায় বিঘ্নের সৃষ্টি করছে।

bknews2010

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *