রহস্য কাটেনি মিরপুরে তিন লাশ নিয়ে

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,শনিবার,০৫ মে ২০১৮:
রাজধানীর মিরপুরে সম্প্রতি নিজ ঘর থেকে উদ্ধার করা হয় এক মা ও তার দুই শিশুকন্যার রক্তাক্ত লাশ। এ ঘটনায় রহস্য তৈরি হয়েছে। স্বজনদের মনেও উঁকি দিচ্ছে নানা প্রশ্ন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখন পর্যন্ত এ ঘটনার কোনো কূলকিনারা পায়নি।

ঘটনাটি রহস্যজনক হওয়ায় তদন্তের বিষয়ে পুলিশকে অনেকটা ময়নাতদন্ত প্রতিবেদনের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

নিহত জেসমিন আক্তারের সঙ্গে তার স্বামী হাসিবুল ইসলামের মনোমালিন্য ছিল বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে বড় ধরনের কোনো ঝগড়াঝাটি না হলেও প্রায়ই মান-অভিমানের ঘটনা ঘটত। যে কারণে জেসমিন তার সন্তানদের বিষয়ে উদ্বিগ্ন থাকতেন এবং সন্তানদের ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তা করতেন।

নিহত জেসমিনের ছোট ভাই শাহীনুর ইসলাম খোলা কাগজকে বলেন, ‘দুলাভাইয়ের সঙ্গে আমার বোনের এক ধরনের মনোমালিন্য ছিল। তারা সংসার করতেন ঠিকই; কিন্তু আপা আপার মতো থাকতেন। আর দুলাভাই তার মতো থাকতেন।’

শাহীনুর বলেন, ২০১৪ সালের নভেম্বরে বাবা মারা গেছেন। ক্যান্সারে আক্রান্ত হয়ে মা মারা গেছেন ২০১৬ সালের ২৬ আগস্ট। আমাদের দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে বড় বোন জেসমিনই ছিলেন অভিভাবক। আমি সবার ছোট। বোনের সঙ্গেই তার বাসায় থাকতাম। আমার দুলাভাই সংসদ সচিবালয়ের সহকারী লেজিসলেটিভ ড্রাফটসম্যান, এটি তার সরকারি কোয়ার্টার।
তিনি বলেন, ‘ঘটনাটি এমন যে, সরাসরি কাউকে সন্দেহও করতে পারছি না। আবার নিজ চোখে দেখা বোন ও ভাগনিদের লাশের বুকে, হাতে, গলায় একাধিক জখম-যে কারণে নিজের মনে অনেক প্রশ্ন জাগছে। আমার মনে হচ্ছে আপা এমন কোনো দুর্ঘটনা ঘটাতে পারেন না? আর তিনি যদি আত্মহত্যা করেই থাকেন, তাহলে তার শরীরে ধারালো অস্ত্রের এত আঘাত কি করে এলো। আবার কেউ কেউ বলছেন-আমার বোন মানসিক রোগী। তাহলে আমার প্রশ্ন- তিনি যদি মানসিক রোগী হয়ে থাকেন, তিনি চাকরি করছিলেন কীভাবে। আপা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে একাউন্টস সেকশনে কাজ করতেন। ঘটনার দিনও তিনি অফিস করে বাসায় আসেন। তবে আমার বোনের মাইগ্রেন ছিল। মাঝেমধ্যে মাথাব্যথা করত। সহ্য করতে পারতেন না। তিনি কোলকাতা থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। গত মার্চ মাসের শেষদিকে আমিও আপার সঙ্গে কোলকাতায় গিয়েছিলাম।

ঘটনার সর্বশেষ পরিস্থিতি নিয়ে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) মিরপুর বিভাগের উপ-কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আহমেদ বলেন, এ ঘটনায় আমরা এখনো কাউকে আটক করিনি। এটি নিয়ে আমরা তৎপর রয়েছি। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট পেলেই রহস্যজনক এ ঘটনার পরবর্তী পদক্ষেপে আমরা যেতে পারব। তিনি বলেন, তবে এখন পর্যন্ত কাউকে আমাদের সন্দেহ হয়নি। আমাদের ধারণা, মা তার দুই সন্তানকে হত্যা করে নিজে আত্মহত্যা করেছেন। তবে কিছু চিহ্ন নিয়ে আমরা বিভ্রান্তিতে রয়েছি। কারণ লাশগুলো নিহত জেসমিনের ছোট ভাই এবং তার স্বামী উভয়েই উদ্ধার করেছেন। স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, তারা দুজনই বাইরে থেকে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন।

উল্লেখ্য, গত সোমবার রাতে রাজধানীর মিরপুর পাইকপাড়ায় সরকারি কলোনির একটি বাসা থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে চাকরি করা জেসমিন আক্তার (৩৫) এবং তার দুই সন্তান হাফিদা তাসলিম হিমি (৯) ও আবিলা তাহমিম হানির (৬) রক্তাক্ত লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। জেসমিনের শ্বশুরবাড়ি পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়ায় গত বুধবার তাদের দাফন সম্পন্ন হয়।

সূত্র: খোলা কাগজ,কাজী ফয়সাল

Be the first to comment on "রহস্য কাটেনি মিরপুরে তিন লাশ নিয়ে"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*