একাদশে ভর্তিতে কোটা নেই

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম,মঙ্গলবার, ০৮ মে ২০১৮: মাধ্যমিকে অভাবনীয় ফল করে পাসের আনন্দে শিক্ষার্থীরা আত্মহারা। সেই রেশ না কটতেই শিক্ষার্থী ও তাদের অভিভাবকদের কপালে এখন দুশ্চিন্তার ভাঁজ। আগামী ১৩ মে থেকে অনলাইনে কলেজ ভর্তির আবেদন শুরু হচ্ছে। এখন হিসাব মেলাতে হচ্ছে কতজনের সঙ্গে একটি আসনের জন্য প্রতিযোগিতায় নামতে হবে শিক্ষার্থীদের? কেউ কেউ হয়তো বিজ্ঞান শাখা থেকে ব্যবসায় শিক্ষা কিংবা মানবিকে চলে আসবে। এবার আটটি সাধারণ শিক্ষা বোর্ডের এসএসসিতে উত্তীর্ণ হয়েছে ১২ লাখ ৮৯ হাজার ৮০৫ জন। তাদের মধ্যে জিপিএ-৫ পেয়েছে ১ লাখ ২ হাজার ৮৪৫ জন। এরা সবাই দেশের ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ প্রত্যাশী। তবে জিপিএ-৫ পাওয়া মেধাবীদের ভালো ও মানসম্পন্ন কলেজে সুযোগ মিলবে না। রাজধানী ঢাকা ও অন্য জেলা শহরে হাতেগোনা ভালো কলেজে ৩০ হাজারের কিছু বেশি আসন রয়েছে। এ হিসাবে ভালো কলেজে ভর্তির সুযোগ বঞ্চিত হওয়ার আশঙ্কায় রয়েছে জিপিএ-৫ প্রাপ্ত শিক্ষার্থীদের।

এদিকে, এবার শতভাগ মেধার ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করবে কলেজগুলো। গত বছর ৮৯ ভাগ মেধার ভিত্তিতে এবং বাকি ১১ ভাগ কোটায় ভর্তি করা হয়। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অগ্রাধিকার কোটার আবেদনকারীকে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী হিসেবে ভর্তি করবে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী ৫ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তান বা তাদের সন্তানদের জন্য, ৩ শতাংশ বিভাগীয় ও জেলা সদরের বাইরের শিক্ষার্থীদের জন্য, ২ শতাংশ শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধস্তন দফতর ও উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, কর্মকর্তা কর্মচারী এবং নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের সদস্যদের সন্তানদের জন্য, শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ বিকেএসপির জন্য এবং শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ প্রবাসীদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত রয়েছে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কোটায় যদি প্রার্থী না পাওয়া যায়, তবে এ আসনগুলোর কার্যকারিতা থাকবে না। অর্থাৎ এসব কোটায় উপযুক্ত শিক্ষার্থী না পাওয়া গেলে অন্য কাউকে ভর্তি করা যাবে না।

গত বছরের মতো ২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষে একাদশ শ্রেণিতে শিক্ষার্থীরা কোন কলেজে ভর্তি হবে তা নির্ধারণ করবে শিক্ষা বোর্ড। অনলাইনে শিক্ষার্থীর আবেদনের পছন্দক্রম থেকে একটি কলেজ নির্ধারণ করা হবে; যেখানে শিক্ষার্থীকে ভর্তি হতে হবে। আর ভর্তির পুরো কাজটি হবে অনলাইনে। শিক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, অনলাইনে এবং এসএমএসের মাধ্যমে কলেজ ভর্তির জন্য আগামী ১৩ থেকে ২৪ মে পর্যন্ত ভর্তি আবেদন করা যাবে। তবে পুনঃনিরীক্ষণে যাদের ফল পরিবর্তন হবে, তাদের আবেদন আগামী ৫ ও ৬ জুন নেয়া হবে। প্রথম পর্যায়ে নির্বাচিত শিক্ষার্থীদের ফলপ্রকাশ করা হবে ১০ জুন। ভর্তি কার্যক্রম ২৭ জুন থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত চলবে। ২০১৮-১৯ শিক্ষবর্ষে একাদশ শ্রেণির ক্লাস শুরু হবে ১ জুলাই। এ বছর একজন ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থী ১০টি কলেজে একসঙ্গে পছন্দক্রম দিয়ে আবেদন করতে পারবে। ভর্তির আবেদন অনলাইনের পাশাপাশি নির্ধারিত পদ্ধতিতে মুঠোফোনে খুদে বার্তার মাধ্যমেও করা যাবে। বিগত দু’বছরের মতো এবারো অনলাইনে এবং মোবাইলে এসএমএসের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১০ কলেজে ভর্তির জন্য পছন্দ নির্ধারণ করে আবেদন করতে পারবে ভর্তিচ্ছু শিক্ষার্থীরা। এ জন্য ১৫০ টাকা ফি নেয়া হবে। পছন্দক্রম অনুযায়ী একটি কলেজে ভর্তির অনুমোদন দেবে শিক্ষা বোর্ড। কলেজ নির্ধারণের পর ভর্তি নিশ্চায়ন করতে হবে। অন্যথায় শিক্ষার্থীকে আবারো নতুন করে আবেদন করতে হবে।

এবার আগের মতোই ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি ক্ষেত্রে ৫ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া ঢাকার মধ্যে আংশিক এমপিওভুক্ত প্রতিষ্ঠানের জন্য ৯ হাজার টাকা (বাংলা মাধ্যম) ও ১০ হাজার টাকা (ইংরেজি মাধ্যম) ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হবে। সব প্রতিষ্ঠানের জন্য উন্নয়ন ফি ৩ হাজার টাকার বেশি আদায় করা যাবে না। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের ক্ষেত্রে রশিদ প্রদান করতে নির্দেশনা দেয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও মফস্বল ও পৌর এলাকার জন্য ভর্তি ফি নির্ধারণ করা হয়েছে ১ হাজার টাকা, পৌর জেলা সদরে ২ হাজার টাকা, ঢাকা ব্যতীত অন্যা মেট্রোপলিটন এলাকায় ৩ হাজার টাকার বেশি নেয়া যাবে না। প্রতিটি খাতে অর্থ আদায়ের রশিদ দিতে হবে। ভর্তি নীতিমালা লঙ্ঘন করা হলে বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে পাঠদান অনুমতি বা এমপিওভুক্তি বাতিল করা হবে এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেয়া হবে।

শিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর (মাউশি) সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীতে ভালো ও মানসম্পন্ন কলেজগুলোতে এ বছর একটি আসনও বাড়ছে না। ভালো বলে বিবেচিত কলেজগুলোতে এবারের ভর্তি যোগ্য আসন সংখ্যা প্রায় ৩০ হাজার। এগুলোর মধ্যে সব জিপিএ ৫ ধারীদের প্রথম পছন্দ হচ্ছে ছেলেদের জন্য নটর ডেম কলেজ, সিটি কলেজ ও রাজউক উত্তরা মডেল কলেজ। সরকারি কলেজগুলোর মধ্যে ঢাকা কলেজ পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। মেয়েদের প্রথম পছন্দ হচ্ছে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজ, মতিঝিল আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজ এবং হলিক্রস কলেজ। এ ছাড়া জেলা শহরে অবস্থিত কলেজগুলোর মধ্যে সরকারি কলেজগুলোই প্রথম পছন্দ থাকবে।

মাউশির পরিসংখ্যানে দেখা গেছে, ঢাকার কলেজগুলোর মধ্যে ভালোমানের কলেজ হিসেবে পরিচিত নটর ডেম কলেজে ২ হাজার ১৪০টি, ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৯৯০টি, আইডিয়াল স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬৫০টি, ঢাকা কলেজে এক হাজার ১০০টি, হলিক্রস কলেজে ৪৯০টি, ঢাকা কমার্স কলেজে ৯০০টি, সরকারি বিজ্ঞান কলেজে ৪৭৫টি, বদরুন্নেছা কলেজে ৮২০টি, ঢাকা সিটি কলেজে এক হাজার ১৮০টি, রাজউক উত্তরা মডেল কলেজে ৪৫৫টি আসন আছে। এ ছাড়া লালমাটিয়া গার্লস কলেজে ৬১৫টি, মতিঝিল মডেল হাইস্কুল অ্যান্ড কলেজে ৪৩২টি, ঢাকা বিজ্ঞান কলেজে ৩৭০টি, বিএএফ শাহীন কলেজে ৬০৬টি, তেজগাঁও কলেজে ৪০২টি, শেখ বোরহানউদ্দিন কলেজে ১৯৯টি, রাইফেলস পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৫৬৫টি, অগ্রণী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১৯৮টি, সরকারি গার্হস্থ্য অর্থনীতি কলেজে ১৪০টি, নবকুমার ইনস্টিটিউশনে ১০০টি, এসওএস হারম্যান মেইনার স্কুল অ্যান্ড কলেজে ১০৩টি, সরকারি বাংলা কলেজে ৯৭২টি, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় ইউনিভার্সিটি কলেজে ২০৭টি, মোহাম্মদপুর প্রিপারেটরি গার্লস স্কুল অ্যান্ড কলেজে ২০৯টি, সেন্ট যোসেফ স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩৪টি, নিউ মডেল ডিগ্রি কলেজে ২১৪টি, ইঞ্জিনিয়ারিং ইউনিভার্সিটি স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৬০টি, সিদ্ধেশ্বরী কলেজে ৬৭১টি, সিদ্ধেশ্বরী গার্লস কলেজে ৬৫১টি, শেরেবাংলা বালিকা স্কুল অ্যান্ড কলেজে ৩০৯টি, সরকারি সোহরাওয়ার্দী কলেজে এক হাজার ৪৮৫টি, ঢাকা মহানগর মহিলা কলেজে ৫১৪টি আসন রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, এসএসসিতে উত্তীর্ণ সব শিক্ষার্থী কলেজে ভর্তি হতে পারবে। তবে মানসম্মত শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে সংখ্যা অপ্রতুল। সব প্রতিষ্ঠানে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিতে সরকার কাজ করছে বলে তিনি জানান।

bknews2010

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *