আজও বজ্রপাতে ২১ জনের জনের মৃত্যু

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম , বুধবার, ৯ মে ২০১৮: হবিগঞ্জে ৬ জনসহ দশ জেলায় বুধবার বজ্রপাতে ২১ জনের প্রাণহানি হয়েছে। আহত হয়েছেন ১৪ জন। সোমবার ও মঙ্গলবার বজ্রপাতে ৯ জেলায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়। এ নিয়ে বজ্রপাতে তিনদিনে মৃতের সংখ্যা দাঁড়াল ৪০। সরকারি হিসেবে মার্চ-এপ্রিল দুই মাসে বজ্রপাতে ৭০ জন নিহত হয়েছে। ঝড়-বৃষ্টির সময় বজ্রপাতে প্রতিদিনই হতাহতের ঘটনা ঘটছে। পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জেলা ও উপজেলা সংবাদের বিস্তারিত পড়ুন।

হবিগঞ্জ:
জেলার পৃথক স্থানে বজ্রপাতে ছয় কৃষক নিহত হয়েছেন। বুধবার দুপুরে তারা হাওরে ধান কাটতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়েন। এতে আহত হয়েছেন আরও ছয়জন।

জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার দুপুরে হঠাৎ জেলার বিভিন্ন স্থানে তুমুল কালবৈশাখী ঝড় শুরু হয়। মাত্র আধা ঘণ্টা স্থায়ী হয় ঝড়। এ সময়ে ঝড়ে হাওয়ায় ধান কাটা অবস্থায় ছয়জন কৃষক বজ্রপাতে মারা যান।

এর মধ্যে বানিয়াচংয়ের মাকালকান্দি হাওরে দাইপুর গ্রামের বসন্ত দাশের ছেলে স্বপন দাশু (৩৫)। একই উপজেলার নূরপুর হাওরে সিরাজগঞ্জ জেলার দত্তকান্দি এলাকার বাসিন্দা জয়নাল উদ্দিন (৬০) মারা যান। এ দুটি স্থানে আহত হন আরও ছয়জন। এছাড়াও নবীগঞ্জ উপজেলার বৈলাকীপুর গ্রামের হাওরে নারায়ন পাল (৪০) ও আমড়াখাই হাওরে হাবিব উল্লাহর ছেলে আবু তালিব (২৫) বজ্রপাতে মারা যান।

অপরদিকে লাখাই উপজেলার তেঘরিয়া হাওরে সফি মিয়া (৫৫) ও মাধবপুর উপজেলার পিয়াইম হাওরে রাম কুমার সরকারের ছেলে জোহর লাল সরকার (১৮) বজ্রপাতে মারা যান। জেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অফিসের বজ্রপাতের তথ্য সংগ্রহের দায়িত্বরত কর্মী আব্দুল নূর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

কিশোরগঞ্জ : জেলার পৃথক স্থানে বজ্রপাতে এক নারীসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার দুপুরে জেলার নিকলী উপজেলার ছাতিরচর এলাকায় ও পাকুন্দিয়া উপজেলার আশুতিয়া এলাকায় পৃথক দুটি বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের পরিষদপাড়া মাঈন উদ্দিনের ছেলে শাহ জালাল (২৫) ও কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার আশুতিয়া এলাকার সুধীর চন্দ্র বর্মণের স্ত্রী দিপালী রানী বর্মণ (৩৮) ।

স্থানীয়রা জানায়, নিকলী উপজেলার ছাতিরচর ইউনিয়নের পরিষদপাড়ার শাহ জালাল বাবার সঙ্গে হাওরের জমি থেকে ট্রলি দিয়ে ধান আনতে গেলে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

অপরদিকে, পাকুন্দিয়া উপজেলার আশুতিয়া এলাকায় দিপালী রানী বর্মণ বাড়ির উঠোনে কাজ করার সময় বজ্রপাতে গুরুতর আহত হয়। পরে পরিবারের লোকজন দিপালীকে আহতাবস্থায় কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

নিকলী থানার ওসি নাসির উদ্দিন ভুইয়া ও পাকুন্দিয়া উপজেলার সুখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নীলফামারী : জেলার জলঢাকা উপজেলায় বজ্রপাতে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকাল ৯টার দিকে ঝড়ো হাওয়া ও শিলাবৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন— উপজেলার বালাগ্রাম ইউনিয়নের শালনগ্রাম ডুগডুগি এলাকার মৃত ইসলাম উদ্দিনের স্ত্রী আসমা বেওয়া (৫৫) ও কাঠাঁলি ইউনিয়নের উত্তর দেশিবাই গ্রামের সফর উদ্দিনের ছেলে নুর আমিন (৪০)।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে বৃষ্টির সময় বজ্রপাত হলে মারা যান তারা। এ সময় ঘরের বারান্দা থাকাকালে আসমা বেওয়া এবং রাস্তায় ধান শুকাতে দেয়া নুর আমিন ধানে ঢাকনা দিতে গেলে বজ্রপাতে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। জলঢাকা থানার ওসি মোস্তাফিজুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

জামালপুর সংবাদদাতা জানান, জেলার দেওয়ানগঞ্জ উপজেলায় বজ্রপাতে এক কৃষকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার উপজেলার চর আমখাওয়া ইউনিয়নের মৌলভীর চরে এ ঘটনা ঘটে বলে ওই ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য জয়নাল আবেদীন নাদু জানান।

নিহত মো. হাবিবুর রহমান (৪৭) মৌলভীর চরের মৃত আব্দুল মজিদের ছেলে।

জয়নাল আবেদীন বলেন, হাবিবুর কৃষিশ্রমিকদের সঙ্গে বাড়ির কাছেই ধান কাটতে যান। হঠাৎ বজ্রবৃষ্টি শুরু হলে তিনি ধানকাটা বাদ দিয়ে বাড়ির দিকে রওনা হন। পথে বজ্রপাত হলে তিনি সংজ্ঞা হারান। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে কুড়িগ্রাম জেলার রাজিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

ময়মনসিংহ: জেলার সদর উপজেলায় বজ্রপাতে একজন নিহত হয়েছে। এ সময় মুক্তাগাছায় ৮ জন আহত হয়েছে। বুধবার দুপুরে উপজেলার চর নীলক্ষীয়ায় বজ্রপাতে মারা যান আলাল উদ্দিন (৬০)।

ময়মনসিংহ কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম বলেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে আলাল উদ্দিন গরু আনতে যাচ্ছিলেন। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

মুক্তাগাছা থানার ওসি আলী আহম্মেদ মোল্লা জানান, উপজেলার নতুন বাজার গরুর হাটে বজ্রপাতে আটন আহত হয়। আহতদেরকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সুনামগঞ্জ: জেলার ধর্মপাশা ও শাল্লায় বজ্রপাতে দুই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছে। এরা হলেন— ধরমপাশা উপজেলার সদর ইউনিয়নের দুর্বাকান্দা গ্রামের আব্দুর রহিমের ছেলে জুয়েল আহমদ (১৬) ও শাল্লা উপজেলার আটগাঁও ইউনিয়নের কাশিপুর গ্রামের ইসহাক আলীর ছেলে আলমগীর মিয়া (২২)।

ধরমাপাশা সদর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য নূর ইসলাম জানান, দুপুরে জুয়েল মিয়া বাড়ির পাশে কাইলানী হাওরে ধান কাটতে যায়। ধান কাটার সময়ই বজ্রপাতে আহত হলে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ধরমপাশা উপজেলা স্বাস্থ কমপ্লেক্সে নেয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

শাল্লা থানার ওসি দোলোয়ার হোসেন জানান, আলমগীর মিয়া ট্রলি চালিয়ে ছায়ার হাওরে যাচ্ছিলেন কাটা ধান বাড়িতে আনতে। পথে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলে তার মৃত্যু হয়।

মানিকগঞ্জ: জেলার পৃথক স্থানে বজ্রপাতে স্কুলছাত্রসহ দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় ৮ শিক্ষার্থী আহত হয়েছে। বুধবার দুপুরে দৌলতপুরের বাঁচামারা ও তালুকনগর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন- তালুকনগর উচ্চ বিদ্যালয়ের ৬ষ্ট শ্রেণির ছাত্র সাইফুল ইসলাম অন্তর (১২) এবং বাঁচামারা ইউনিয়নের হাসাদিয়া গ্রামের হাফেজ শেখের ছেলে কৃষক ইয়াকুব আলী শেখ (৪৮)।

দৌলতপুর থানার ওসি সুনীল কুমার কর্মকার জানান, সকালে ইয়াকুব আলী বাড়ির কাছে ধানক্ষেতে আগাছা পরিষ্কার করছিলেন। এ সময় গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি মধ্যে বজ্রপাত হলে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

রাজশাহী: জেলার তানোর উপজেলায় বজ্রপাতে তিনজন নিহত হয়েছেন। এ সময় আহত হয়েছেন আরও দুইজন। বুধবার সকালে উপজেলার দুবাইল, চক্রতিরা ও বাতাসপুর গ্রামে এ বজ্রপাতের ঘটনা ঘটে।

নিহতরা হলেন– বাতাসপুর গ্রামের কৃষক আনসার আলী (৩০), দুবইল পূর্বপাড়ার কিশোর সোহাগ আলী (১৬) ও কলমা ইউনিয়নের চক্রতিরাম গ্রামের বেলাম হেমব্রমের স্ত্রী এলেনা মুরমু (৩৫)।

উপজেলা দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কমিটির উপ-সহকারী প্রকৌশলী এনামুল হক জানান, সকালে বৃষ্টির সময় সময় মাঠে ধান কাটছিলেন আনসার আলী। এ সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। আহত হন একই গ্রামের আনন্দ সাহা ও লিটল সাহা।

তানোর উপজেলা নিবার্হী কর্মকর্তা শওকাত আলী বলেন, উপজেলার দুই ইউনিয়নের বজ্রপাতে দুইজন মারা যাওয়ার খবর পেয়ে উপজেলা সহকারী (ভূমি) কর্মকর্তাকে ঘটনাস্থল পাঠানো হয়েছে। নিহত প্রত্যেক পরিবারের জন্য ২০ হাজার টাকা ও ৩০ কেজি করে চাল অনুদান দেয়া হয়েছে।

গাইবান্ধা: জেলার ফুলছড়ি উপজেলায় বজ্রপাতে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। বুধবার সকালে উপজেলার উদাখালি ইউনিয়নের পশ্চিম ছালুয়া গ্রামের চরে এ ঘটনা ঘটে। নিহত মহর আলী (৩৫) উপজেলার উড়িয়া ইউনিয়নের চর কাবিলপুর গ্রামের আব্দুর রশিদের ছেলে।

উদাখালি ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন বলেন, বুধবার ১২ জন কৃষি শ্রমিক ওই চরে আব্দুর রউফ মিয়ার জমির বোরো ধান কাটতে যায়। সাড়ে ৯টার দিকে বৃষ্টি শুরু হলে তারা নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে কাজ ফেলে কাছের এক বাড়িতে আশ্রয় নেয়ার সময় বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মহর আলীর মৃত্যু হয়।

নারায়ণগঞ্জ : জেলার সোনারগাঁও উপজেলার জামপুর ইউনিয়নের তিলাব গ্রামে বজ্রপাতে কুলফি আক্তার (০৮) নামে এক স্কুলছাত্রীর মৃত্যু হয়েছে। কুলফি ওই গ্রামের শাহ কামালের মেয়ে।

Be the first to comment on "আজও বজ্রপাতে ২১ জনের জনের মৃত্যু"

Leave a comment

Your email address will not be published.


*