পরিবহন ধর্মঘটে গাড়িচালকদের হেনস্তা, বাধা ও মুখে কালি

নিজস্ব প্রতিবেদক |
আট দফা দাবিতে দুই দিনের পরিবহন ধর্মঘট ডেকেছে পরিবহন শ্রমিকরা। গতকাল রোববার আন্দোলনের প্রথম দিনেই তাদের বিভিন্ন নেতিবাচক কার্যক্রম দেশজুড়ে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ছিল এ ইস্যুতে সরব। রাস্তায় প্রাইভেট গাড়ি ও বিচ্ছিন্নভাবে চলা সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালকদের মুখে পোড়া মবিল ও আলকাতরা মাখিয়েছে আন্দোলনকারীরা। কোনো কোনো গাড়িতেও ঢেলে দিয়েছে পোড়া মবিল। বাদ যায়নি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থীসহ সাধারণ যাত্রীরা গাড়ি না পেয়ে ব্যাপক দুর্ভোগ সয়েছেন। উপরন্তু তাদের কাউকে কাউকে হতে হয়েছে লাঞ্ছনার শিকার।

জাতীয় সংসদে পাস হয়েছে ‘সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮’। সম্প্রতি পাস হওয়া এ আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনসহ আট দফা দাবিতে রাস্তা বন্ধ করে রাস্তায় নেমেছে শ্রমিকরা। এ সময় রিকশাসহ ছোট যান থেকে যাত্রীদের নামিয়ে নানাভাবে হেনস্তা করেছে তারা। ব্যক্তিগত গাড়ি চলাচল বন্ধ করা ছিল অন্যতম লক্ষ্যবস্তু। ব্যক্তিগত গাড়ি থেকেও আরোহীদের নামিয়ে অপমান করা হয়েছে।

যদিও সংশ্লিষ্টরা এর দায় নিতে চাননি। বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী সাংবাদিকদের বলেন, যে এমন ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা তাকে চিহ্নিত করেছি। তাকে প্রাথমিকভাবে ফেডারেশন থেকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে তদন্ত কমিটি গঠন করে দেওয়া হয়েছে। কমিটি তদন্ত করে দেখবে পেছনে কোনো ইন্ধন আছে কি না।
এদিকে নারায়ণগঞ্জে শিক্ষার্থীদের গায়ে কালি লাগিয়েছে শ্রমিকরা। গতকাল দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের ছাত্রীদের বহন করা একটি বাসে হামলা চালায় পরিবহন শ্রমিকরা। এরপর ছাত্রী ও বাসচালকের মুখে ও কাপড়ে কালি লাগিয়ে দেয় তারা।

প্রত্যক্ষদর্শীদের জবানিতে জানা গেছে, দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের সাইনবোর্ড এলাকায় একটি পাম্পের কাছে বাসটি থামায় আন্দোলনকারীরা। থামানোর পর চালককে মারধর করে। তার মুখে ও শরীরে মাখিয়ে দেওয়া হয় কালি। প্রতিবাদ জানালে কয়েকজন ছাত্রীর মুখে ও কাপড়ে কালি লেপে দেয় তারা। এরপর বাসের কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর করে সবাইকে নামিয়ে দেয় বাস থেকে।

এ ঘটনার ছবি ভাইরাল হয় ফেসবুকে। ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি অনেকেই ছবিটি শেয়ার করেছেন। প্রশ্ন তুলেছেন, শিক্ষার্থীদের সাদা ইউনিফর্মের ওপর কালো দাগ দিয়েছে যারা, এর কোনো এখতিয়ার তাদের রয়েছে কি না!

এ বিষয়ে নারায়ণগঞ্জ সরকারি মহিলা কলেজের অধ্যক্ষ বেদৌরা বিনতে হাবিব খোলা কাগজকে বলেন, ‘চালক ফোনে আমাকে সব ঘটনা জানিয়েছেন। শ্রমিকরা গাড়ির কয়েকটি গ্লাস ভাঙচুর করেছে। ছাত্রীদের গায়েও কালি দিয়েছে। এ ঘটনার পর চালক বাসটি আনতে গেলেও শ্রমিকরা ছাড়েনি। পরে তিনি বাধ্য হয়ে বাসটি একপাশে রেখেছেন।

রাজধানীতে চলছে শুধু বিআরটিসি
টানা ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘটের কারণে রাজধানীতে বিআরটিসি ছাড়া আর কোনো বাস চলাচল করতে দেখা যাচ্ছে না। গতকাল রোববার সারা দিন রাজধানীর বিভিন্ন রাস্তায় বিআরটিসির বাস চলাচল করেছে। তবে যাত্রীদের তুলনায় বাসের সংখ্যা ছিল একেবারেই নগন্য। এতে যাত্রীদের দুর্ভোগ কিছুটা কমলেও স্বস্তি ছিল না।

সরেজমিনে দেখা যায়, রাজধানীর বিআরটিসির ২১টি ডিপো থেকে বাসগুলো বিভিন্ন গন্তব্যে সকালে ছেড়ে যায়। প্রতিটি বাসেই ছিল উপচেপড়া ভিড়। স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও অফিসগামী কর্মজীবী মানুষকে খুব কষ্ট করে বাসে উঠতে দেখা গেছে। কেউ কেউ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায়ও যেতে দেখা গিয়েছে। তবে বিপাকে পড়েছে নারী ও শিশুরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে অনেকেই বাসে উঠতে পারেনি।

উত্তরা আজমপুর থেকে লাকি ইসলাম নামে এক নারীর সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, অসুস্থ স্বামীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে যাবেন। প্রায় দুই ঘণ্টা দাঁড়িয়ে থেকে একটি বাসেও উঠতে পাচ্ছেন না। যদিও মাঝে মাঝে দু-একটি বিআরটিসি বাস আসে তাতে উঠার মতো কোনো সুযোগ পাচ্ছেন না তিনি। তা ছাড়া সিএনজিচালকরা অধিক ভাড়া চাওয়ায় যেতে পাচ্ছেন না তারা।

কল্যাণপুরে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আব্দুল্লাহ আল মামুনের পরীক্ষা ছিল দুপুর বেলায়। তিনিও ঘণ্টা দেড়েক বাসের জন্য অপেক্ষা করে অবশেষে পায়ে হেঁটেই রওয়ানা দিলেন। তিনি জানান, বিআরটিসি কয়েকটি বাস চললেও অন্য কোনো বাস চলাচল করছে না। বিশ^বিদ্যালয়ের দুপুরে পরীক্ষায় সঠিক সময়ে পৌঁছে অংশগ্রহণ করতে পারব কিনা সন্দেহ। তাই বিআরটিসির যেসব বাস চলছে সেগুলোতে যাত্রীর চাপ বেশি থাকায় হেঁটেই রওনা দেন তিনি।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ডিজিএম (অপা.)-২ কাজী নাসিরুল হক জানান, রাজধানীর প্রতিটি ডিপো থেকে এসি, নন-এসি, ডাবল টেকার, দ্বিতলা সব বাস চলাচল করছে। গণপরিবহন ও বিআরটিসি রাজধানীতে যে পরিমাণ যাত্রী প্রতিদিন বহন করে সেই তুলনায় রাস্তায় আজকে যাত্রীসংখ্যা বেশি। শুধু বিআরটিসি বাস চলাচল করায় যাত্রীর চাপ বেশি। তবুও শ্রমিক ধর্মঘটে অনেক যাত্রী বিআরটিসির মাধ্যমে নিজ গন্তব্যে পৌঁছাতে পারছে বলেও জানান তিনি।
সীমাহীন জনদুর্ভোগ

রাস্তায় গণপরিবহন নেই, ব্যস্ত নগরীর সুবিশাল মহাসড়কগুলোতে অকূল শূন্যতা। নিত্যদিনের চেনা স্টপেজগুলোতে মানুষের ভিড়, কিন্তু নেই গন্তব্যে পৌঁছানোর কোনো বাহন। অনেকক্ষণ পর বিআরটিসির একটা বাস আসছে বটে, কিন্তু সেখানে পা রাখার জায়গাও নেই। ডাবল বা সিঙ্গেল ডেকার বাসগুলোতে পা রাখার জায়গাও নেই। রাজধানীর ফার্মগেটে দ্বিতল একটি বাসে দেখা যায়, অত্যধিক যাত্রীর চাপে নিচের তলার গেটের প্রবেশ অংশ দেবে সড়কে ধাক্কা খাচ্ছে। বাসের হেলপার চিৎকার করে বলছেন, এভাবে বাস যেতে পারবে না। কিন্তু যাত্রীদের তাতেও কোনো ভ্রূক্ষেপ নেই।
নতুন পাস হওয়া সড়ক পরিবহন আইনের কয়েকটি ধারা সংশোধনের জন্য হঠাৎ করেই গতকাল থেকে শুরু হয়েছে সারা দেশে ৪৮ ঘণ্টার পরিবহন ধর্মঘট। এ ধর্মঘটে কার্যত অচল হয়ে পড়ে পুরো দেশ। ফলে সারা দেশের লাখ লাখ মানুষ পড়েন সীমাহীন দুর্ভোগে।

গতকাল রাস্তায় কোথাও কোনো গণপরিবহন ও পণ্যবাহী যান চলাচল করেনি। ব্যক্তিগত ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের গাড়ি চলতে গেলেও বাধা দেওয়া হয়েছে কোথাও কোথাও। আটকে দেওয়া হয়েছে শিক্ষার্থীদের বহন করা বাসও। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ক্ষণিকা’ পরিবহনের একটি বাস গাজীপুরের বড়বাড়িতে শ্রমিকরা আটকে দেয়। এ ছাড়া নারায়ণগঞ্জে শিমরাইল এলাকায় একটি কলেজ বাসে পোড়া মবিল মাখিয়ে দেওয়া হয় চালককে। ছাত্রীদের কাপড়েও ছিটিয়ে দেওয়া হয় কালো মবিল।

সপ্তাহের প্রথম কর্মদিবসে পরিবহন ধর্মঘটে চরম বিপাকে পড়েন রাজধানীবাসী। বাস না থাকায় বাড়তি টাকা দিয়ে সিএনজিতে অনেকেই গন্তব্যস্থলে রওনা দেন। যাদের সিএনজিতে চড়ার সামর্থ্য নেই, তাদের অগত্যা পায়ে হাঁটাই ছিল একমাত্র অবলম্বন। টিপটিপ বৃষ্টিতে ঠাণ্ডা লেগে যাওয়ার ভয়, কিন্তু কর্মস্থলে পৌঁছানোর তাড়া দুর্ভোগে আক্রান্ত জনগণকে রাজপথে চার চাকার বাহনের অভাবে ফুটপাতে উঠে যেতে বাধ্য করেছে।

এ ছিল এক দীর্ঘ সারি, পায়ে হেঁটে কর্মস্থলে পৌঁছে যাচ্ছে জনতার ঢল। দৃশ্যটি দেখে নিশ্চয়ই আন্দোলনরত শ্রমিকদের অন্তরাত্মা মারাত্মক খুশির ঢেউয়ে অট্টহাসিতে ফেটে পড়েছে। রিকশার পোয়াবারো ছিল রাস্তায়, রিকশাওয়ালারা গতকাল যা উপার্জন করতে পেরেছে; সারা বছরে এমন উপার্জনের সুযোগ তাদের জন্য খুব কমই আসে। রাস্তায় তবু কোথাও কোথাও জ্যাম ছিল, যা মৃদু বিস্ময়ের বটে।

রাস্তায় গাড়ি চালানোর কারণে তারা চালকদের মুখে কালি মেখে দেওয়ার মতো ন্যক্কারজনক কাজ করতে একটুও দ্বিধা করেনি। এমনকি তাদের এ নোংরা মানসিকতা প্রকাশ পেয়েছে কলেজছাত্রীদের ক্ষেত্রেও। এ ঘটনা বিক্ষুব্ধ করে তোলে জনমানসকে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

ধর্মঘটের বিষয়ে সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী বলেন, ‘সড়ক দুর্ঘটনার মামলা যদি জামিন অযোগ্য হয়, তাহলে তো পরিবহন শ্রমিকদের পক্ষে গাড়ি পরিচালনা করা সম্ভব না। আমরা এই আইন বাতিলের কথা বলি না, সংশোধনের কথা বলি।’ পরিবহন ধর্মঘটের মাধ্যমে যাত্রীদের জিম্মি করছেন না বলে মন্তব্য করেন এই নেতা।

বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত ধর্মঘট চলবে : ওসমান আলী
শ্রমিকদের সঙ্গে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় না বসা পর্যন্ত সারা দেশে পরিবহন ধর্মঘট চালিয়ে যাওয়ার কথা বলেছেন বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক ওসমান আলী।
নির্বাচনের আগে এ সময়ে আইন পরিবর্তন করে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয় জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের ধর্মঘট প্রত্যাহারের আহ্বান জানানোর পর ওসমান আলীর এমন প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়।

তিনি জানান, এক মাস আগে দাবির বিষয়ে তারা সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ে চিঠি দিয়েছিলেন, কিন্তু তাতে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ক্ষোভের সঙ্গে তিনি বলেন, আমরা কি আওয়ামী লীগ বিদ্বেষী লোক? ২০১৩-১৪ সালে আমরা কি জীবন দিয়ে বিরোধী দলের অবরোধ ঠেকাইনি? কারও সঙ্গে আমাদের বিরোধ নেই। উনাদের (সড়ক পরিবহন ও যোগাযোগ মন্ত্রণালয়) সঙ্গে বৈঠক না হওয়া পর্যন্ত আমাদের কর্মসূচি চলবে।

সেতুমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি আরও বলেন, ‘আইন মেনে নেওয়া সম্ভব না, আগামী পার্লামেন্টে আমরা গেলে এটা করব- এই কথাগুলো তিনি আগে বলতে পারতেন। আমরা এক মাস আগে তাকে চিঠি দিলাম, এই সময়ে আমাদের সঙ্গে বসে কথাগুলো বললেন না কেন? আজকে যখন আমাদের আন্দোলন শুরু হলো তখন উনি টিভিতে বললেন। উনি বা উনার মন্ত্রণালয় বললও না যে উনাদের ডাকেন, তাদের সঙ্গে কথা বলি।’

আইন সম্পর্কে অবরোধকারীদের ধারণা নেই : আনিসুল হক

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, সংসদে পাস হয়ে যাওয়া সড়ক পরিবহন আইন পরিবর্তনের দাবিতে অবরোধ পালনকারী শ্রমিকদের এ আইন সম্পর্কে ধারণা নেই।

গতকাল রোববার রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে নারী ও শিশু আদালতের ওরিয়েন্টেশন কোর্সের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।

পরিবহন শ্রমিকদের ধর্মঘটের বিষয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে আনিসুল হক বলেন, রাস্তায় যারা ধর্মঘট করছে, তারা সড়ক পরিবহন আইন না জেনে-না বুঝেই করছে। এই আইন সম্পর্কে অবরোধকারীদের ধারণা নেই। এ সময় শ্রমিকদের আইনটি ভালো করে পড়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আনিসুল হক বলেন, কঠোর কোনো শাস্তির বিধান রেখে সড়ক পরিবহন আইন তৈরি করা হয়নি। তারপরও তারা না বুঝে এই অবরোধ করছে। আমি তাদের অবরোধ প্রত্যাহারের আহ্বান জানাই।

অপর এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী বলেন, মন্ত্রিসভার অনুমোদন ছাড়া গণপ্রতিনিধিত্ব অধ্যাদেশ (আরপিও) সংশোধন সম্ভব নয়। বিদ্যমান সময়ের মধ্যে এসব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা যাবে না। এ কারণে, আজ সোমবার মন্ত্রিপরিষদ সভায় এ বিষয়ে করণীয় সম্পর্কে নির্দেশনা চাওয়া হবে।

মইনুল হোসেনের জামিনের বিষয়ে ড. কামাল হোসেনের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রী বলেন, যে জেলায় মামলা হবে আইনানুসারে সেই জেলার বিচারকদের অধিকার আছে সেই মামলা সম্পর্কে শোনার। সুতরাং মইনুলের বিরুদ্ধে যেখানে মামলা হয়েছে তাকে সেখানে যেতে হবে অথবা মামলাটি স্থানান্তর করে ঢাকায় আনতে হবে। এ কারণে ব্যারিস্টার মইনুল হোসেনের জামিন হয়নি।
তিনি বলেন, মইনুল হোসেন সম্পর্কে আদালত যে সিদ্ধান্ত নিয়েছে সেখানে আইনের কোনো ব্যত্যয় হয়নি। বিচার বিভাগ স্বাধীন, সেখানে সরকারের কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

ড. কামাল হোসেন সম্পর্কে আইনমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান প্রণয়ন কমিটির চেয়ারম্যান হিসেবে উনি নিজেই তো সংবিধান মানেন না।’
ডিজিটাল সিকিউরিটি আইন প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, এ আইনটি আর সংশোধনের সুযোগ নেই। এই আইন গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে খর্ব করবে না।

শ্রমিকদের দাবি মানা সম্ভব নয় : ওবায়দুল কাদের
আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, এই মুহূর্তে সড়ক পরিবহন আইন পরিবর্তন করে শ্রমিকদের দাবি মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। এখন আইন পরিবর্তন করা যাবে না। পরবর্তী পার্লামেন্ট পর্যন্ত তাদের অপেক্ষা করতে হবে।
গতকাল রোববার রাজধানীর সেতু ভবনে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা বলেন।
পরিবহন শ্রমিকদের ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, তাদের অপেক্ষা করতে হবে। এর মধ্যে কোনো ন্যায়সংগত বিষয় থাকলে পরে আলোচনার মাধ্যমে বিবেচনা করা হবে।
শ্রমিকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বলতে চাই, ধর্মঘট প্রত্যাহার করুন, মানুষকে কষ্ট দিয়ে কোনো লাভ নেই।

সেতুমন্ত্রী বলেন, বিএনপিকে সঙ্গে নিয়ে ড. কামাল হোসেনের জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নির্বাচন নিয়ে যে সাত দফা দাবি তুলেছেন, সেটাও এই মুহূর্তে মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। ঐক্যফ্রন্ট হা-হুতাশ করছে। বিরোধী দলের কাজই হলো সমালোচনা করা। তারা সাত দফা দাবি দিয়েছে। এই মুহূর্তে সাত দফা মেনে নিতে হলে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে। যা কোনো অবস্থাতেই সম্ভব না। এ দাবির ব্যাপারে তারা অনড় থাকলে অস্থিরতার পরিবেশ তৈরি হতে পারে।

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, দেশে এখন শান্তিপূর্ণ নির্বাচনী পরিবেশ বিরাজ করছে। বিরোধী দলের দরকার হলো, একটা নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন। রাষ্ট্রপতি সার্চ কমিটি গঠন করে সব দলের প্রতিনিধিকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন গঠন করেছেন। তাই কমিশন পুনর্গঠনের কোনো সুযোগ নেই। আসলে তারা ইলেকশন চায় কি না, সেটাও বড় প্রশ্ন।

সম্প্রতি জাতীয় সংসদে পাস করা সড়ক পরিবহন আইন বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করছে শ্রমিকরা। গতকাল ভোর থেকে আট দফা দাবিতে ৪৮ ঘণ্টার ধর্মঘট ডেকেছে তারা। এতে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশে সাধারণ যাত্রীরা সীমাহীন দুর্ভোগে পড়েছে।

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম

http://www.bartamankantho.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *