ইভিএম: মন্ত্রিসভায় উঠছে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইলেক্ট্রনিক ভোটিং মেশিন (ইভিএম) ব্যবহারের সুযোগ রাখতে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের প্রস্তাব মন্ত্রিসভার বৈঠকে উঠতে যাচ্ছে।

সোমবার (২৯ অক্টোবর) মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদনের জন্য তোলা হতে পারে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘আরপিও সংশোধনে ইসির প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে আইন মন্ত্রণালয় তা মন্ত্রিসভা বৈঠকে তোলার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে পাঠিয়েছে। সোমবার সেটা বৈঠকে তোলা হবে।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে সোমবার সকাল ১০টায় প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে মন্ত্রিসভার এই বৈঠক বসবে। যেহেতু নভেম্বরের শুরুতে তফসিল, তাই একাদশ জাতীয় নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করতে হলে সংসদের চলতি অধিবেশনেই তা পাস করতে হবে।

এর আগে গত ৩ সেপ্টেম্বর ইসি সচিব হেলালুদ্দীন আহমদ বলেছিলেন, ‘আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছে কমিশন।’

গত ৩০ আগস্ট জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার করে ভোট গ্রহণের বিধান যুক্ত করে আরপিও সংশোধনের প্রস্তাব অনুমোদন দেয় নির্বাচন কমিশন।

বর্তমান আরপিও অনুযায়ী, সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের কোনও বিধান নেই। আর নির্বাচন কমিশন সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিষয়টি আরপিওতে অন্তর্ভুক্ত করতে চাচ্ছে। ইভিএম অন্তর্ভুক্তি ছাড়াও আরপিও বাংলায় রূপান্তরসহ কয়েকটি সংশোধনী রয়েছে।

একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে আরপিওতে ইভিএম ব্যবহারের বিধান অন্তর্ভুক্ত হলে সীমিত আকারে এই ভোটযন্ত্র ব্যবহারের পরিকল্পনা রয়েছে নির্বাচন কমিশনের।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার শুরু হয়ে গেছে। জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহার নির্ভর করবে আইন-কানুন, প্রশিক্ষণ ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দের সমর্থনের ওপর।’

এ প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেছিলেন বলেন, ‘আমরা এখন প্রস্তুতিমূলক অবস্থানে রয়েছি। এখন এটা আইন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদনের ব্যাপার। ইভিএম ব্যবহার হবে কিনা সেটা আইন মন্ত্রণালয় ও মন্ত্রিসভার আলোচনা হবে। জাতীয় সংসদে যদি আইন পাস হয়, তখন আমাদের প্রশিক্ষিত লোকজন যদি সক্ষম হয় এবং জনগণের কাছে যদি গ্রহণযোগ্য হয় তাহলে যতটুকু পারবো ইভিএম ব্যবহার করবো।’

সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের জন্য ৩ হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন। বর্তমানে প্রকল্প প্রস্তাবটি পরিকল্পনা কমিশনে আছে। এই অর্থ দিয়ে ১ লাখ ৮০ হাজার ইভিএম কেনার পরিকল্পনা করেছে সংস্থাটি। এই সংখ্যক ইভিএম দিয়ে ১০০ আসনে ভোট নেওয়া যাবে।

২০১০ সালে এটিএম শামসুল হুদার নির্বাচন কমিশন বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছ থেকে ইভিএম তৈরি করে ভোটব্যবস্থায় প্রযুক্তির ব্যবহার শুরু করেন। ওই কমিশনের পরিকল্পনা ছিল স্থানীয় নির্বাচনে এই ভোটযন্ত্র ব্যবহার করে ভোটার আস্থা অর্জনের পর ২০১৯ সাল নাগাদ জাতীয় নির্বাচনে ব্যবহার করা হবে। তাদের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় পরবর্তীতে কাজী রকিবউদ্দীন আহমদের কমিশনও এই যন্ত্র ব্যবহার করে।

কিন্তু ২০১৩ সালে রাজশাহী সিটি নির্বাচনে একটি কেন্দ্রে ইভিএম বিকল হয়ে পড়লে তার কারণ উদ্ভাবন করা এবং সমাধান করতে পারেনি রকিব কমিশন। ফলে তারা এই যন্ত্র নষ্ট করে, নতুন করে ইভিএম তৈরি করে ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়।

রকিব কমিশনের সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে বর্তমান কেএম নূরুল হুদা কমিশন বাংলাদেশ মেশিন টুলস ফ্যাক্টরির কাছ থেকে নতুন করে ইভিএম তৈরি করে নেয়। এই ইভিএমের দাম পড়ছে বুয়েটের তৈরি ইভিএমের পাঁচগুণ।

সিইসি বলেছেন, ‘নতুন এই ইভিএম আগেরগুলোর চেয়ে উন্নত এবং এগুলো দিয়ে কারচুপি করা সম্ভব নয়।’

বিএনপিসহ অধিকাংশ রাজনৈতিক দল সংসদ নির্বাচনে ইভিএম ব্যবহারের বিরোধিতা করলেও গত ৩০ অগাস্ট নির্বাচন কমিশন আরপিও সংশোধনের সিদ্ধান্ত নেয়। পরে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ সংশোধনের প্রস্তাব যাচাইয়ের জন্য তা আইন মন্ত্রণালয়ে পাঠায় কমিশন।

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম

http://www.bartamankantho.com

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *