‘ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে বিতাড়নের সব ব্যবস্থা করেছে কমিশন’

নিউজ ডেস্ক | বর্তমানকণ্ঠ ডটকম:
সরকারের প্রশাসন, আইন-আদালত, পুলিশসহ-অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, আওয়ামী সন্ত্রাসী বাহিনী, সর্বোপরি নির্বাচন কমিশন স্বয়ং জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের প্রার্থীদের নির্বাচনের মাঠ থেকে বিতারণের সব ব্যবস্থা সম্পন্ন করেছে বলে অভিযোগ করেছেন জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট নেতারা।

বুধবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকেল সোয়া ৫টায় রাজধানীর পুরানা পল্টনে ঐক্যফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিরোধী এ জোটটির আহ্বায়ক ও গণফোরাম সভাপতি ড.কামাল হোসেনের পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করে এ অভিযোগ করেন গণফোরামের কেন্দ্রীয় নেতা জগলুল হায়দার আফ্রিক।

সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘সরকারের সব বাহিনী ঐক্যফ্রন্টকে নির্বাচন থেকে দূরে রাখতে উঠেপড়ে লেগেছে। স্বয়ং নির্বাচন কমিশনও এতে যুক্ত। ধারাবাহিকভাবে প্রতিটি নির্বাচনী এলাকায় ঐক্যফ্রন্ট নেতাকর্মীদের ওপর হামলা-মামলা, গ্রেফতার ও প্রার্থীদের ওপর নৃশংস আক্রমণ জনমনে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।’

আফ্রিক অভিযোগ করে বলেন, ‘নীলনকশার নির্বাচনে ভোট কারচুপির সংবাদ যেন গণমাধ্যমে না আসে, সেজন্য পরিকল্পিতভাবে নানা ধরনের বাধা সৃষ্টি করছে নির্বাচন কমিশন। মোটসাইকেল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা, একসঙ্গে একাধিক মিডিয়ার সাংবাদিক একই ভোটকক্ষে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে ‘মূতির মতো দাঁড়িয়ে থেকে ভোটকেন্দ্র পর্যবেক্ষণ’, সরাসরি সম্প্রচার করা যাবে না, সাংবাদিকরা মোটরসাইকেল ব্যবহার করে সংবাদ সংগ্রহ করতে পারবেন না- এসব পক্ষপাতিত্বেরই আলামত। নির্বাচন কমিশন এমন নীতিমালা জারির মাধ্যমে মূলত মুক্ত ও স্বাধীন গণমাধ্যমকে গলাটিপে হত্যা করার প্রচেষ্টা চালাচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন কমিশনের এসব বিধিনিষেধ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করছে যে, কমিশন গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণ করে ক্ষমতাসীনদের নীলনকশা বাস্তবায়নের অপচেষ্টায় লিপ্ত।’

আফ্রিক বলেন, ‘নির্বাচনের দিন ইন্টারনেটের গতি কমানোর জন্য ফোর জি পরিবর্তে টু জি ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে, ভোটকেন্দ্রে সংঘটিত নানা রকম ঘটনার সংবাদ মিডিয়ায় দ্রুত আসার ক্ষেত্রে তা প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।’

এই কঠিন সময়ে দেশের জনগণই ঐক্যফ্রন্টের মূল ভরসা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এ পরিস্থিতির পরিবর্তন এখন করতে পারে শুধুমাত্র দেশের জনগণ তথা ভোটারগণ। যারা অতীতে কোনোদিন ভুল করেননি, তারা এবারও ভুল করবেন না। সব ভয়-শঙ্কাকে জয় করে ঐক্যবদ্ধভাবে ভোট কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে এদেশের সংগ্রামী মানুষ আগামী ৩০ ডিসেম্বর গণতন্ত্রের বিজয় নিশ্চিত করবে। আর সেই ভোটযুদ্ধে জয়লাভের মধ্য দিয়ে দেশের মালিকানা জনগণ আবারও ফিরে পাবে। আমাদের স্বাধীনতা হবে অর্থবহ।’

সংবাদ সম্মেলনে গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মোহসীন মন্টু, কার্যকরী সভাপতি অ্যাডভোকেট সুব্রত চৌধুরী, বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, বিকল্পধারার মহাসচিব শাহ মো.বাদল প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *