ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের শপথ নেয়ার আহ্বান কাদেরের

নিউজ ডেস্ক | বর্তমানকণ্ঠ ডটকম:
জনগণের রায় মেনে নিয়ে ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের শপথে অংশ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের।

মঙ্গলবার (১ জানুয়ারি) আওয়ামী লীগ সভাপতির রাজনৈতিক কার্যালয়ে ঐক্যফ্রন্টের ৭জনের শপথ না নেয়ার ঘোষণা নিয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘আমি এখনও মনে করি তারা জনগণের রায়কে অপমান করবে না। তারা গতবার নির্বাচন বর্জন করে ভুল করেছেন এবারও জনগণ যে রায় তাদের দিয়েছে, এতে সন্তুষ্ট-অসন্তুষ্ট এটা তাদের ব্যাপার। এর মধ্যে যে কয়জন নির্বাচিত হয়েছে তারা জনগণের রায়ে নির্বাচিত হয়েছেন। জনগণের রায়কে যেন অসম্মান না করে এটা আমি বলতে চাই।’

ঐক্যফ্রন্ট নেতাদের আবারও ভুল না করার পরামর্শ দেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।

নির্বাচন প্রত্যাখান করে আন্দোলনের ঘোষণাকে কিভাবে দেখছে আওয়ামী লীগ, এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘বিএনপি দেশে আন্দোলন করার মত কোনও অভজেকটিভ কন্ডিশান নেই। আন্দোলনে অংশ নেয়ার মত কোনও সাবজেকটিভ প্রিপারেশনও তাদের নেই। এ অবস্থায় আন্দোলনের সুত্র তাদের বিরুদ্ধে। গতকাল সংবাদ সম্মেলনে তাদের নেতাদের চেহারার দিকে তাকিয়ে দেখেছেন? এত নার্ভাস, তারা হতাশায় ভেঙে পড়েছেন। নেতারাই হতাশায় ভেঙে পড়েছেন, কর্মীরা কিভাবে আশাবাদী হবে? কর্মীদের মধ্যে কিভাবে গতি পাবে?’

ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলন করতে হলে সেরকম চেতনা দরকার, সেরকম মানসিকতা দরকার, সু-সংগঠিত করতে সেরকম প্রস্তুতি দরকার। সেই প্রস্তুতিটা তাদের মধ্যে আছে বলে মনে হয় না। যদি থাকতো তাহলে সারা দেশে তাৎক্ষণিক একটা মিছিল করতে পারতো, এরকমটাও দেখলাম না।’

তিনি আরও বলেন, ‘নির্বাচন নিয়ে যে আপত্তি তারা করেছে, এর একটা প্রতিবাদও কোথাও দেখলাম না। বিএনপি নেত্রী জেলে তার পরেও তারা কোনও সাংগঠনিক শক্তি প্রদর্শন করতে পারে নি। যা তারা এতদিন করতে পারে নি, এখন তাদের আরও ভাঙ্গাহাট। এই ভাঙ্গাহাট নিয়ে নতুন করে কোন আন্দোলনের সক্ষমতা অর্জন করবে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই। বিএনপি অচিরেই কোনও আন্দোলন গড়ে তুলবে এটা ভাবার কোনও কারণ নেই।’

নতুন সরকার কি চ্যালেঞ্জ নিচ্ছে এমন প্রশ্নের জবাবে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নতুন সরকারের চ্যালেঞ্জ একটাই, যে প্রতিশ্রুতি নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছে এবং বিজয় পেয়েছে। দেশের জনগণের কাছে জাতির কাছে ইশতেহারে যে ওয়াদাগুলো করেছেন সেটার বাস্তবায়নই হচ্ছে আমাদের চ্যালেঞ্জ।’

এবারের নির্বাচন ৭০, ৫৪ সালের মত হয়েছে দাবি করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সারা দেশে যে গণজোয়ার, ৭০ সালের পর আমরা এমন জোয়ার দেখিনি। ৭০ সাল, ৫৪ সালের নির্বাচনের ফলাফলটা যেমনটা নৌকার পক্ষে হয়েছিল এবারও সেরকমটাই হয়েছে। তবে আমি অবাক হয়েছি, এতবড় দল বিএনপি যার কোনও সাংগঠনিক অবকাঠামোই নেই। তারা যে আন্দোলন করতে পারেনি, সাংগঠনিক কাঠামোতে দুর্বলতা এটাই ছিল বড় কারণ। এবারকার নির্বাচনে দেখা গেছে, তারা তাদের সেই সাংগঠনিক শক্তিটা প্রদর্শন করতে পারেনি। তাদের অবস্থা এতই দুর্বল নড়বড়ে।’

নির্বাচনে হারার আগেই তারা হাল ছেড়ে দিয়েছে মন্তব্য করে সেতুমন্ত্রী বলেন, ‘কোথাও তাদের পোষ্টার নেই ব্যানার ছিলোনা, এগুলো কিসের লক্ষণ? তাহলে নির্বাচন করবে কেমন করে। নির্বাচন করার মত কোনও প্রস্তুতিই তাদের মধ্যে ছিল না। তবে মওদুদ আহমেদ সাহেবের সঙ্গে এমন জয় আমি আশা করি নি। আমি ভাবছিলাম তিনি থাকবেন, উনার এজেন্টরা থাকবেন, তাহলে তো ভোটের ব্যবধানটা অনেক কমে যেত। এত ব্যবধান হতো না। আসলে নির্বাচনের নামে একটা নাটক তারা করেছেন, সারা বিশ্বকে দেখানোর জন্য এবং নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার জন্য। নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেও নির্বাচনের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি তা গ্রহণ করেন নি।’

জাতীয় পার্টি এবারেও প্রধান বিরোধী দল হিসেবে অবস্থান করছে সে ক্ষেত্রে তাদেরকে কি মন্ত্রীত্ব দেওয়া হবে না প্রধান বিরোধী দল হিসেবে রাখা হবে এমন প্রশ্নের জবাবে ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘সরকারের প্রধানমন্ত্রী বিষয়টা শরিক দলগুলোর সঙ্গে আলাপ আলোচনার পরে সিদ্ধান্ত নিবেন।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *