Wed. Sep 18th, 2019

Bartaman Kanho

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম

বিএনপি-জামায়াতের মদদেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা: প্রধানমন্ত্রী

ডেস্ক রিপোর্ট | বর্তমানকণ্ঠ ডটকম:
তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত সরকারের মদদেই ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
বুধবার (২১ আগস্ট) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন প্রাঙ্গণে ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় নিহতদের স্মরণে আলোচনা সভায় তিনি একথা বলেন। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলায় শহীদদের স্মরণে এ সভার আয়োজন করে কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সেদিন আমি ওই এলাকা ছেড়ে আসার সাথে সাথে শুরু হয় লাঠিচার্জ। সিটি করপোরেশনের গাড়ি এনে পানি দিয়ে আলামত মুছে ফেলা হয়। আমি জানতে পেরে নানককে বলি, আলামত নষ্ট করছে তোমরা ওখানে যাও। আমাদের নেতাকর্মীরা সেখানে গিয়ে গ্রেনেড হামলার স্থলগুলোতে লাল পতাকা পুঁতে আলামত রক্ষার চেষ্টা করে। অবিস্ফোরিত গ্রেনেড পাওয়া গিয়েছিল। সেটি সেনা অফিসার নিয়ে যায়, সে সেটা রাখতে চেয়েছিল বলে সে চাকরি হারায়। কোনো আলামত না রাখার চেষ্টা তারা করেছিল। এ হামলা সরকারের পক্ষ থেকে করা হয়েছিল।

২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াতের মদদে হামলা হয়েছিল উল্লেখ করে সরকার প্রধান বলেন, ‘সে সময় হাইকোর্টের বিচারপতি জয়নাল আবেদিনকে দিয়ে একটি তদন্ত কমিটি করে। তারা ফরমায়েশি রিপোর্ট দেয়। সাধারণ মানুষ ধরে এনে জজ মিয়াকে আসামি করে আক্রমণ ও ষড়যন্ত্রের হোতা হিসেবে হাজির করে নাটক সাজানো হয়। এখন আস্তে আস্তে সবই বের হচ্ছে। সাধারণ গ্রামের মানুষ সে এত গ্রেনেড কোথা থেকে কিনবে?’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সাংবাদিকরা অনেক কিছু বের করে এনেছেন। এটিও বের করতে পারেন, খালেদা জিয়ার বড় ছেলে তারেক রহমান ৫ নম্বরে তার শ্বশুরবাড়িতে আগের ১০ মাস থাকতো। ঠিক ১ আগস্ট ক্যান্টনমেন্টের বাসায় কেন চলে যায়, এ সময় ওখানে বসে বসে তার কাজ কী ছিল।’

শেখ হাসিনা বলেন, ‘ওই দিন বাসায় পৌঁছে আমি সবার খোঁজ নেয়া শুরু করলাম। আহতদের উদ্ধার করতে কাউকে আসতে দেয়া হয়নি। ঢাকা মেডিক্যালে বিএনপিপন্থী চিকিৎসকরা হাসপাতাল থেকে চলে গিয়েছিল। আমাদের যারা সমর্থক তারাই সেদিন কাজ করেছে, আমাদের লোকজন রক্ত দিয়েছে। আমি চেষ্টা করেছি সারা ঢাকা শহরের হাসপাতালের খোঁজ নিয়েছি। আমি খোঁজে খোঁজে এনে চিকিৎসার ব্যবস্থা করেছি, পরে বিদেশে পাঠিয়েছি। শান্তিনগরের ক্লিনিকে সাহারা আপাকে খুঁজে পেলাম। সে সময় সরকারের পক্ষ থেকে বলা হলো, শেখ হাসিনা হ্যান্ডব্যাগে গ্রেনেড এনে নিজে মেরেছে। আমরা স্যুইসাইড করতে গিয়েছি যেন। অতগুলো গ্রেনেড হাতে করে নিয়ে যাওয়া সোজা কথা নয়। আমি এক্সপার্ট হলাম কবে? ওরা কী না পারে। মিথ্যা অপবাদ ছড়িয়ে দিলো।’

আওয়ামী লীগ সভানেত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ‘এদেশে হত্যাকান্ডের রাজনীতি বিএনপি করছে এবং বিএনপিনেত্রী খালেদা জিয়া মানুষকে পুড়িয়ে মেরে স্বস্তি পায়। ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলার পর ২০১৫ সালের ৫ জানুয়ারি থেকে শুরু হয় দেশব্যাপী সন্ত্রাস-অরাজগতা। প্রায় তিন মাস ৬৫ জন নেতাকর্মী নিয়ে গুলশান কার্যালয়ে বসে খালেদা জিয়া পেট্রলবোমা মেরে মানুষ পুড়িয়ে মারার হুকুম দিয়েছে। হত্যা ও খুনের রাজনীতি যে তারা করে, সেটি আরও একবার প্রমাণ করেছে। কিন্তু এত মানুষ পুড়িয়ে মারল, এজন্য খালেদা জিয়া কোনো দিন কোনো লজ্জাবোধ করেনি।’

তিনি বলেন, ‘বরং তাদের উদ্দেশ্য ছিল মানুষ পুড়িয়ে মেরে আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত করা এবং আওয়ামী লীগ সরকারকে ক্ষমতা থেকে উৎখাত না করে নাকি তিনি ঘরেই ফিরবেন না। সুতরাং বিএনপি গণতন্ত্র বিশ্বাস করে না, মানবাধিকার বিশ্বাস করে না এবং তারা মানুষের কল্যাণকে বিশ্বাস করে না।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এদেশে নারী ও শিশু হত্যা শুরু হয়েছে ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকান্ডের মধ্যে দিয়ে। শুধু ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্টই নয়, ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত যেসব বোমা হামলা, হত্যা এবং ২০১৫ সালে পেট্রলবোমা হামলা ও পরিকল্পনাকারীদের শাস্তি দিতেই হবে। হত্যাকারী যেই হোক, যে দলেরই হোক না কেন তাদের উপযুক্ত শাস্তি পেতেই হবে। অপরাধীদের কোনো ছাড় দেয়া হবে না। অন্যায়কে প্রশ্রয় দেব না, দেয়া যায় না সে যেই হোক।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘২১ আগস্ট বিএনপি-জামায়াত আমাকে হত্যা করতে চেয়েছে, কিন্তু পারেনি। আল্লাহ আমাকে বাঁচিয়ে রেখেছে, কারণ আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে বিশ্বাস করে এবং দেশের মানুষের শান্তি চায়। কিন্তু যখনই আওয়ামী লীগ দেশকে উন্নয়নের দিকে নিয়ে যায় তখনই বিএনপি গণতন্ত্রের নামে হত্যাকান্ডে লিপ্ত হয়। বিএনপি যখন গণতন্ত্রের কথা বলে তখন আমার খারাপ লাগে। কারণ যারা গণন্ত্রের নামে মানুষ পুড়িয়ে মারে তাদের মুখে গণতন্ত্র মানায় না।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *