| ১৭ই জানুয়ারি, ২০২০ ইং | ৩রা মাঘ, ১৪২৬ বঙ্গাব্দ | ২২শে জমাদিউল-আউয়াল, ১৪৪১ হিজরী | শুক্রবার ভাগ্নিকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মামা খুন – Bartaman Kanho

Bartaman Kanho

বর্তমানকণ্ঠ ডটকম

ভাগ্নিকে উত্যক্তের প্রতিবাদ করায় মামা খুন

রাজশাহীর বাঘায় ভাগ্নিকে উত্যক্ত করার প্রতিবাদ করায় হাসুয়া দিয়ে কুপিয়ে মামা নাজমুল হককে নির্মমভাবে খুন করেছে বখাটে সুমনসহ তার লোকজন। একই সাথে আহত করা হয়েছে স্কুল ছাত্রীর বাবা ও ভাইকে। আহতদের স্থানীয় স্বাস্থ্য কেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে। মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় বাঘা-লালপুর সীমান্ত এলাকার সুলতানপুর-মনিহারপুর গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, লালপুর উপজেলার মনিহারপুর গ্রামের আরজেত আলীর ছেলে সুমন (১৯) একই গ্রামের সাজাহান আলীর অষ্টম শ্রেণি পড়ুয়া মেয়ে বৈশাখীকে গত ৬ মাস ধরে উত্যক্ত করে আসছে। এ বিষয়ে স্কুল ছাত্রীর পরিবার থেকে বারবার বলার পরেও সুমন ওই ছাত্রীকে দিনের পর দিন উত্যক্ত করেই চলেছে।

সোমবার বিকেলে ওই ছাত্রী পাইভেট পড়ে বাড়ি ফেরার সময় সুমন তার হাত ধরে টানা হেচড়া করে। এ ঘটনায় পরদিন মঙ্গলবার দুপুরে সুমনকে শাসন করে স্কুল ছাত্রীর বাবা সাজাহান আলী ও তার সন্তান তুষার (২২) ।

তুষার জানায়, দুপুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যায় মনিহারপুর বাজার থেকে আমার বাবা বাড়ি ফেরার সময় ভোলার মোড়ে তাকে মারপিট করে সুমনসহ তার লোকজন। এ খবর পেয়ে আমি ও আমার মামা নাজমুল হক (২৮) একটি মোটরসাইকেল যোগে দ্রুত ঘটনা স্থলে যাই। আমরা সেখানে পৌঁছা মাত্র সুমনের নেতৃত্বে-মিন্টু, পানা, রানা, সুলতান, সম্রাট, আরিফ, কামরুল, মিঠু ও নাজমুল এসে আমাদের লাঠি ও লোহার রড দিয়ে এলোপাতাড়ি ভাবে মারপিট শুরু করে এবং মামার দুই হাতের কবজিতে হাসুয়া দিয়ে কোপ দিয়ে পালিয়ে যায় তারা।

ঘটনার একপর্যায় এলাকার কিছু লোকজন আমার বাবাকে লালপুর স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে যান। আর কিছু সংখ্যক লোকজন আমি ও আমার মামাকে বাঘা উপজেলা স্বাস্থ্য কেন্দ্রে নিয়ে আসেন। এসময় কর্তব্যরত চিকিৎসক আমার মামাকে মৃত ঘোষণা করেন।

বাঘা স্বাস্থ্য কেন্দ্রের কর্তব্যরত চিকিৎসক কামরুনাহার কান্তা জানান, অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে নাজমুল হককে স্বাস্থ্য কেন্দ্রে আনার পথে তিনি রাস্তায় মারা যান। অপরজন তুষারকে চিকিৎসা দেয়ার পর এখানে ভর্তি করা হয়েছে।

বাঘা থানা অফিসার ইনচার্জ (ওসি) নজরুল ইসলাম জানান, যিনি খুন হয়েছেন (স্কুল ছাত্রীর মামা) নাজমুল হকের বাড়ি বাঘা উপজেলার সুলতানপুর গ্রামে। তার পিতার নাম আজিজুর রহমান। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Print Friendly, PDF & Email

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *