উত্তরা এবং তুরাগে হিজড়াদের অত্যাচারে এলাকাবাসি অতিষ্ট

রাসেল খান,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: উত্তরা এবং তুরাগে হিজড়াদের অত্যাচারে এলাকাবাসিরা অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। হিজড়ারা রাতের বেলায় সুযোগ বুঝে ছিনতাই, মাদক ব্যবসা,অসামাজিক কার্যকলাপ ও তালিকা ভূক্ত আসামীদেও বাসায় আশ্রয় দেওয়া সহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকান্ড জড়িয়ে পড়ছে বলে এলাকাবাসি ও ভুক্তভোগীদের কাছ থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উত্তরা,তুরাগ,উত্তরখান,দক্ষিনখান এলাকাতে বর্তমানে প্রায় শতাধিক হিজড়া বসবাস করছে। হিজড়ারা  দু’ধরনের হয়ে থাকে। এদের মধ্যে দেখতে কেউ  পুরুষ হিজড়া আবার কেউ মহিলা হিজড়া। সাধারণত দিনের বেলায় হিজড়ারা দল বেঁধে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়। আবার কেউ সন্ধ্যার পর বাসা থেকে সেজে ঘুজে শিকারের আশায় বের হয়। এদের মধ্যে বেশ কিছু হিজড়া কাপড় পড়ে আবার কেউ প্যান্ট শার্ট ও গেঞ্জি পড়ে রাস্তায় রাস্তায় ঢুল নিয়ে ঘুরে বেড়ায়। হিজড়ারা বিভিন্ন দোকান পাট, মার্কেট ও বাসা বাড়িতে দল বেধে গিয়ে টাকা তুলে। কেউ টাকা দিতে না চাইলে তার ওপর রেগে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে হিজড়ারা। এদের ভয়ে ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ তড়িগড়ি করে ঝামেলা এড়াতে টাকা দিয়ে থাকে। টাকা দিতে কেউ না চাইলে হিজড়ারা তাকে নাজেহাল করে।
উওরা এলাকা সরজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, হিজড়াদের মধ্যে বেশ কয়েকটি গ্রুপ রয়েছে। তুরাগ, উওরা, উওরখান ,দক্ষিণখান থানা এলাকায় প্রায় দেড় শতাধিক হিজড়া পরিবার পরিজন নিয়ে বসবাস করছে। এদের মধ্যে হিজড়ার দল নেতা তথা সর্দারনীদের অধীনে থাকে হিজড়ারা। সর্দারনীদের মধ্যে অনেকে তুরাগ, দক্ষিণখান এলাকায় আলিশান বাড়ি বানিয়ে এবং বাসা ভাড়া নিয়ে বসবাস করছে। এদের মধ্যে টঙ্গীর ষ্টেশন রোড মাছিমপুর এলাকায় কাকলী হিজড়া, অঞ্জনা, আলাদীর বাড়ি রয়েছে। অপর দিকে, দক্ষিণখানের ফায়দাবাদ, কাঠালতলা, কোর্ট বাড়ি, আজমপুর কাঁচা বাজার, কসাইবাড়ি, আশকোনা এলাকায় প্রায় ৩০/৪০জন পুরুষ ও মহিলা হিজড়া বসবাস করে। এদের মধ্যে ফায়দাবাদ ও কাঁঠালতলা এলাকায় রাহেলা, স্বপ্না, সুিম, প্রেমা, ঊর্মী, কল্পনা হিজড়ার বাড়ি রয়েছে। রাহেলা হিজড়া হল এদের প্রধান গুরু। দক্ষিণখানে রাহেলা হিজড়া দীর্ঘ দিন ধরে বসবাস করছেন। তার রয়েছে একটি আলিশান বাড়ি। তার বাড়িতে হল হিজড়াদের ঘাঁটি। এখানে প্রায় ১৪/১৫জন হিজড়া ভাড়া থাকে। পাশাপাশি তুরাগের কামার পাড়া,ও রাজাবাড়ি, ধউর, রানাভোলা, বাউনিয়া এলাকায় প্রায় ৩০/৩৫ জন হিজড়া থাকে। আপন হিজড়া হল এই গ্রুপর লিডার। সবাই তাকে গুরু বলে ডাকে।
এলাকাবাসিরা জানায়, উওরা, তুরাগ, উওরখান ও দক্ষিণখান এলাকায় প্রায় দেড়শত পুরুষ ও মহিলা হিজড়া রয়েছে। এলাকা নিয়ে হিজড়াদের মধ্যে মাঝে মধ্যে ঝগড়া ও মারামারির ঘটনা ঘটে। এক পক্ষ টাকা তুলতে গেলে অপর পক্ষ টাকা তুলতে বাধা দেয়। এই নিয়ে উওরা এবং তুরাগ থানা এলাকায় মামলা সহ একাধিক জিডির ঘটনা ইতি পুর্বে রেকর্ড করা হয়েছে। গত বছর উওরা ১২ নং সেক্টরের এক বাসায় টাকা তুলা কোলের শিশুকে কেন্দ্র করে বাড়ির মালিকের অস্ত্রের গুলিতে এক হিজড়া আহত হয়। এছাড়া উওরার এলাকায় বাড়ির মালিক, সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীরা মিলে হিজড়াদের একাধিক বার পিটিয়ে আহতও করেছে। এর পর ও হিজড়াদের অত্যাচার কমেনি। বরং তাদের অত্যাচার অনেকটা বেড়ে গেছে। এলাকাবাসি ও সাধারণ মানুষ এদের সীমাহীন অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে উঠেছে। বর্তমান সরকার এই সব হিজড়াদের পূর্ণবাসন ও কর্ম সংস্থার কথা মাথায় নিয়ে বেপক কাজ করে যাচ্ছে।
এলাকাবাসিরা অভিযোগ করে জানান, হিজড়া রাতের বেলায় ছিনতাই, মাদক সেবন ও বিক্রি সহ অসামাজিক কার্যকলাপে লিপ্ত থাকে। সুযোগ বুঝে এরা পথচারী, রিকসা ওয়ালাদের নগদ টাকাও মোবাইল সেট জোর করে ছিনিয়ে নিয়ে যায় অসংখ্য পুরুষ ও মহিলা হিজড়া দলবেধে রাতে বাসা থেকে সেজে ঘুজে বের হয়ে উত্তরা তুরাগ, আব্দুল্যাহপুর, বিমান বন্দর, রেলষ্টেশন, পার্ক, শপিংমল সহ বিভিন্ন এলাকায় অসামাজিক কার্যকলাপ অবাধে দীর্ঘ দিন ধরে চালিয়ে আসছে বলে ভুক্তভোগী ও এলাকাবাসিরা অভিযোগ করেন।
তুরাগের বাউনিয়া বাদালদী এলাকায় প্রায় ২৫/৩০ জন হিজড়া বসবাস করে থাকে। তাদের মধ্যে অনেকে ভিবিন্ন অপরাধের সাথে জড়িত বলেও জানাযায়। তারা সকাল ভেলা বাসা থেকে বেড় হয়ে তুরাগের বিভিন্ন স্থানে যায় এবং যে সব বাড়িতে ছোট বাচ্চা জন্ম গ্রহন করে সে সব বাচ্চাদের নিয়ে ঢোল বাজিয়ে নাচগান কওে পরিবারের লোকজনদেও নিকট মোটা অংকের টাকা দাবী করেন আপন হিজড়া সংঘের লোকজনরা। বাচ্চার পরিবার টাকা দিয়ে অপারকতা প্রকাশ করলে অশ্লিল কথা বলেন এবং হিচড়ারা নিজেদের শরিরের কাপড় খুলে ফেলে তাদের চাহিদা মত টাকা না পাওয়া পর্যন্ত তারা সেখান থেকে আসেই না। বর্তমানে হিজড়াদের অত্যাচারে অতিষ্ট হয়ে পরেছে। উত্তরার আব্দুল্যাহপুর ফায়দাবাদ কোর্টবাড়ি এলাকার হিজড়া সর্দারনী রাহেলা জানান, আমরা জন্মগত ভাবে হিজড়া। আমার এখানের একটি বাড়ি রয়েছে। আমার বাসায় অনেক হিজড়া বসবাস করে।
রাহেলা হিজড়া আরো জানান, আমরা দক্ষিণখান সহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় যায়। নাজ গান করি এবং বাজার থেকে টাকা পয়সা ও কাঁচা পন্য উঠিয়ে কোন মতে জীবিকা নির্বাহ করে থাকি। তিনি আরো জানান,সমাজে হিজড়ারাও মানুষ তাদেরও বেঁচে থাকার আছে অধিকার।
তুরাগ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মাহবুবে খুদা জানান, উত্তরা এবং তুরাগে অসংখ্য হিজড়া রয়েছে। আমি শুনেছি হিজড়ারা নাকি বিভিন্ন বাসায় গিয়ে টাকার জন্য মানুষকে নানা ভাবে হয়রানী ও মারধর করে। কাউকে হয়রানীর ব্যাপারে কোন লিখিত অভিযোগ পেলে অবশ্যই তার বিরুদ্বে আমরা আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করব।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -