নেত্রকোণায় যথাযোগ্য মর্যাদায় মুক্তিযুদ্ধের নাজিরপুর দিবস পালিত

শ্রী অরবিন্দ ধর, বর্তমানকন্ঠ ডটকম: বুধবার নানা কর্মসূচীর মধ্য দিয়ে নেত্রকোণায় মুক্তিযুদ্ধের নাজিরপুর যুদ্ধ দিবস পালিত হয়েছে। ১৯৭১ সালের এই দিনে স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় মুক্তিযোদ্ধারা নেত্রকোণার কলমাকান্দার নাজিরপুরে পাকিস্তানি বাহিনীর সাথে সন্মুখ রনাঙ্গনে ৭ জন মুক্তিযোদ্ধা শহীদ হন। প্রতিবছরের ন্যায় এ বছর বিভিন্ন কর্মসূচীর মধ্যে ছিল নাজিরপুরে নির্মিত শহীদদের সমাধিতে বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষের ফুলেল শ্রদ্ধা, শহীদদের উদ্দেশ্যে গার্ড অব অনার ও আলোচনা সভা। কর্মসূচীতে উপস্থিত ছিলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য ছবি বিশ্বাস, ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক আনোয়ার হোসেন আকন্দ, জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান প্রশান্ত কুমার রায়, পুলিশ সুপার জয়দেব চৌধুরী, জেলা আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক আশরাফ আলী খান খসরু, জেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার নুরুল আমিন, নেত্রকোণা পৌর মেয়র নজরুল ইসলাম খান, কলমাকান্দা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের কমান্ডার সুলতান গিয়াস উদ্দিন, নেত্রকোণা সদর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার আইয়ুব আলীসহ প্রমুখ।

নেত্রকোণা জেলার তৎকালীন মুক্তিযোদ্ধা উইং কমান্ডার শামছুজ্জোহা জানান এলাকাটি নেত্রকোণার হলেও শহীদ মৃক্তিযোদ্ধাদের অধিকাংশই বৃহত্তর ময়মনসিংহের বিভিন্ন অঞ্চলের ছিলেন। শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের সাত জনই ছিলেন নাজমুল হক তারা অর্থাৎ তারা কোম্পানি যোদ্ধা।  

স্থানীয়সূত্রে  জানা যায় বিরিশিরি থেকে কলমাকান্দায় পাকসেনাদের ক্যাম্পে রসদ যাবে ২৬ জুলাই সকাল ৮টার দিকে। এ সংবাদে বিএসএফ ক্যাম্পের অধিনায়ক বেশ তৎপর হয়ে ওঠেন। পরিকল্পনা হয় দূর্গাপুর-কলমাকান্দা নদীপথের নাজিরপুর বাজারের কাজেই পাকহানাদারদের আক্রমণ করা হবে। পরিকল্পনা অনুযায়ী কমান্ডার নাজমুল হক তারার নেতৃত্বে ৪০ জন মুক্তিযোদ্ধা নাজিরপুর পৌঁছে যায় ২৫ জুলাই সন্ধ্যায়। ৩টি পৃথক দলে বিভক্ত হয়ে নাজিরপুর বাজারের সবক’টি প্রবেশ পথ আগলে এ্যামবুস করেন মুক্তিযোদ্ধারা। অপেক্ষা চলছিল কখন আসবে পাকহানাদাররা। ২৬ জুলাই সকাল ৯টা অতিক্রান্ত হলো পাকহানাদারদের হদিস নেই। মুক্তিযোদ্ধারা একে একে তাদের এ্যাম্বুস তুলে নেয়ার সময় হঠাৎ হানাদার বাহিনীর মুখোমুখী অবস্থান দেখা যায়। গুলি, পাল্টা-গুলি উভয়পক্ষের তুমুল যুদ্ধ। মুক্তিযোদ্ধাদের অবস্থান পরিবর্তন ও অতর্কিত যুদ্ধে তারা অনেকাংশে অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল। এরপরেও তাঁরা যুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছিল। পাকহানাদাররা এক পর্যায়ে ক্রলিং করে মুক্তিযোদ্ধাদের ডিফেন্স এলাকায় ঢুকে পড়ে। দুপুর দিকে পাকবাহিনী মুক্তিবাহিনীর এলএমজি পজিসন নির্দিষ্ট করে তারা কোম্পানির অবস্থানের উপর ফায়ার শুরু করে। পাকহানাদারদের গুলিতে ৭ জন শহীদ হন। এছাড়া পাকবাহিনীর গুলির আঘাতে কমান্ডার নজমুল হক তারার কণ্ঠনালী  ছিড়ে যায়। সাত বীর শহীদ মুক্তিযোদ্ধারা হলেন - (১) শহীদ জামাল উদ্দিন (বীরবিক্রম), (২) শহীদ দ্বিজেন্দ্র চন্দ্র বিশ্বাস, (৩) শহীদ ভবতোষ চন্দ্র দাস, (৪) শহীদ ইয়ার মাহমুদ, (৫) শহীদ ফজলুল হক, (৬) শহীদ ডাঃ আব্দুল আজিজ ও (৭) শহীদ নুরুজ্জামান প্রমুখ। তবে এলাকাবাসীর ধারণা এ যুদ্ধে ১৭ জন পাকবাহিনী মারা যান।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -