ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের ফের সংঘর্ষ

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: শোক দিবসের দিন ব্যানার ছেঁড়াকে কেন্দ্র করে হাটহাজারীতে ক্ষমতাসীন দলের দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই পৃথক দুই ঘটনায় ফের গুলিবর্ষণ, বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে বুধবার দিবাগত রাত পৌণে বারোটায় উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চবি ১ নম্বর গেইটস্থ সইজ্যা পাড়ায় গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে।

অপরদিকে, ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট বাজারে রাত সাড়ে দশটায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে পিতা মুজীব ছাত্র কল্যাণ পরিষদের কার্যালয় ভাঙচুর করেছে প্রতিপক্ষ। সংবাদ পেয়ে উভয় ঘটনায় পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

সূত্র জানায়, বুধবার দিবাগত রাত এগারটায় উপজেলার ফতেপুর ইউনিয়নের চবি ১ নম্বর গেইটস্থ সইজ্যা পাড়ায় এলাকায় ৭/৮টি মোটরসাইকেল ও ২টি সিএনজি চালিত অটো রিকশাযোগে অজ্ঞাতনামা ২৫ থেকে ৩০জন যুবক অন্তত ৫রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এসময় এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি হয়। এরপরই থেমে থেমে আরো অন্তত ১৫রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটে। রাতের অন্ধকারে চলতে থাকে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ওই এলাকায় কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা মঞ্জুরুল আলম চৌধুরী সমর্থক মিজানুর রহমান এবং উত্তরজেলা আওয়ামীলীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ইউনুচ গণি চৌধুরীর অনুসারী ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান বসবাস করেন। ঘটনার জন্য এক পক্ষ অন্য পক্ষকে দায়ী করছে। পরে রাত ৩টা পর্যন্ত থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।

কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের সদস্য মিজানুর রহমান জানান, তিনি ওই এলাকায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। বাসার সামনে কয়েকজন কর্মীকে নিয়ে আড্ডা দেওয়ার সময় ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক হাসানের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২০-২৫জন তাদের ধাওয়া দেয়। এসময় তারা অন্তত ৯ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করে। এসময় তাদের পিটুনিতে ছাত্রলীগ কর্মী আরাফাত আহত হন।

আবার পাল্টা অভিযোগ করে ছাত্রলীগ সাধারণ সম্পাদক হাসান বলেন, মঞ্জুরুল আলম চৌধুরীর ২৫ থেকে ৩০জন অনুসারী অতর্কীতভাবে তাদের এলাকায় এসে অন্তত ২০ রাউন্ড ফাঁকা গুলি বর্ষণ করেছে। পরে এলাকাবাসী ধাওয়া দিলে তারা ঘটনাস্থল থেকে সঠকে পড়ে।

অপরদিকে, ধলই ইউনিয়নের কাটিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়ে শোক দিবসের একটি অনুষ্ঠানের শুরু থেকে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ইউনিয়ন ছাত্রলীগ নেতাকর্মীদের বিভিন্ন উপগ্রুপের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করে। ওই অনুষ্ঠানে চট্টগ্রাম জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদকের এম এ সালাম প্রধান অতিথি ছিলেন। সভা শেষে অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করার পর রাত দশটার দিকে পিতা মুজীব ছাত্র কল্যাণ পরিষদের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি মাটিতে ফেলে দেওয়া হয়। এনিয়ে উত্তেজনা বিরাজ করলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

ঘটনার বিষয়ে পিতা মুজীব ছাত্র কল্যাণ পরিষদের দায়িত্বশীল ও উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ইরফান চৌধুরী নয়ন বলেন, সভা শেষে তাদের প্রতিপক্ষ তাদের কার্যালয়ে ব্যাপক ভাঙচুর চালিয়ে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি মাটিতে ফেলে দেয়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দেওয়ার কথা জানান তিনি।

থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. বেলাল উদ্দিন জাহাঙ্গীর বলেন, উভয় ঘটনায় সংবাদ পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। কাটিরহাট বাজারে ছাত্রলীগ কার্যালয় ভাঙচুর এবং জাতীর জনক ও প্রধানমন্ত্রীর ছবি মেঝেতে ফেলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বসহকারে তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -