হাওরবাসীর ঈদের আনন্দ মিশে আছে হাওরের জলে

জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: সুনামগঞ্জের এক ফসলী বোরো ধান অকাল বন্যায় হারানো হাওর পাড়ের লাখ লাখ কৃষক পরিবারে নেই ঈদুল আযহার উৎসাহ-উদ্দিপনা। আছে নিজের ও সন্তানদের নতুন কাপড় কিনে দিতে না পারায় হতাশা,বুকভড়া র্দীঘশ্বাস ক্ষতিগ্রস্থ কৃষক পরিবারে মাঝে। আর ক,দিন পর ঈদুল আযহা কিন্তু হাওরবাসীর কারো পকেটে নেই নগদ টাকা। ফলে হাওরপাড়ের মানুষ গুলোর ঈদের সকল আনন্দ চোখের জল হয়ে যেন হাওরের পানিতেই মিশে একাকার হচ্ছে। অথছ এই সময় নতুন কাপড় কেনা কেউবা নতুন কাপড় বানানো,কেউ গরু,ছাগল বা অন্য পশু কোরবানী করার জন্য হাটে পশু কেনার জন্য হাওরপাড়ের বাজার গুলোতে হাজার হাজার মানুষ জনের ভীড় থাকত প্রত্যেকটি  বাড়িতেই সাজ সাজ রব থাকত সেখানে কেবলেই শুন্যতা বিরাজ করছে। ঈদের আনন্দ দূরের কথা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন দ্বীপ সাদৃশ্য গ্রাম গুলোতে টাকার অভাবে অনেকেই বাজার-সদাই করতেও পারছে না। ফসলহানীর পর থেকেই নিত্য প্রয়োজনীয় দব্য মূল্যের দাম আকাশ ছোঁয়া।

জেলার হাওরবাসী বর্ষার এই ৬মাস বেকার থাকে হাওরবাসী। এই সময়ে হাওরে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করা মানুষ গুলো হাওরে মাছ না পাওয়ায় অসহায় বেকার সময় পার করছে। জেলার বিভিন্ন হাওরপাড়ের ক্ষতিগ্রস্থ লোকজনের সাথে কথা বলে জানাযায়-এবার বছরের শুরুতেই চৈত্র মাসে জেলার দিরাই,শাল্লা,জগন্নাথপুর,ধর্মপাশা,জামালগঞ্জ,দোয়ারা বাজার,বিশ্বম্ভরপুর ও তাহিরপুর উপজেলার হাওরের বাঁধ ভেঙ্গে জীবন বাচাঁর একমাত্র হাতিয়ার জেলার ৯০শতাংশ বোরো ধান পানিতে তুলয়ে যাওয়ায় লাখ লাখ কৃষক পরিবারের মাঝে এখন ঈদের আনন্দ নেই। আছে বুকভরা দ্বীর্ঘশ্বাস,আতর্œনাধ আর আহাজারি। এর রেশ কাটতে না কাটতেই সম্প্রতি বন্যায় আরো চরম ক্ষতির শিকার হয়েছে হাওরবাসী এ যেন মরার উপর খাড়ার গাঁ।

সরকারী ফেয়ার প্রাইজ,ওএমএস চাল,টিসিবির পন্য বন্ধ,ভিজিএফ কার্ডে অনিয়মের কারনে সঠিক ভাবে পায় নি সহায়তা হাওরবাসী। সরকারী সহযোগীতা যা ছিল তাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। হাওরপাড়ের সাদেক আলী,রফিকুল ইসলাম জানান,বোরো ধানের উপর নির্ভরশীল কৃষক পরিবার গুলোর চাষাবাদের গরু আর গোলা (ধান রাখার পাত্র) এখন শূন্য। এখন নেই ঘরে নগদ টাকা ও খাবার চাল। এ অবস্থায় নিজের ও পরিবারের জন্য দু-মুটো খাবার জোগাড় করাই দায় হয়ে পরেছে। বেশির ভাগ হাওরবাসী অর্ধহারে,অনাহারে,অভাব-অনটন কে সঙ্গী করে খেয়ে না খেয়ে অতিকষ্টে সামনে ঈদের সকল আনন্দ ভুলে এখন দিনপার করছে ত্রানের আশায়। বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা ও সরকারের সু-নজর না থাকায় এই মানব সম্পদ এখন সমাজের ভোজা হচ্ছে দিন দিন। যার জন্যে এই অনুন্নত অবহেলিত হাওরবাসীর কণ্ঠে কেবলেই শুধু বাচাঁর আকুতি।

করিম মিয়া জানান,কি কইমু ভাই এবার বোরো ধান হারিয়ে এক বারেই নিঃশ্ব হয়ে গেছি এখনত জান যায় খাইমু কই থ্যাইকা। এই বার ত বৈশাইকা গেল আর ক দি আগে আগুন মাইয়া ধান ও গেল। ঈদ আইলেও কি হইব হাতে টাকা নাই পোলা মাইয়ারে কি ভাবে নতুন কাপড় কিনা দিমু আর জীবন চালাইমু বুজতা পারতাছিনা। কোরবানীর কথা ত চিন্তাই করতা পারি না। শুনি সরকার নাকি হাওর উন্নয়নের লাগি সড়ক যোগাযোগ ব্যবস্থা,মিল-কলখারকানা,বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করে আমরার ব্যাপারে উদাসীন কেরে। জমির উদ্দিন,সাজন মিয়া বলেন,বোরো ফসলহানীর পর কোন আনন্দই নেই হাওরপাড়ে ঈদের আনন্দ আর এখন থাকব কি কইরা। বর্ষায় হাওরে মাছ ধইরাই জীবন বাচঁত কিন্তু হাওরের বোরো ধান ডুবার পর থেইকাই মাছ নাই। সরকারী ভাবে মাছের পোনা হাওরে ছাড়ার কথা ছাড়ছে দায়সারা ভাবে নাম মাত্র।

তাহিরপুর উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন আ,লীগ নেতা মাসুক মিয়া,তাহিরপুর উপজেলার মুক্তিযুদ্ধা সন্তান খেলু মিয়া সহ জেলার সচেতন মহল মনে করেন-হাওরের বেকার জনগোষ্টীকে সম্পদে পরিনত করার জন্য বোরো ধান চাষাবাদের পাশাপাশি বিকল্প কাজের জন্য মিল-কলখারকানা স্থাপন, হাওরে বিশাল নারী গোষ্টীকে কুটির,হস্ত শিল্পে পারদর্শী এবং আধুনিক ও উন্নত প্রশিক্ষনের মাধ্যমে হাঁস ও মুরগি লালন-পালনের সঙ্গে যুক্ত করা হলে পুরুষের পাশাপাশি নারীও দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ন ভূমিকা রাখবে,অভাব থাকবে না জীবন বাঁচার অবলম্বন খুঁেজ ঈদের আনন্দের মতই জীবন উপভোগ করতে পাবে হাওরবাসী।

তাহিরপুর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) ফেরদৌস আলম আখঞ্জি বলেন-সামনে ঈদের আনন্দ ভুলে হাওরবাসীরা এখন জীবন কি ভাবে বাচঁবে সেই চিন্তায় আছে। পর পর দুবছর বোরো ধান হারানো কৃষক পরিবারের জন্য শিক্ষা,স্বাস্থ্য,কর্মসংস্থান,যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতির প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া এখন সময়ের দাবীতে পরিনত হয়েছে। না হলে এই অসহায় হাওরবাসীর জীবনে প্রতি বছরেই ঈদের আনন্দের পরির্বতে দুঃখের শেষ থাকবে না। সুনামগঞ্জ জেলা ত্রান ও পূর্নভাসন কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাহববুর রহমান জানান,জেলার বন্যা দূর্গত এলাকা গুলোতে ২১০টন চাল ও প্রত্যেক উপজেলায় নগদ ১লাখ টাকা করে মোট ৭লাখ টাকা দেওয়া হয়েছে। সরকারী ভাবে বন্যা দুর্গত পরিবার কে সহয়াতার কোন কমতি নেই।   

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -