গাজীপুরে ধর্ষণে অন্তঃসত্বা শিশুর দায়িত্ব নিল ইউএনও

গাজীপুর ,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: গাজীপুরের শ্রীপুরে ধর্ষনে অন্তঃসত্বা শিশুর দায়িত্ব নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)। ২ অক্টোবর সোমবার দুপুরে ইউএনও রেহেনা আকতার নির্যাতিতা শিশুকে তার বাড়ী থেকে এনে শ্রীপুর উপজেলা হাসপাতালে ভর্তি করান।

অন্তঃসত্বা শিশুটি শ্রীপুরের একটি দাখিল মাদ্রাসার তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী। এ দিকে এ ঘটনায় গত ২২ সেপ্টেম্বর শ্রীপুর থানায় মামলা হলেও অভিযুক্ত যুবককে এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করতে পারেনি শ্রীপুর থানা পুলিশ।

ছাত্রীর পরিবার সূত্রে জানা যায়, হতদরিদ্র এক রিকশা চালকের মেয়ে উপজেলার একটি দাখিল মাদরাসার তৃতীয় শ্রেণীর ছাত্রী (১১) মাদ্রাসায় আসা যাওয়ার পথে সাইটালিয়া গ্রামের নূরু মিয়ার ছেলে এক সন্তানের জনক আমানুল্লাহ (২৬) উত্যক্ত করত। গত কয়েকমাস আগে মাদ্রাসা ছুটির পর বাড়ী ফেরার পথে সাইটালিয়ার মোল্লা খালির টেক নামক স্থানে জঙ্গলে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করে। ঘটনার বিষয়ে কাউকে জানালে তাকে মেরে ফেলার হুমকি দেয় আমানুল্লাহ। এর পর থেকে আমানুল্লাহ বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি দেখিয়ে প্রায়ই ওই ছাত্রীর সাথে দৈহিক মেলামেশা করতো। এতে ওই ছাত্রী অন্তঃস্বত্বা হয়ে পড়লে এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়।

এ ঘটনা জানতে পেরে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ডঃ দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীরের নির্দেশে শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রেহেনা আকতার সোমবার ওই শিশুর বাড়ীতে গিয়ে তাকে পুষ্টিকর খাবার ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে শ্রীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসেন

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাঃ মইনুল হক খান জানান, মেয়েটি এখন অপুষ্টিতে ভোগছে তার যথাযথ চিকিৎসা দরকার। উপজেলা হাসপাতালের পক্ষ থেকে তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হবে।

শ্রীপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) রেহেনা আকতার জানান, এখন থেকে ছাত্রীর লেখাপড়া, চিকিৎসা, নিরাপত্তাসহ সন্তান প্রসবের পর পূর্ণবাসনের দায়িত্ব পালন করবে শ্রীপুর উপজেলা প্রশাসন। প্রাথমিক অবস্থায় তাকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার টাকা দেয়া হয়েছে।

গাজীপুরের জেলা প্রশাসক ডঃ দেওয়ান মুহাম্মদ হুমায়ূন কবীর জানান, এ বিষয়ে শিশুটিকে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পর্যাপ্ত আইনী সহায়তা প্রদান করা হবে। সন্তান ভূমিষ্ট ও প্রাপ্ত বয়স্ক হওয়ার আগ পর্যন্ত তার দায়িত্বও প্রশাসনের থাকবে। আমরা মা ও মেয়ের উভয়ের স্বার্বক্ষনিক দায়িত্ব পালন করব।

এ দিকে গত ২২ সেপ্টেম্বর শিশু ছাত্রীর মা বাদী হয়ে শ্রীপুর থানায় মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা শ্রীপুর থানার এস আই এখলাস উদ্দিন জানান, শিশুর ডাক্তারী পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত শিশুর জবান বন্দী গ্রহণ করেছেন। আসামী পলাতক থাকায় এখন পর্যন্ত গ্রেফতার করা যায়নি।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -