অপরাধ (bn)

প্রশাসনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে হাতীবান্ধায় ফের বালু উত্তোলন

লালমনিরহাট,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: উপজেলা প্রশাসনের অভিযানের চার দিনের মাথায় এলাকায় মাইকিং করে ফের বালু উত্তোলন উদ্বোধন করলেন হাতীবান্ধা উপজেলার গড্ডিমারী ইউপি চেয়ারম্যান ডাঃ আতিয়ার রহমান। এসময় তিনি প্রশাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৫-২০ হাতরে মধ্যে শ্যালো মেশিন বসান। একজন জনপ্রতিনিধির আইন লঙ্ঘনের এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তোলপাড়া চলছে।

জানা গেছে, লালমনিরহাট -১ (হাতীবান্ধা-পাটগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের নাম ব্যাবহার করে তিস্তা নদী থেকে অবৈধভাবে পাথর ও বালু উত্তোলন করে আসছে সরকার দলীয় স্থানীয় নেতাকর্মীরা। এমন সংবাদ বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর নড়ে চড়ে বসে উপজেলা প্রশাসন। গত বুধবার (১০ মে ) রাতে তিস্তা নদীর বিভিন্ন স্থানে শুরু হয় অভিযান। এসময় অভিযান চালিয়ে উপজেলা প্রশাসন ৩ টি ভারি শ্যালো মেশিন, ৬ টি নৌকা ও বিপুল পরিমাণ পাইপ উদ্ধার করে।

এ ঘটনার চার দিনের মাথায় গত রোববার (১৪ মে) চেয়ারম্যান ডাঃ আতিয়ার রহমান এলাকায় রীতিমতো মাইকিং করে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৫-২০ হাতরে মধ্যে (তালেব মোড়ে) শ্যালো মেশিন বসিয়ে ফের বালু উত্তোলন উদ্বোধন করেন। এসময় চেয়ারম্যানের সাথে ছিলেন, তার বড় ছেলে স্থানীয় সংসদ সদস্য মোতাহার হোসেনের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা আবু বক্কর সিদ্দিক শ্যামল।

উদ্বোধনী বক্তৃতায় চেয়ারম্যান উপজেলা প্রশাসনের প্রতি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি লোকাল এম পি (মোতাহার হোসেন)’র নির্দেশেই বালু উত্তোলনের জন্য মেশিন বসিয়েছি। বিভিন্ন পত্রিকায় মিথ্যা সংবাদ প্রকাশ করে প্রশাসন দিয়ে তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে।’

এ কারনেই স্থানীয় সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন তিনি। সংবাদ কর্মীদের অকথ্যভাষায় গালিগ্যলাজ করে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কোন উন্নয়নের বাতি জ্বলতে দিবে না বর্তমান যুগের সাংবাদিকরা। তাই এদের সাংবাদিকতা বন্ধ করে দিতে হবে।’

স্থানীয়রা জানান, তিস্তা তীরের গড্ডিমারী ইউনিয়নের তালেব মোড়ে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ১৫-২০ হাতের মধ্যে শ্যালো মেশিন দিয়ে বালু উত্তোলন করায় বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ে। এ সংক্রান্ত খবর বিভিন্ন পত্রিকায় প্রকাশিত হলে উপজেলা প্রশাসন অভিযান চালিয়ে অবৈধ পাথর উত্তোলন বন্ধ করে দেয়। এ কারনেই স্থানীয় সাংবাদিকদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন ওই ইউপি চেয়ারম্যান।

ইউপি চেয়ারম্যানের এধরণের বক্তব্যের পর মিশ্রপ্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরাম লালমনিরহাট জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক আসাদুজ্জামান সাজু বলেন, ‘চেয়াম্যানের এমন বক্তব্য গোটা সাংবাদিক সমাজকে ব্যাথিত করেছে। ব্যক্তিকে নিয়ে মন্তব্য করা যায় কিন্তু গোটা সাংবাদিক সমাজ নিয়ে কটুক্তি করা কখনই সমীচিন নয়।’ চেয়ারম্যানের এ বক্তব্য প্রত্যহার করে নেয়ার দাবিও জানান তিনি।

অভিযানের পর ফের বালু উত্তোলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে হাতীবান্ধা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সৈয়দ এনামুল কবির  বলেন, ‘যান্ত্রিক উপায়ে বালু বা পাথর উত্তোলন করা আইনত দ্বন্ডনীয় অপরাধ। বালু উত্তোলনের জন্য কখনই অনুমতি দেয়া হয়নি, হবেও না।’ তবে তিনি জানান, ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠিয়ে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে লালমনিরহাট জেলা প্রশাসক আবুল ফয়েজ মেঃ আলাউদ্দন খাঁ বলেন, ‘মেশিন বসিয়ে বালু বা পাথর উত্তোলন করা আইনত দ্বন্ডনীয় অপরাধ। ভ্রাম্যমান আদালত ব্যবস্থা না থাকায় ঘটনাস্থলে কোন অফিসার পাঠানো যাচ্ছে না।’ তবে বিষয়টি পুলিশকে জানিয়ে ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দেন তিনি।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -