অপরাধ (bn)

তুরাগ থানার সামনে কেরোসিন ঢেলে আত্মহত্যার চেষ্টা

রাসেল খান, বর্তমানকণ্ঠ ডটকম:রাজধানীর তুরাগ থানায় মেয়ে অপহরন ও ধর্ষন হওয়ার ঘটনায় উদ্ধার হওয়া ভিকটিম গত ২৩শে মে মামলা দিতে গিয়ে ৫ দিন ধরে পুলিশের সহযোগীতা না পাওয়ার কারনে ভিকটিমের মা গত ২৭শে মে রাতে তুরাগ থানার গেটে কেরাসিন দিয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছেন।

জানাযায় ভিকটিমের মা তুরাগ ধউর এলাকার মিঃ বাকের পেষ্টি কোম্পানীর ফেক্টরীর জিএম কে মামলায় আসামী না করার কারনে থানার সামনে আত্মহত্যা করার চেষ্টা চালায়। পওে স্থানীয় সাংবাদিকদের সহযোগিতায় ইমন, সুজন, রুবেল এবং শাহীন সহ মোট ৪ জনকে আসামী করে একটি মামলা করেন।

ধর্ষীতার পরিবারের দাবী ঘটনার এতোদিন হয়ে গেলও পুলিশের পক্ষ থেকে কোন ব্যবস্থা নেয়নি। এরি দ্বারাবাহিকতায় শনিবার দুপুর ভেলায় কিলো ডিউটি রত পুলিশ সদস্য এসআই জেমস্ ভিকটিমের মাকে ভয় দেখায় মামলা তুলে নেয়ার জন্য।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, বাদী দ্বীন ইসলামের মেয়ে দীপ্তি বেগমকে প্রায় দেড় বছর পুর্বে ময়মনসিংহের জেলার গোলাম মোস্তফার ছেলে শরিফুল ইসলামের নিকট  বিয়ে দেন তার বাবা এবং মা । এর কিছুদিন পর দীপ্তি বেগম এর স্বামী শরিফুল ইসলাম বিদেশ চলে যায় । স্বামী শরিফুল ইসলাম বিদেশ যাওয়ার দীপ্তি বেগম তুরাগে তার বাবার বাড়িতেই বসবাস করে ।

জানাযায় উক্ত মামলার প্রধান আসামী ইমন পিতা মোঃ সওদাগর থানা ও জেলা -টাঙ্গাইল প্রায়ই দীপ্তি বেগমকে উত্তক্ত করতো । গত ২৭ এপ্রিল রাত অনুমান ৯টায় দিকে দীপ্তি বেগম তার মামার দোকানের  উদ্দেশ্যে বের হলে মিঃ বাকের কোম্পানীতে কর্মরত প্রধান আসামী ইমন, সুজন, রুবেল এবং শাহীন এর যোগসাজসে একটি সাদা রঙ এর প্রাইভেট কারে করে অপহরন করে নিয়ে যায়। পরে দ্বীন ইসলাম তুরাগ থানায় ২৮শে এপ্রিল একটি হারানো জিডি করেন। জিডি তদন্ত কর্মকর্তা এসআই খাগেন্দ্র। দীপ্তি বেগমের বাবা পুলিশকে জানান যে, মিঃ বাকের কোম্পানীর জিএম ইত্তেখার আহমেদ কে জিজ্ঞাসাবাদ করলে ও চাপ দিলে দীপ্তি বেগমকে উদ্ধার করা যাবে।

অপহরনের প্রায় এক মাস পর ২৩শে মে সকাল ৭ টার দিকে প্রধান আসামী ইমন, দীপ্তি বেগমকে মিঃ বাকেরের পান্থপথ শোরুমের সামনে রেখে কৌশলে পালিয়ে যায় । পরে শোরুমের ম্যানেজার বাদী দ্বিন ইসলামকে খবর দিলে দীপ্তি বেগমকে উদ্ধার করে তুরাগ থানায় নিয়ে আসে। কিন্তু তুরাগ থানা মামলা না নিতে গড়িমসি করে ভিকটিমকে মেডিকেল না করিয়ে বাড়ী পাঠিয়ে দেয়। পরে সাংবাদিকরা বিষয়টি জানতে পেরে তুরাগ থানার ওসি মাহবুবে খোদার নিকট জানতে চাইলে তিনি মামলা নিবেন বলে জানান । অবশেষে ভিকটিম উদ্বারের তিনদিন পরে ২৬শে মে পুলিশ মামলা নেয়।

পরদিন ২৭/৫/১৭ইং ভিকটিমকে ডাক্তারী পরিক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। ভিকটিম ঢাকার সিএমএম কোর্টে ২৮/৫/১৭ইং এ মেজিষ্ট্রেটের নিকট জবানবন্দি দেয়। জবানবন্দিতে ভিকটিমকে অপহরনের পর প্রায় মাস খানেক ধরে চট্রগ্রামের বদ্দারহাটের কোন এক বাসায় রেখে প্রধান আসামী ইমন তাকে প্রতিদিন ধর্ষন করে বলে জানায় । তুরাগ থানা পুলিশ পুরোপুরি নিস্ক্রিয়তার ও অবহেলার কারনে ধর্ষিতা উদ্ধারের ৪ দিনের সময় মামলা হওয়ায় ও ৫ দিন অতিবাহিত হওয়ায় দেরী করে ডাক্তারী পরীক্ষায় ধর্ষনের আলামত মিলবে কিনা প্রশ্ন থেকে যায় ।

জানাযায় বাদী একজন গামেন্টস শ্রমিক। তিনি সাংবাদিকদের জানান, তার মেয়ে নিঁখোজের পর থেকে তিনি নিঁখোজ জিডি করার জন্য তুরাগ থানায় ঘুরেছেন কিন্তু এক মাসে ও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি।মেয়ে দীপ্তি বেগম ভিকটিম উদ্বারের তিনদিন পরে ২৬শে মে সাংবাদিকদের চাপের মুখে পুলিশ মামলা নেয় ।

বাদী দ্বীন ইসলাম জানান, আসামীরা মিঃ বাকের কোম্পানীর জিএম ইত্তেখার আহমেদ প্রভাবশালী লোক হওয়ায় পুলিশ শুরু থেকেই আমাদের সহযোগীতা করছে না পুলিশ টাকা খেয়ে তাদের পক্ষে কাজ করছে বলে অভিযোগ করছে বাদী পক্ষ।

 

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -