অপরাধ (bn)

পরিত্যক্ত বাড়িতে চাচার হাতে ধর্ষণের শিকার কলেজছাত্রী

টাঙ্গাইল,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: ধর্ষণ আর নির্যাতন যেন থামছেইনা। চলছে বর্বর যুগের মতো অবস্থা। আর এমনই এক ঘটনা ঘটেছে জেলার সখীপুর উপজেলায়। এক কলেজছাত্রীকে প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে দীর্ঘ ৬ মাস ধরে নিজ পরিত্যক্ত বাড়িতে আটকে রেখে ধর্ষণ করে আসছিল ওই ছাত্রীর চাচা বাদল মিয়া (৪০)।

গত ৩০ জুলাই রবিবার সন্ধ্যায় আশঙ্কাজনক অবস্থায় উপজেলার রতনপুর কাশেম বাজার এলাকা থেকে ওই ছাত্রীকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেছে। অপহরণ ও ধর্ষণের অভিযোগে গত সোমবার রাতে ওই ছাত্রীর ভাই সুমন মিয়া বাদী হয়ে সখীপুর থানায় মামলা দায়ের করেছেন।

ছাত্রীর পরিবারের সদস্যরা জানান, উপজেলার রতনপুর কাশেমবাজার গ্রামের দরবেশ আলীর ছেলে বাদল মিয়া। তিনি ওই ছাত্রীর সম্পর্কে চাচা হন। প্রেমিকের সঙ্গে বিয়ে দেওয়ার কথা বলে বাদল গত ১১ জানুয়ারি ভোরে বাড়ি থেকে নিয়ে যায় ওই ছাত্রীকে। পরে বাদল মিয়ার পরিত্যক্ত একটি নির্জন বাড়িতে নিয়ে খাবারের সঙ্গে ঘুমের ওষুধ ও নেশা জাতীয় খাবার খাইয়ে দীর্ঘ ৬ মাস ১৭ দিন আটকে রেখে ধর্ষণ করে। এসময় তাকে ঘরের দরজা-জানালা বন্ধ করে বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হতো। সপ্তাহে ২ থেকে ১ দিন তাকে সামান্য পরিমাণ খাবার দেওয়া হতো। পরিবারের সঙ্গে বাদলের মধুর সম্পর্ক ছিল। নিখোঁজ হওয়ার পরেও বাদল নিয়মিত আমাদের বাড়িতে যাওয়া-আসা করতো। মেয়েটি নিখোঁজের পর পরিবারের বদনাম হওয়ার ভয় দেখিয়ে বিষয়টি নিয়ে থানায় অভিযোগ করতেও দেয়নি বাদল।

তারা আরো জানান, গত ৩০ জুলাই রবিবার বিকেলে কয়েকজন শিশু বাদল মিয়ার ওই পরিত্যক্ত ঘরের পাশে খেলতে গিয়ে জানালার ফাঁক দিয়ে ওই ছাত্রীর হাত লাড়াতে দেখতে পায়। শিশুরা ভূতের ভয়ে দৌঁড়ে গিয়ে তাদের বাবা মাকে বিষয়টি জানায়। পরে স্থানীয়রা ওই পরিত্যক্ত ঘরের তালা ভেঙে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই ছাত্রীকে উদ্ধার করে সখীপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে। পরে তাকে ওই রাতেই আশঙ্কাজনক অবস্থায় টাঙ্গাইলে শেখ হাসিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থান্তরিত করা হয়।

ওই ছাত্রী বলে, ‘বাদল কাকা আমাকে তার একটি ঘরে আটকে রেখে দিন-রাত পাশবিক নির্যাতন চালায়। ধর্ষণের পর আমাকে সামান্য পাউরুটি, বিস্কুট ও পানির বোতল দিয়ে আসতো। পরে ওইসব খাবার খেয়ে আমি অচেতন হয়ে পড়তাম।’

বুধবার দুপুরে বাদল মিয়ার বিষয়ে খোঁজ নিতে উপজেলার রতনপুর কাশেম বাজার গ্রামে গেলে সেখানে স্থানীয়রা জানান, বাদল জেলা বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদকের পরিচয় দিয়ে এলাকায় দাপটের সাথে চলাফেরা করতেন। তার বাবা মা অনেক আগেই মারা গেছে। বিয়েও করেছে একাধিক। চাকরি দেওয়া, বিদেশ পাঠানো, শালিশ ও বদলির নামে এলাকার বহু মানুষের কাছে তিনি লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। বেশ কিছুদিন তিনি পুলিশের সোর্স পরিচয়ে মাদকের ব্যবসা করতেন।

বাদল মিয়া জেলা বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট জোয়াহেরুল ইসলাম জোয়াহের জানান, জেলা বঙ্গবন্ধু জয়বাংলা সংগঠনে বাদল মিয়া নামে কোন নেতা আছে কিনা তা আমার জানা নেই।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আহসান হাবিব জানান, বাদল এলাকায় একজন লম্পট আর প্রতারক নামে পরিচিত। এমন কোন অপকর্ম নেই যা তিনি করেন না। পুলিশের সোর্স পরিচয়ে এলাকায় নিরীহ মানুষকেও নানাভাবে হয়রানি করত।

মামলার বাদী ওই ছাত্রীর বড় ভাই সুমন মিয়া জানান, বাদল চাচা আমার বোনের এমন সর্বনাশ করবে আমাদের পরিবারের কেউ ধারণাই করতে পারেনি। আমি ওই লম্পটের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।

এ ব্যাপারে সখীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাকছুদুল আলম জানান, ধর্ষণের ঘটনায় মামলা হয়েছে। মেয়েটির ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে। মামলার একমাত্র আসামি বাদল মিয়াকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -