অপরাধ (bn)

অন্তঃসত্ত্বা তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: যশোরের অভয়নগর থানা যুবলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শেখ সাইফারসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে অন্তঃসত্ত্বা এক তরুণীকে গণধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে।

বৃহস্পতিবার (৩ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে সংবাদ সম্মেলন করে এই অভিযোগ করেন ঘটনার শিকার তরুণী। সংবাদ সম্মেলনে ওই তরুণী দাবি করেন, তার বাবা অনেক আগেই মারা গেছেন। চার বোনের মধ্যে তিনজনের বিয়ে হয়ে গেছে।

মা সহ ওই তরুণী একটি ঘর ভাড়া নিয়ে অভয়নগরে বসবাস করতেন। চলতি বছর তিনি ৪ দশমিক ৮০ জিপিএ নিয়ে এসএসসি পাস করেছেন। যশোরের অভয়নগরের জনি সরদারের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল।

অভয়নগরে হোটেল আল সেলিমের মালিক জনি। প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে ২০১৫ সালের ১০ অক্টোবর জনি তাকে হোটেলে ডেকে নিয়ে হুজুর দিয়ে কালেমা পড়ায়। সেখানে কয়েকটি স্ট্যাম্পে সই নিয়ে বলেন যে তাদের বিয়ে হয়ে গেছে।

এরপর থেকে তারা দাম্পত্য সম্পর্ক রক্ষা করতেন। চলতি বছর তিনি অন্তঃসত্ত্বা হওয়ার পর জনি তাকে গর্ভপাত করানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। গত ১০ জুন তাকে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা করেন জনি।

তিনি যখন তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা, তখন গত ৭ জুলাই মীমাংসার কথা বলে তাকে জনির হোটেলে নিয়ে যাওয়া হয়। প্রথমে গর্ভপাত করানোর চেষ্টা হয়। পরে জনি, শেখ সাইফার, সুমন, আজিম মোল্যা ও রুবেল মোল্যা তাকে ধর্ষণ করেন।

তিনি অভয়নগর থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। এরপর নানা চাপে মাকে নিয়ে তিনি প্রথমে যশোর ও পরে ঢাকায় চলে আসেন। সংবাদ সম্মেলনে তরুণীর সঙ্গে তার মা ও এলাকার কয়েকজন যুবক উপস্থিত ছিলেন। ওই যুবকেরা অভিযোগ করেন, তরুণীকে সাহায্য করায় তাদের নিয়মিত হুমকিসহ নানা ধরণের ঝামেলা পোহাতে হয়েছে। একারনে তারা ঢাকায় চলে এসেছেন।

ধর্ষকেরা সবাই সরকারদলীয় নেতাদের কর্মী হিসেবে পরিচিত।

মুদি ব্যবসায়ী পরিচয় দেওয়া এক যুবক বলেন, হোটেল আল সেলিমের পাশেই তার দোকান। তিনি মাঝে মধ্যেই ওই হোটেলের নিচতলায় যান টয়লেট ব্যবহার করতেন। সেদিন গিয়ে ওপর থেকে কান্নার শব্দ পান। এরপর দোতলার একটি কক্ষের সামনে গিয়ে জোরে কান্নার শব্দ শুনে কৌতুহলবশত দরজা ধরতেই সেটি হালকা ফাঁকা হয়ে যায়। ভেতরে তিনি এক তরুণীকে দেখেন।

পরে জনি তাকে তাড়িয়ে দেন। পরে মেয়েটি কাঁদতে কাঁদতে বের হলে তিনি পুরো ঘটনা জানতে পারেন। কিন্তু ঘটনা জেনে মেয়েটির পাশে দাঁড়ানোর সাহস হয়নি তার।

তবে মেয়েটিকে তিনি থানায় যেতে বলেছিলেন। মেয়েটি থানায় গেলেও পুলিশ মামলা নেয়নি। পরে মেয়েটিকে মামলা করতে সাহায্য করতে গেলে অভিযুক্ত ধর্ষণকারীরা তার দোকান বন্ধ করে দেয়। তিনিও পালিয়ে ঢাকায় চলে আসেন।

অভয়নগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনিসুর রহমান বলেন, ‘কয়েক দিন আগে যশোর থেকে সাংবাদিকেরা ফোন করেছিলেন মেয়েটির অভিযোগের বিষয়ে জানতে। তাদের কাছেই মেয়েটির নাম প্রথম শুনি। আবার আজকে আপনার কাছে শুনলাম। আমি যশোরের সাংবাদিকদের বলেছিলাম মেয়েটিকে থানায় পাঠিয়ে দিতে। কিন্তু এরপর মেয়েটি আর আসেনি।’

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -