অপরাধ (bn)

ড্রামের ভেতর লাশ: অতঃপর রহস্য উন্মোচন

চট্টগ্রাম,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: চট্টগ্রাম মহানগরীর এনায়েত বাজার এলাকার রানীরদিঘীতে পাওয়া ড্রামের ভেতর থেকে লাশ উদ্ধারের রহস্য অবশেষে উম্মোচন হয়েছে। মিলেছে হতভাগ্য সে যুবকের পরিচয়ও। নগরীর চিহ্নিত যুবলীগ সন্ত্রাসী ও দুর্ধর্ষ ক্যাডার অমিত মুহুরীর স্ত্রীর সঙ্গে পরকীয়া সন্দেহের জের ধরে যুবলীগ নামধারী সন্ত্রাসীদের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়া হতভাগ্য যুবকের নাম ইমরানুল করিম ইমন (২৬)। তিনি রাউজান পৌরসভার রেজাউল কমিমের ছেলে। নিহত ইমনও যুবলীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন।

নগরীর নন্দনকান ৩ নম্বর গলির হরিশ দত্ত লেনে বেঙ্গল হোল্ডিংসের ষষ্ঠ তলায় অমিতের বাসার বাথরুমে ইমনকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় পুলিশ চট্টগ্রাম ও কুমিল্লায় অভিযান চালিয়ে শফিকুর রহমান প্রকাশ শফি (৪৬) ও ইমাম হোসেন মজুমদার প্রকাশ শিশির (২৭) নামে দুই যুবলীগ সন্ত্রাসীকে গ্রেফতার করেছে। তারা এবং হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী অমিত মুহুরী কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা (বহিষ্কৃত) হেলাল আকবর চৌধুরী বাবরের অনুসারী বলে জানা গেছে।

উল্লেখ্য, গত ১৩ আগস্ট দুপুরে নগরীর কোতোয়ালী থানাধীন এনায়েত বাজার রানীরদিঘীতে অভিযান চালিয়ে পুলিশ সিমেন্ট দিয়ে মুখ ঢালাই করা একটি ড্রাম উদ্ধার করে। পরে পুলিশ শত শত লোকের সামনে সে ড্রাম কেটে এক অজ্ঞাত যুবকের গলিত লাশ উদ্ধার করে।

পুলিশ এনিয়ে অনুসন্ধান করতে গভীর রাতে পুকুরে ড্রাম ফেলার সময় প্রত্যক্ষদর্শী ৩ জনের তথ্য মতে ৩০ আগস্ট রাতে শফি ও শিশিরকে গ্রেফতার করে। পরে তাদের জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডের মূল ঘটনা বেরিয়ে আসে।

কোতোয়ালী থানার ওসি মোহাম্মদ জসিম উদ্দিন আটককৃতদের দেয়া তথ্যে ভিক্তিতে বলেন, ‘নিহত যুবক ইমরানুল করিম ইমনের সঙ্গে যুবলীগের অমিত মুহরীর ঘনিষ্টতা ছিল। সে সুবাদে ইমন মাঝেমধ্যেই অমিত মুহরীর নন্দন কাননের বাসায় যেতো এবং তার বউয়ের সঙ্গে কথা বলতো, সময় কাটাতো। এতে মুহুরীর মনে সন্দেহ জাগে তার বউয়ের সঙ্গে ইমনের অবৈধ সম্পর্ক রয়েছে। তার পরই ইমনকে হত্যার পরিকল্পনা করে একাধিক খুনের আসামি অমিত মুহুরী।’

গ্রেফতারকৃতদের দেয়া তথ্যানুসারে পুলিশ জানায়, হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে গত ৮ আগস্ট রাতে ইমনকে তার বাসায় ডেকে নিয়ে যান অমিত। পরে সেখানে আরও কয়েকজন যুবলীগ সন্ত্রাসী ডেকে নিয়ে ইমনকে রাতভর বাথরুমে আটকে রেখে ভোরের দিকে শ্বাসরোধ করে হত্যার পর লাশ ৩ দিন সেখানেই রেখে দেয়। পরে ড্রাম ভর্তি করে মুখ সিমেন্ট দিয়ে ঢালাই করে ১২ আগস্ট গভীর রাতে ড্রামটি এনায়েত বাজার (জুবলী রোড়ে ভীতরে) রানীরদিঘীতে ফেলে দেয়।

জানা গেছে, রানীরদিঘীতে গভীর রাতে লাশ ভর্তি ড্রামটি ফেলার সময় স্থানীয় ৩ ব্যক্তি তা দেখে ফেলে। পরদিন তাদের দেয়া খবরের ভিত্তিতে পুলিশ ড্রামটি পুকুর থেকে উদ্ধার করে।

পুলিশ জানায়, যুবলীগ নামধারী অমিত মুহুরীর বিরুদ্ধে নগরীর কোতোয়ালী থানাসহ কয়েকটি থানায় একাধিক হত্যাসহ অন্তত এক ডজন মামলা রয়েছে। এছাড়া তার গুরু যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর বাবরসহ তার গ্রুপের সন্ত্রাসীরা ২০১৩ সালের ২৪ জানুয়ারি সিআরবিতে রেলওয়ের টেন্ডার নিয়ে জোড়া খুনের মামলার আসামি। এসব মামলা যুবলীগের কেন্দ্রীয় উপ-সম্পাদক হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর ও সাবেক ছাত্রলীগ নেতা সাইফুল আলম লিমন, যুবলীগ ক্যাডার অমিত মুহুরীরসহ ৬২ জনের নামে আদালতে চার্জশির্ট দাখিল করা হয়েছে।

এ মামলায় অমিত মুহুরীকে ২০১৫ সালের ৫ নভেম্বর নগর গোয়েন্দা পুলিশ গ্রেফতার করেছিল। পরে অমিত জামিনে কারামুক্ত হন।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -