অপরাধ (bn)

পান্না ধর্ষণ : নেত্রকোণা হাসপাতালের আরএমও বদলি

শ্রী অরবিন্দ ধর , বর্তমানকন্ঠ ডটকম: নেত্রকোণা সদরে গণধর্ষণের শিকার হয়ে পান্না আক্তারের আত্মহত্যার ঘটনায় ধর্ষণ গোপনের অভিযোগ উঠার মধ্যে নেত্রকোণা আধুনিক সদর হাসপাতালের (আরএমও) আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তাকে তাৎক্ষণিক বদলি (ষ্ট্যান্ডরিলিজ)করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় চিকিৎসক মোস্তাফিজুর রহমানের বদলির এই আদেশ স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে দেয়া হয়েছে বলে জানান সিভিল সার্জন নজরুল ইসলাম।
 সিভিল সার্জন জানান, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পরিচালক প্রশাসন সমীর কান্তি সরকার স্বাক্ষরিত বদলি পত্রে বরগুনা সদর হাসপাতালে আরএমও পদে যোগ দিতে বলা হয়েছে।
পান্না গণধর্ষণ ও আত্মহত্যার ঘটনায় এই বদলি কি না জানতে চাইলে মো: তাজুল ইসলাম খান বলেন, এই ক্রাইসিসটাতো ছিলই।
এদিকে,  বৃহস্পতিবার দুপুরে পান্না আক্তারের মরদেহ আদালতের নির্দেশে পুনঃময়নাতদন্তের জন্য কবর থেকে তোলা হয়।
বুধবার  “এ মামলায় গ্রেপ্তার দুই আসামি কৌশিক সরকার ওরফে অপু (২৩) ও মামুন মিয়া আকন্দ (২৬) আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।”
কৌশিক এ মামলার প্রধান আসামি। তিনি জেলা ছাত্রলীগের কৃষিবিষয়ক উপসম্পাদক। জবানবন্দি গ্রহণ শেষে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা নেত্রকোণা মডেল থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহ নূর-এ-আলম জানান,, প্রথমে লাশ উদ্ধারের পর হত্যা না আত্মহত্যা জানতে চেয়ে লাশটি ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছিল। সেই প্রতিবেদন এখনও আসেনি।
শুরু থেকেই স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল, পুলিশ ও ময়নাতন্ত সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ধর্ষণ গোপন করার আপচেষ্টা চালানোর অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা আন্দোলনে নামেন।
মানববন্ধন ও বিক্ষোভের মুখে ঘটনার সাতদিনের মাথায় নেত্রকোণা মডেল থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (এসআই)ও অপমৃত্যু মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মোস্তাক আহমেদকে প্রত্যাহার করা হয়।  
কিশোরী পান্নার মা আলপনা আক্তারের করা মামলায় ধর্ষণ ও আত্মহত্যায় প্ররোচণার অভিযোগ আনা হয়েছে।
মামলায় অভিযোগ করা হয়, গত ৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় ঠাকুরাকোণা গ্রামের তিন আসামি মেয়েটিকে পাশের মাছের খামারে একটি ঘরে ডেকে নিয়ে যায়। রাত ৮টার দিকে মেয়েটির মা কৌশলে সেখানে গিয়ে মেয়েকে উদ্ধার করে নিয়ে আসেন। তখন মেয়েকে ‘বিধ্বস্ত’ দেখাচ্ছিল।
অভিযোগ আরও বলা হয়, ঘরে এসে মেয়েটি ওই তিন আসামি তাকে ধর্ষণ করেছে বলে জানায়। কিছুক্ষণ পর ‘ধর্ষণকারী’ যুবকদের একজন তাদের ঘরে গিয়ে ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য হুমকি দেয়। কিন্তু স্থানীয় লোকজন বিষয়টি জেনে ফেলে। পরদিন বেলা ১১টার দিকে পাশের ঘরের আড়ার সঙ্গে মেয়েটির ঝুলন্ত লাশ পাওয়া যায়।
এ মামলার আরেক আসামি সুলতান পলাতক রয়েছেন। তাকে ধরতে অভিযান চলছে বলে জানান তদন্ত কর্মকর্তা।  

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -