জবিতে ২০০৪-০৫ প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ইফতার ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত

নিজস্ব প্রতিবেদক:বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: ‘এসো মিলি বন্ধুত্বের টানে প্রাণের ক্যাম্পাসে’স্লোগানকে সামনে রেখে হাসি-আনন্দ-আড্ডা আর বাহারি স্বাদের ইফতারের মধ্য দিয়ে সম্পন্ন হলো জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের জমজমাট ইফতার পার্টি। ঘড়ির কাটায় তখন বিকেল তিনটা। চারপাশে ভ্যাপসা গরম আর বাহিরে জৈষ্ঠের তপ্ত খর রৌদ্র মিশ্রিত একটু আধাটু বৃষ্টির ফোঁটা ঝরছে। এমন বিরূপ আবহাওয়াকে উপেক্ষা করে, কেউ একা, কেউবা স্বস্ত্রীক, কেউবা স্বামী সন্তানসহ নাড়ীর টানে ছুটে আসছে প্রিয় ক্যাম্পাসে। এ ছুটে আসা যেন সাত সমুদ্র তের নদী পার হয়ে বন্ধুত্বের ছোঁয়া পেতে হৃদয়ের টানে কিংবা প্রিয় বিদ্যাদেবীকে এক নজর দেখার জন্য। আর তাদের এই পবিত্র ভালবাসা ও মমতাকে ফুলপানি দিয়ে স্বাগত জানাচ্ছে স্বয়ং বৃষ্টিকন্যা। গত ৯জুন শুক্রবার ছিল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ব্যবস্থাপনা বিভাগের ২০০৪-০৫ শিক্ষাবর্ষ এবং এমবিএ থার্ড ব্যাচের প্রাক্তন শিক্ষার্থীদের ইফতার পার্টি। অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে ক্যাম্পাস প্রাঙ্গণে এক ভিন্ন রূপ ধারণ করে। সকাল থেকে ভ্যাপসা গরম আর গ্রীষ্মের তাপদাহ মিশ্রিত খর রৌদ্র তাদের এই মিলনকে বিচ্ছিন্ন করতে পারেনি। ছাত্র জীবনে সকলের এক পরিচয় সবাই এই বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী। এখন তাদের ভিন্ন পারচয়, কেউ শিক্ষক-ব্যাংকার বা পুলিশ কর্মকর্তা আবার কেউবা ব্যবসায়ী-মডেল-শিল্পী বা সাংবাদিক। এদিন তারা মিলিত হয়েছে এক অভিন্ন মহৎ উদ্দেশ্যে- ছাত্রজীবনে তারা যেমন বন্ধুত্বের বন্ধনে অটুট ছিল, কর্মক্ষেত্রে যে যেখানে থাকুক না কেন ভবিষ্যতেও তেমনি সুখ-দুঃখে পরষ্পর পরষ্পরের সহযোগিতায় চিরকাল পাশে থাকবে। অনুষ্ঠানের শুরুতে প্রিয় বন্ধুদের অনেক দিন পর কাছে পেয়ে এক আনন্দঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। সহপাঠীদের সঙ্গে নিয়ে মিলনমেলার মুহূর্তটা স্মৃতির পাতায় ধরে রাখতে প্রত্যেকেই যেন সেলফি তোলার প্রতিযোগিতায় নেমে পড়ে। বহুদিন পরে প্রিয় সহপাঠীদের কাছে পেয়ে একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আনন্দ প্রকাশ করে। গল্প,হাসি,আনন্দ,আড্ডায় চাঁদের হাটে পরিণত হয় পুরো ক্যাম্পাস, এ যেন সহপাঠীদের এক মহা মিলনমেলা।

বিজ্ঞাপণের নিচে বাকি সংবাদইফতার পার্টিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ব্যবসায় অনুষদেন ডিন ও বিভাগীয় চেয়ারম্যান মহোদয়ের উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও শারীরিক অসুস্থতার জন্য আগেভাগে বিভিন্ন শিক্ষার্থীদের সাথে মতবিনিময় করে বিদায় নেন। বিভাগীয় শিক্ষকগণ বহুদিন পরে প্রিয় শিক্ষার্থীদের কাছে পেয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তাদের খোঁজ খবর নেন ও গুরুত্বপূর্ণ দিক নির্দেশণা দেন।
কর্মক্ষেত্রে সততা, নিষ্ঠা ও দক্ষতার সাথে কাজ করার পরামর্শ দিয়ে ব্যবস্থাপনা বিভাগের চেয়ারম্যান প্রাক্তন প্রো-ভিসি ও ডিন ড. এ কে এম মনিরুজ্জামান বলেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে যারা এখনও চাকরি পায়নি তাদের ব্যবসা শুরু করতে হবে। সততার সাথে জীবিকা নির্বাহ করতে হবে। পরিশ্রম করে টাকা আয় করলে তা খরচ করে বেশি আনন্দ পাওয়া যায়। এসময় তিনি আরো উল্লেখ করেন- দেশ বিদেশে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বর্তমানে খুব সুনামের সাথে কাজ করছে। অনেকে ব্যবসা বাণিজ্য শুরু করে বড় বড় প্রতিষ্ঠানের মালিক হয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করে দেশ বিদেশে যথেষ্ঠ খ্যাতি অর্জন করেছে।
অনুষ্ঠানের আহবায়ক কমিটির সদস্যরা জানান, পরষ্পরের মধ্যে সম্পর্ক ধরে রেখে আমাদের বন্ধুত্বের বন্ধনকে অটুট রাখতে হবে। বর্তমানে চাকরী ক্ষেত্রে বিশ্ব বাজারে প্রতিযোগিতায় টিকে থেকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা তাদের মেধার পরিচয় দিচ্ছে। প্রায় অর্ধ শতাধিক শিক্ষার্থী বিভিন্ন ব্যাংকে সিনিয়র পদে চাকরি করছে উল্লেখ করে বলেন, বর্তমানে এসআই, বিসিএস ক্যাডারে গুরুত্বপূর্ণ পদসহ বিভিন্ন সরকারি বেসরকারি অফিসার পদে এই ব্যাচের মেধাবী শিক্ষার্থীরা কর্মরত রয়েছে। সহপাঠীদের মধ্যে যাদের এখনও চাকরী হয়নি আমাদের উচিত শীঘ্রই তাদের কর্মসংস্থানে সহযোগিতা করা।
আলোচনা শেষে ব্যবস্থাপনা বিভাগের প্রাক্তন চেয়ারম্যান প্রফেসর তোফায়েল আহমদের মৃত্যুতে গভীর শোক ও সমবেদনা প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের সাফল্য ও মঙ্গল কামনায় মোনাজাত করা হয় । এসময় ইউএসএ প্রবাসী বন্ধু রাহাত-আল আসাদ এর জন্য ও বিশেষ দোয়া করা হয়।
পুরানো ঢাকার বাহারি ইফতার শেষে, আয়োজক কমিটির আফসার, আব্দুর রশিদ, হূমায়ন, মনি হাসান, রুমা প্রমুখ ব্যক্তিবর্গকে বিশেষ ধন্যবাদ জানিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী দৈনিক আমাদের ৭১ -এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও চ্যানেল সিক্সটি নাইনের প্রধান নির্বাহী বিশিষ্ট গণমাধ্যম বিশ্লেষক সৈয়দ এম এ জিন্নাহ বলেন, “শিক্ষা জীবনে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সত্যিই আমাকে মুগ্ধ করেছে, ছাত্রজীবনের পরিপূর্ণতা দান করেছে। ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠের ছাত্র হতে পেরে এখন নিজেকে গর্বিত মনে করি। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে শিক্ষার্থীদের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তাই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম অর্জনে আমাদের আজীবন কাজ করে যেতে হবে। সহপাঠীদের এই অকৃত্রিম ভালবাসা আর বন্ধুত্বের সেতু বন্ধন যেন সারা জীবন অটুট থাকে। ”

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -