৭২ ঘণ্টার মধ্যে মিলনকে ফেরত চান শিক্ষার্থীরা

জবি,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: আগামী ৭২ ঘণ্টার মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্র সাদিকুল ইসলাম মিলনকে উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন সহপাঠীরা। বুধবার (১২ জুলাই) ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে এ দাবি জানান তারা। গত ২৩ মে ভোরে রাজধানীর আদাবরের বাসা থেকে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিচয়ে মিলনকে ধরে নিয়ে যাওয়া হয়। যদিও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে মিলনকে গ্রেফতার বা তুলে নিয়ে যাওয়ার এই অভিযোগ নাকচ করে দেয়া হয়েছে। তবে জবির পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের মেধাবী এই ছাত্রকে অপহরণের ৫০ দিন পেরিয়ে গেলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তার কোনও সন্ধান দিতে পারেনি। সহপাঠীদের অভিযোগ, বারবার লিখিত ও মৌখিক তাগাদা দেয়া হলেও মিলনকে উদ্ধারে দৃশ্যমান কোনও তৎপরতা নেই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

মানববন্ধনে অংশ নিয়ে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের ১০ম ব্যাচের ছাত্র রাসেদ বলেন, ‘মিলনের নিখোঁজ হওয়ার পর জবি প্রক্টর জানিয়েছিলেন মিলন গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) হেফাজতে আছে। তাই আমরা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে নিশ্চিন্ত ছিলাম। কিন্তু এখন প্রক্টর বলছেন তথ্যটি ভুল ছিল। মিলন কোথায় এটা তিনি জানেন না। তাহলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর কেন তখন ভুল তথ্য দিয়ে মিথ্যা সান্তনা দিয়েছিলেন আমাদের। প্রক্টরের অবহেলার কারণেই এতদিন মিলনের খোঁজ পাওয়া যায়নি।’

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে মিলনের বাবা জানান, প্রায় ২ মাস পেরিয়ে গেলেও কোথাও মিলনের কোনও খোঁজ পাননি।মিলনের আরেক সহপাঠী সুলাইমান বলেন, ‘মিলন যদি কোনও অপরাধ করে থাকে তাহলে দেশের প্রচলিত আইনে তার বিচার হবে। কিন্তু কাউকে গুম করে ফেলা তো কোনও বিচারের মধ্যে পড়ে না।’

মানববন্ধনে জবি শাখা ছাত্র ইউনিয়নের সভাপতি রুহুল আমিন বলেন, ‘জবি প্রক্টর এই বিষয় নিয়ে তালবাহানা শুরু করছেন। তিনি ইচ্ছা করলেই পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সাথে এ বিষয়ে যোগাযোগ করতে পারেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সাথে কথা বলতে পারেন নিখোঁজ মিলনের সন্ধানের জন্য। কিন্তু তিনি দায়িত্ব অবহেলা করছেন।’

এদিকে মানববন্ধনে পদার্থ বিজ্ঞান বিভাগের কোনও শিক্ষক অংশগ্রহণ না করায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ব্যাপারে ওই বিভাগের শিক্ষক নূরে আলম আব্দুল্লাহ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আসলে আমরা শুনেছিলাম ওকে (মিলনকে) নাকি প্রশ্ন ফাঁস সংক্রান্ত ব্যাপারে আটক করা হয়েছে। তাই নীতিগত কারণে আমরা মানববন্ধনে অংশ নেইনি। তবে খবরটি মিথ্যা ছিল।’

মিলনকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর তার পরিবারের পক্ষ থেকে রাজধানীর আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। জিডি অনুযায়ী এই ঘটনা তদন্তের দায়িত্বে রয়েছেন আদাবর থানার উপপরিদর্শক আব্দুল্লাহ আল মামুন। তিনি বলেন,  ‘নিখোঁজ মিলনের পরিবার আদাবর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেছেন। কিন্তু আমাদের কাছে এখনও কোনও খোঁজ নেই । তবে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি। ওই দিন ডিবি পরিচয়ে ঠিক কারা বাসায় গিয়ে মিলনকে ধরে নিয়ে গেছে তাদের ব্যাপারে জানার চেষ্টা করছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘সঠিক তথ্য না পেয়ে আমরা কোনওকিছু বলতে পারছি না। আমরা ডিএমপি কমিশনার পর্যন্ত এবিষয়ে কথা বলেছি এবং সবগুলো গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে  যোগাযোগ রাখছি।  কোনও খোঁজ পাওয়া মাত্রই তার পরিবারকে জানানো হবে।’

জবি প্রক্টর সহযোগী অধ্যাপক ড.নূর মোহাম্মাদ সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে যথেষ্ঠ তৎপরতা চালাচ্ছি। ইতিমধ্যে ডিএমপি কমিশনার বরাবর একটি লিখিত চিঠিও পাঠানো হয়েছে। শিক্ষার্থীদের মানববন্ধনকেও আমরা যথেষ্ঠ গুরুত্বের সাথে দেখছি। আমাদের প্রশাসনের তরফ থেকে চেষ্টার কোনও ঘাটতি নেই।’

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -