রাবি শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

রাজশাহী,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) বর্ধিত ফি প্রত্যাহার ও বাণিজ্যিক সান্ধ্যকোর্স বন্ধের দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর হামলার ঘটনায় আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছে আদালত। ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারির এ ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে ৪৩ জনকে আসামি করে দুটি মামলা দায়ের করে।

চলতি বছরের ২৯ মে রাজশাহী মুখ্য মহানগর হাকিম আদালত পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলায় অভিযোগপত্রে উল্লিখিত ৪৩ আসামির মধ্যে ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আগামীকাল সোমবার (৩১ জুলাই) মামলার প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হবে বলে নিশ্চিত করেছেন আদালতের রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবি (পিপি) আব্দুস সালাম।

আবদুস সালাম বলেন, ‘পুলিশের দায়ের করা দুটি মামলার চার্জশিট গ্রহণ করেছে আদালত। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ান জারি করা হয়েছে। সোমবার শুনানি হবে।’

আদালত সূত্রে জানা গেছে, গত ৭ মে রাজশাহী মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক এবং মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আব্দুল হান্নান অভিযোগপত্র দাখিল করেন। এতে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রগতিশীল ছাত্রজোটের ১৬ জন নেতাকর্মী, রাবি শিবিরের তৎকালীন সভাপতি আশরাফুল আলম ইমন এবং সাধারণ শিক্ষার্থীসহ ৪৩ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আদালত অভিযোগপত্র গ্রহণ করে গত ২৯ মে ২৫ জনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

এদিকে মামলার চার্জশিট প্রদান ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। রবিবার (৩০ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টায় কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগারের সামনে থেকে বিক্ষোভ মিছিল বের করেন তারা। পরে সেখানে এক সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।

সমাবেশে বক্তারা বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে মুনাফা তৈরির আস্তানায় পরিণত করার অপচেষ্টা করা হচ্ছে। তনুর হত্যাকারীদের বিচার হয় না, অথচ যারা ছাত্রদের অধিকারের জন্য আন্দোলন করে তাদের নামে মামলা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ছাত্রদেরকেই তাদের প্রতিপক্ষ ভাবছে।’এ সময় বক্তারা আন্দোলনকারীদের উপর মিথ্যা মামলা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা প্রত্যাহারের দাবি জানান।

বিপ্লবী ছাত্র মৈত্রী রাবি শাখার সভাপতি প্রদীপ মার্ডির সঞ্চালনায় সমাবেশে বক্তব্য দেন রাবি শাখা কেন্দ্রীয় সাংস্কৃতিক জোটের সভাপতি আব্দুল মাজিদ অন্তর, ছাত্র ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি গোলাম মোস্তাফা, ছাত্র ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জিলানী শুভ, ছাত্রমৈত্রির কেন্দ্রীয় কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক ইকবাল কবির, সমাজতান্ত্রিক ছাত্রফ্রন্টের কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন প্রমুখ।

কয়েকজন আসামি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে গিয়ে মার খেলাম। আবার আমাদের উপরই মামলা হলো। এখন আদালতে হাজিরা দিতে হবে। আইনের উপর আমাদের শ্রদ্ধা রয়েছে। কিন্তু এমন বিচার মেনে নেয়া কষ্টের। ওইদিন কি ঘটেছিলো, কারা হামলা করেছিলো আর কারা হামলার শিকার হয়েছিলো- গণমাধ্যমের কারণে সারা দেশের লোকজন জানেন।’

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বেশ কয়েকবার মামলা তুলে নেবার আশ্বাস দিলেও মামলা না তুলে নেয়ায় সমাবেশ শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে সাক্ষাত করেছেন প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মীরা। এ সময় তাদের ১৬ নেতাকর্মীর নাম উপাচার্যের কাছে জমা দেন তারা।

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. আব্দুস সোবহান বলেন, ‘ওরা (প্রগতিশীল ছাত্রজোটের নেতাকর্মী) আমার দফতরে এসে কয়েকজনের নামের তালিকা দিয়ে গেছে। কিন্তু রেজিস্ট্রারের অসুস্থতার কারণে এ বিষয়ে কিছুই জানতে পারছি না। উনি সুস্থ হয়ে আসলে মামলার অবস্থা জেনে কি করা যায় সেটা দেখবো। তবে এই মুহুর্তে কিছু বলতে পারছি না।’

উল্লেখ্য, ২০১৪ সালের ২ ফেব্রুয়ারি বর্ধিত ফি ও সান্ধ্যকালীন কোর্স বাতিলের দাবিতে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ধর্মঘট পালন করে। ওইদিন কয়েক হাজার শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের সামনে অবস্থান নিলে ছাত্রলীগ ও পুলিশ তাদের ওপর চড়াও হয়। ওই ঘটনায় নয় সাংবাদিকসহ শতাধিক শিক্ষার্থী আহত হন। ঘটনার পরদিন বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ এবং ছাত্রলীগ বাদী হয়ে পৃথকভাবে দুটি করে মোট ৬টি মামলা করে।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দায়ের করা মামলায় বেআইনি সমাবেশ, মারামারি, সরকারি কাজে বাধাদান ও ভাঙচুরের অভিযোগে ২০০ জনকে আসামি করে এবং বিস্ফোরক আইনে আরও ২০০ জনকে আসামি করা হয়। একই অভিযোগে ৯০ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৩০০ জনকে আসামি করে আরও দুটি মামলা করে মতিহার থানা পুলিশ। তবে ছাত্রলীগের মামলা ঘটনার কিছুদিন পরে তুলে নেয়া হয়।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -