জাবির ভর্তি পরীক্ষা শুরু কাল, সক্রিয় জালিয়াত চক্র

জাবি,ঢাকা টোয়েন্টিফোর ডটনেট,শনিবার, ০৭ অক্টোবর ২০১৭: জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৭-১৮ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি পরীক্ষা ‘এ’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে আগামীকাল রবিবার (০৮ অক্টোবর) থেকে শুরু হচ্ছে। ভর্তি পরীক্ষার এ কার্যক্রম আগামী ১৭ অক্টোবর ‘এফ’ ইউনিটের পরীক্ষার মধ্য দিয়ে শেষ হবে। প্রতিদিন ৬টি শিফটে ভর্তি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হবে। প্রথম শিফট শুরু হবে সকাল ৯টায় এবং শেষ হবে বিকেল ৫টায়।

এদিকে অন্যান্য সময়ের মতো এবারও ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সক্রিয় হয়ে উঠেছে জালিয়াত চক্রগুলো। টাকার বিনিময়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি করিয়ে দেয়ার কথা বলে পরীক্ষার্থীদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে তারা।

চক্রগুলো এবার কৌশলে পাল্টিয়ে বেশ কয়েকটি ধাপে প্রতারণার কাজ সম্পন্ন করার জন্য পরিকল্পনা করছে বলে গোপন সূত্রে জানা যায়। এক গ্রুপ মাঠপর্যায়ে শিক্ষার্থী সংগ্রহ করে। আরেক গ্রুপ শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের ম্যানেজ করে পরীক্ষার কমপক্ষে ৩০ মিনিট আগে প্রশ্ন হাতে নেয়। আরেকটি গ্রুপ বিভিন্ন কোচিংয়ের অভিজ্ঞ শিক্ষক দিয়ে দ্রুত প্রশ্নের সমাধান করে।

এরপর মোবাইলে এসএমএস, ভাইবার, ইমোর মাধ্যমে উত্তর সরবরাহ করে। এছাড়াও পরীক্ষার ওয়েমার সিট পরিবর্তন ও পরীক্ষার হলে অন্য আরেকজনকে প্রক্সি হিসেবে পাঠিয়ে বা সহযোগিতার মাধ্যমে চান্স পাইয়ে দেওয়ারও চুক্তি করে জালিয়াত চক্রগুলো।

গত বছর জাবির ভর্তি পরীক্ষায় জালিয়াতি করতে গিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শাখা ছাত্রলীগের বর্তমান উপ-পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক এস এম শরিফ আহমেদ ও ছাত্রলীগ কর্মী নাজমুল হুদা ধরা পড়েন। এছাড়াও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকটি চক্রের সদস্যও ধরা পড়েন। তখন এসব চক্রের বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়। কিন্তু তারপরও তাদের দৌরাত্ম্য কমেনি। আসন্ন ভর্তি পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে আবারও সক্রিয় হয়ে উঠেছে চক্রগুলো।

এদিকে পরীক্ষাকে কেন্দ্র করে সব ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ বাড়তি নজরদারির ব্যবস্থা করেছে। যে কোনও ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত কাজ করবে বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা।

বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, জালিয়াতি ঠেকাতে প্রতি বছরের ন্যায় এবারও পরীক্ষার হলে মোবাইল, ক্যালকুলেটর, ঘড়ি ও অন্য যে কোনও প্রকার ইলেকট্রনিক ডিভাইস সঙ্গে নিয়ে আসা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

এদিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষক জানিয়েছেন, জাবির ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নপত্রের অনেকগুলো সেট করা হয়। যার ফলে আগে থেকে তৈরি করা উত্তরপত্র নিয়েও লাভ হবে না। কারণ এক সেটের প্রশ্নের সাথে অন্য সেটের প্রশ্নের মিল থাকে না। এছাড়াও জাবির ভর্তি পরীক্ষার আগেই প্রশ্নপত্র পাওয়া যায় এমনটা যেই বলুক সেটা মিথ্যা ছাড়া আর কিছু না। তবে প্রতারকরা শিক্ষার্থীদের ভর্তি করে দিতে পারবে বা প্রশ্ন দিতে পারবে বলে বিভিন্ন মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে প্রলোভন দেখিয়ে মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নিতে পারে। এজন্য এসব প্রতারক চক্র থেকে ভর্তিচ্ছুদের দূরে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন শিক্ষকরা।

বিশ্ববিদ্যালয়ের নিরাপত্তা কর্মকর্তা জেফরুল হাসান সজল বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। যেকোনও ধরনের বেআইনি কার্যক্রম প্রতিহত করতে আমরা প্রস্তুত।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তপন কুমার সাহা বলেন, ‘ভর্তি পরীক্ষায় যে কোনও ধরনের জালিয়াতি ঠেকাতে কড়া নজরদারি থাকবে। এ ছাড়া প্রক্টরিয়াল বডির পাশাপাশি বিএনসিসি, রোবার স্কাউটের সদস্যরা সার্বিক নিরাপত্তার জন্য কাজ করবে।’

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -