সালমানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিল ভাই-বোনের মতো: শাবনূর

বিনোদন ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: চলচ্চিত্রে অতীতেও অনেক স্মরণীয় কিংবা কিংবদন্তি জুটি গড়ে উঠেছে। শাবানা-আলমগীর, রাজ্জাক-ববিতা, কিংবা রাজ্জাক-কবরী এ ধরনের নামগুলো এখনও মানুষের মুখে মুখে। সবশেষ রিয়াজ-পূর্ণিমা জুটির পর দর্শক দেখেছে শাকিব খান ও অপু বিশ্বাসের পার্টনারশিপ।

তবে নব্বইয়ের দশকের একটা সময় বাংলা সিনেমান স্মরণীয় জুটি গড়েন অমর নায়ক সালমান শাহ ও শাবনূর। তারা দুজন জুটি হয়ে ১৩টি সিনেমায় অভিনয় করেন। এর প্রায় সবগুলো ছবিই হিট হয়েছে।

১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ঢাকায় মারা যাওয়া সালমান শাহর মৃত্যুবার্ষিকী আজ। এ দিনটিকে কেন্দ্র করে গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা হয় শাবনূরের। তিনি জানান, সালমানের সঙ্গে তার জানা অজানা নানা কথা।

জীবনের প্রথম সিনেমা ‘কেয়ামত থেকে কেয়ামত’-এ মৌসুমীর সঙ্গে জুটি হয়ে পর্দায় আবির্ভাব হলেও দ্বিতীয় সিনেমা ‘তুমি আমার’-এ নায়িকা হিসেবে পেয়েছিলেন শাবনূরকে। এ জুটির বেশির ভাগ সিনেমা ব্যবসায়িক সফলতা পাওয়ার পাশাপাশি দর্শকনন্দিতও হয়েছে। সেই থেকে তাদের মধ্যে বন্ধুত্বও গড়ে ওঠে। তাদের দুই পরিবারের ঘনিষ্টতাও ছিল বেশ।

বুধবার সকালে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে শাবনূর বললেন, ‘সালমানের বউ সামিরা ছিল আমার খুব ভালো বন্ধু। আবার আমার মায়ের সঙ্গে সালমানের খুব শ্রদ্ধার সম্পর্ক ছিল। আমরা একসঙ্গে ঘুরতে যেতাম। দেশের মানুষের কাছে সালমান শাহর জনপ্রিয়তা যেমন তুঙ্গে ছিল, তেমনি মানুষ হিসেবেও ছিল সে অনন্য।’

শাবনূর বলেন, ‘নিজের কোনও ছোট বোন ছিল বলে সালমান শাহ আমাকে ‘পিচ্চি’ বলেই ডাকতেন। আমাকে ছোট বোনের মতোই দেখতেন। সালমান শাহ আর আমাকে নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেছেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই, এসবের কোনোটিই সত্য নয়। আমাদের সম্পর্ক ছিল ভাই-বোনের মতো। সালমানের মা-বাবাও আমাকে খুবই আদর করতেন। তারাও আমাকে তাদের মেয়ে হিসেবেই দেখতেন।’

তিনি বলেন, ‘সালমান অনেক বড় মনের মানুষ ছিল। বয়সে বড় সবাইকে সে যথেষ্ট সম্মান করত। কোনো অহংকার তার মধ্যে ছিল না। অনেক বেশি ভালো ছিল। সহশিল্পীদের সবার প্রতি খুব আন্তরিক আর কাজপাগল একটা ছেলে ছিল। আমাদের দুজনের বোঝাপড়াটা ছিল চমৎকার। বলতে পারেন, একে অন্যের চোখের ইশারা বুঝতে পারতাম।’

শাবনূর বলেন, ‘আমরা যখন কক্সবাজার শুটিং করতাম, তখন রাতে প্রায়ই সাগরপাড়ে ক্যান্ডেললাইট ডিনার করতাম। আমাদের সেই আড্ডায় দুই পরিবারের সদস্যরা ছাড়াও অন্য সহশিল্পী এবং পরিচালকও থাকতেন। খুব হইচই করতাম আমরা। এটা একেবারে সত্যি কথা, সালমানকে আমি ভাই ছাড়া আর অন্য কোনো চোখে দেখতাম না। সালমানের মৃত্যুর পর কিছু লোক আমাকে জড়িয়ে ব্যবসা করতে চেয়েছে। কিছু সাংবাদিকও আমাদের সম্পর্ক নিয়ে নানা ধরনের মুখরোচক গল্প ছেপেছেন। এটা করে কী লাভ হয়েছে, আমি জানি না। আমি আমার ক্যারিয়ারটা অনেক কষ্ট করে তৈরি করেছি। তিল তিল করে গড়ে তুলেছি। কিছুসংখ্যক লোক গুজব ছড়িয়ে আনন্দ পাওয়ার চেষ্টা করেছে।’

তবে এসব লোকনিন্দায় সালমানের প্রতি এতটুকু শ্রদ্ধা কমেনি শাবনূরের। বরং সারা জীবন তিন সালমানের সঙ্গে কাজের মধুর স্মৃতিগুলোকে সম্মান জানিয়ে যেতে চান বলেও জানান।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -