পাক-ভারত ম্যাচ নিয়ে শ্রীনগরে হাই অ্যালার্ট

ভারত ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : ভারত নিয়েন্ত্রিত দক্ষিণ কাশ্মিরের অনন্তনাগ জেলায় সেনাবাহিনীর কনভয়ে আজ রোববার (১৮ জুন) অজ্ঞাত গেরিলারা হামলা চালালেও এতে হতাহতের কোনও ঘটনা ঘটেনি। তবে নিরাপত্তা বাহিনী গোটা এলাকা ঘিরে ফেলে তল্লাশি অভিযান শুরু করেছে।

পুলিশ বলছেন, বিজবেহরা এলাকায় সেনাবাহিনীর গাড়ি লক্ষ্য করে গেরিলারা কয়েক রাউন্ড গুলি চালিয়ে সেখান থেকে পরে পালিয়ে যায়।

এদিকে, আজ রোববার লন্ডনে ভারত-পাক আইসিসি চাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে কাশ্মির উপত্যাকায় বড়সড় হামলার আশঙ্কা করছে নিরাপত্তা এজেন্সি। সাম্ভাব্য গেরিলা হামলার আশঙ্কার কথা মাথায় রেখে রাজধানী শ্রীনগরকে হাই-অ্যালার্ট জারি করা হয়েছে।

গোয়েন্দা সূত্রে প্রকাশ, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে সেখানে ফিদাইন হামলা হতে পারে। ভারত-পাক ম্যাচ চলাকালে ওই হামলা হতে পারে বলেও বলা হচ্ছে। এজন্য নিরাপত্তা বাহিনীকে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। কাশ্মির পুলিশের আইজিপি গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে ওই সতর্কতা জারি করেছেন।

সম্প্রতি সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে পাকিস্তান পরাজিত করলে কাশ্মিরের কিছু স্থানে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করা হয়। সেজন্য ফাইনাল ম্যাচকে কেন্দ্র করে সেখানে বড় ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

গোয়েন্দারা শ্রীনগরের ডাউনটাউন এলাকায় গেরিলাদের গতিবিধি জানতে পেরেছেন। গেরিলারা এখানে গ্রেনেড হামলাসহ নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে গুলি চালাতে পারে। শ্রীনগরের নূরবাগ, নৌহাট্টা এবং ঈদগাহ এলাকায় হামলার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

কাশ্মিরে সম্প্রতি একনাগাড়ে গেরিলা হামলা বেড়ে চলেছে। নিরাপত্তা বাহিনীও হিজবুল মুজাহিদীন কমান্ডার সাবজার ভাট এবং লস্কর ই তাইয়্যেবা কমান্ডার জুনাইদ মাট্টুকে গুলি করে হত্যা করে সফলতা পেয়েছে। অন্যদিকে, গেরিলারাও পাল্টা হামলা চালিয়ে এক কর্মকর্তাসহ ৬ পুলিশ কর্মীকে হত্যা করেছে।

এদিকে, গত শুক্রবার লস্কর ই তাইয়্যেবা কমান্ডার জুনাইদ মাট্টুসহ যে তিন গেরিলা নিহত হন শনিবার সকালে কয়েক হাজার মানুষের উপস্থিতিতে তাদের জানাজায় অন্য গেরিলারা শামিল হয়ে শূন্য গুলি চালিয়ে তাদের গান স্যালুট দিয়ে বিদায় জানায়।

গতকাল প্রতিরক্ষামন্ত্রী অরুণ জেটলি বলেছেন, যেভাবে ৬ পুলিশকর্মীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে, সেটা চরম ভীরুতার কাজ। কাশ্মিরে আমাদের সেনাবাহিনীর সঙ্গে রাজ্যের পুলিশকর্মীরাও নিজেদের প্রাণ বিসর্জন দিয়ে দেশের সার্বভৌমত্ব বাঁচাচ্ছেন, তারা আমাদের কাছে শ্রদ্ধেয়। ভারতীয় সেনা ও পুলিশ ওই আক্রমণের প্রতিশোধ নেবে।

কাশ্মিরের চলমান পরিস্থিতিতে কেন্দ্রীয় সরকার গভীর উদ্বেগে রয়েছে। একদিকে গেরিলা হামলা, অন্যদিকে নিয়ন্ত্রণ রেখার ওপার থেকে পাক বাহিনীর হামলাকে কেন্দ্র করে প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মধ্যে গতকাল কয়েক দফায় বৈঠকও হয়েছে।-সূত্র : রেডিও তেহরান।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -