মাদক কেরে নেয় জীবন

নুর আলম,বর্তমানকন্ঠ ডটকম : ধানমন্ডির মেয়ে জাকিয়া, স্বপ্ন দেখত ডাক্তার হওয়ার। সেই লক্ষ্য পূরণের প্রত্যাশায় ৯ম শ্রেণীতে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হয়েছিল সে। মধ্যবিত্ত পরিবারের সন্তান হওয়া সত্তেও নিজের মেধা আর প্রচেষ্টায় খুব ভাল মানের একটি স্কুলে ভর্তি হয়েছিল সে। পরিচয়সূত্রে ধীরে ধীরে বন্ধুত্ব গড়ে তোলে একই ক্লাসের কিছু ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে। ছুটির পর, কোচিং এর ফাঁকে একসঙ্গে আড্ডা দেওয়া হয়ে ওঠে নিত্যনৈমত্তিক ব্যাপার। শুধু আলাপচারিতা নয়, একটা সময় সিগারেটও হয়ে ওঠে ওদের আড্ডার সঙ্গী। কৌতূহলী মেয়ে জাকিয়া, কৌতূহলবশতই নতুন এ সঙ্গীটির সঙ্গেও গড়ে তোলে বন্ধুত্ব।
কিছুদিন পর বন্ধুটির আসল চেহারা দেখতে পেলেও কিছুই করার ছিল না জাকিয়ার। বাকিদের মতো সেও সিগারেটের সঙ্গে হেরোইন, গাঁজা সেবন শুরু করে। তার বন্ধুরা করত আগে থেকেই। বুঝতে পারে মরণ-নেশা তাকে গ্রাস করতে শুরু করেছে। তবুও নিরুপায়, অদৃশ্য এক শক্তির মোহনীয় টানে প্রতিদিনই সে ছুটে যেত নেশার আড্ডায়। বাবার কাছ থেকে আবদার করে নেওয়া টাকায় এভাবে বছরখানেক নেশা করল জাকিয়া। বাবা-মা, ভাই-বোন কেউই সিগারেটটি পর্যন্ত কখনও ধরে দেখেনি। এমন পরিবারের মেয়ে হয়ে নেশা করে, লজ্জায় এ কথাটি কাউকে কখনও বলেনি, বুঝতেও দেয়নি।
মাদকের সেই অদৃশ্য শক্তির প্রবল আকর্ষণে বাবা-মায়ের বাঁধন ছিন্ন করে জাকিয়ার নতুন ঠিকানা হয় অন্ধকার জগতে। পরিবার ছেড়ে আসায় নেশার জন্য অর্থের জোগান দিতে হয় নিজেকে। বাধ্য হয়েই সে পা বাড়ায় অজানা এক মুত্যুপুরীর পথে, অবৈধ এবং অনৈতিক কর্মকান্ডে জড়িত করে নিজেকে।
দীর্ঘ চার বছর মৃত্যুপুরীর দিকে চলতে চলতে ফেলে আসা সোনালী অতীতের দিকে জাকিয়া যে একবারও ফিরে চায়নি ব্যাপারটা কিন্তু সেরকম নয়। ফিরে চাইলেই বা কী, ফিরে যাওয়ার সব রাস্তাই যে সে বন্ধ করে এসেছে। অবশেষে বছর খানেক আগে জানতে পারে সরকারী পুনর্বাসন কেন্দ্রের সম্পর্কে। বিনামূল্যে চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা থাকায় খুব সহজে সুস্থ জীবনে ফিরে আসতে পারে জাকিয়া। আবারও স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সে। জাকিয়া এখন আবার পড়তে সুরু করেছে। একসময়কার ডাক্তার হওয়ার যে স্বপ্ন মিলিয়ে গিয়েছিলো নেশার ধোঁয়ায়, সে স্বপ্ন পুরনের জন্য জাকিয়া এখন দৃঢ় সংকল্প।
বাংলাদেশ সরকার মাদকের অপব্যবহারকে অন্যতম মারাত্মক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করেছে এবং এর প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণের জন্য আন্তর্জাতিক, আঞ্চলিক এবং দ্বিপাক্ষিক প্রচেষ্টার প্রতি দৃঢ়ভাবে অঙ্গীকারবদ্ধ। আমাদের তরুণ প্রজন্ম নতুন দিনের শক্তি। তাদের উপরই নির্ভর করছে আগামীর স্বপ্ন। তারা যেন হারিয়ে না যায় মাদকের কড়াল গ্রাসে, এই প্রত্যাশা সকলের।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It

 

This Category Latest news