লক্ষ্মীপুরে ভুয়া চিকিৎসকের ছড়াছড়ি, বাড়ছে অপচিকিৎসা

লক্ষ্মীপুর,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: লক্ষ্মীপুরে ভুয়া চিকিৎসকের ছড়াছড়িতে বাড়ছে অপচিকিৎসা। জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে ২৮৬টি পদ শূন্য থাকায় জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল,সদর উপজেলার উত্তর দক্ষিণসহ চারদিকে ডাক্তারি বিদ্যা ছাড়াই সেজে বসেছেন ডাক্তার। কেউ কেউ নিজেকে সবজান্তা পরিচয় দিয়ে সামান্য পেটব্যাথা, জ্বর, সর্দি-কাশি, বিয়ের বর বাঁধা কাটানো, জ্বিন তাড়ানো, ঝাড় ফুঁকসহ এসব কাজই করে নিজেকে দাবি করছেন বড় হেকিম।

স্থানীয়রা জানান, জেলা জুড়ে বড় হেকিম ও ভুয়া চিকিৎসকের সংখ্যা হাজার হয়েও সদর উপজেলাসহ পৌর শহরে রয়েছে শতাধিক । দালালসহ স্থানীয় জনপ্রতিনিথিদের ম্যানেজ করে এদের শক্তিশালী নেটওয়ার্ক। পৌর শহরের ১৫ নং ওয়ার্ডে পশ্চিম লক্ষ্মীপুরে বড় হেকিম সেজে চিকিৎসা করছেন মৃত অরুন চন্দ্রের ছেলে ক্যাশব বাবু।

সদর উপজেলার উত্তরের আদিল পুর গ্রামে বড় ওজা সেজে চিকিৎসা সেজে কাজ করছেন মহিব উল্যাহ্ মাওলানা। পূর্বে মিয়া রাস্তায় আবির নগরে আফছার উদ্দিন ভুঁইয়া বাড়িতে পেটব্যাথা, জ্বর, সর্দি-কাশি, বিয়ের বর বাধা কাটানো, জ্বিন তাড়ানোসহ ঝাড় ফুঁকের চিকিৎসার কাজ করছেন মিজানের স্ত্রী রোশন আক্তার।

এছাড়া দক্ষিণে তেহরীগঞ্জ ইউনিয়নের চরমনসা গ্রামে শাহে আলমের স্ত্রী তৈয়বা খাতুন (৫৫) ডাক্তারি বিদ্যা ছাড়াই সেজে বসেছেন ডাক্তার। তিনি পেট ব্যাথা, জ্বর, সর্দি-কাশি, বিয়ের বর বাধা কাটানো,ঝাড় ফুঁক এসব কাজই করে চলেছেন গত ২০ বছর ধরে।

ভবানীগঞ্জ বাজারের দক্ষিণে ছলেমা বেগম ঝাড় ফুকসহ চিকিৎসক সেজে কাজ করছেন ১৫ বছর ধরে। একই ইউনিয়নের ভবানীগঞ্জ ওহাবদা অফিসের পার্শ্বে খেজুর তলীতে আব্দুল খালেক সেজে বসেছেন চিকিৎসক। গত ২৫ বছর ধরে খালেক এলাকায় চিকিৎসার নামে প্রতারণা করে রমরমা ব্যবসা মেতে উঠেছেন।

আর এসব ভুয়া চিকিৎসকের খপ্পরে পড়ে অপচিকিৎসার চিকিৎসায় প্রতারিত অনেকে। প্রশাসনের কর্তা ব্যক্তিদের মাসকাবারি অর্থের বিনিময়ে চিকিৎসার নামে এ প্রতারণা করে ভুয়া চিকিৎসকরা হয়েছেন কোটি টাকার মালিক।

সদর উপজেলার ভবানীগঞ্জের ইউনিয়নের ৬০ বছরের বৃদ্ধা পারভীন আক্তার জানান, কয়েক বছর আগের তার মেয়ের স্বামী পায়ের একটি রোগের কারণে এন্টিবায়েটিক অতিরিক্ত মাত্রায় বেশি খাওয়ায় মাথা গুড়ানোসহ ও আবল তাবল বলতেন। সে কারণে  তিনি তার মেয়ের স্বামী রহমানকে নিয়ে আসেন তার বাড়ীর পার্শ্বে আবীর নগর গ্রামের রোশনের নিকট।

রোশন ঘরে মোমবাতিসহ আগর বাতি জ্বালিয়ে বলেন জ্বিনের আসর। তাড়াতে হবে। তাড়াতে একটি দামি মোবাইল সেট অথবা দামবাবত ২০ হাজার টাকা দিতে হবে তাকে।

রোশনের এমন কথায় ছলে পরে পারভীন ১৫ হাজার টাকা প্রদান করেন। তার পর চিকিৎসায় কোন উপকার না পেয়ে টাকা ফেরত চাইলে রোশনের পালিত দালালদের চওরায় সে টাকা ফেরত পাওয়া হয়নি পারভীনের।

অভিযোগ জানতে কথা হয় ভুয়া চিকিৎসক রোশনের সাথে। রোশন জানান, তার চিকিৎসায় দালাল কি বুঝেন না। তবে তার পরিচিতরা রোগী নিয়ে আসেন, তাদের যাতায়েত ভাড়া বাবত তিনি রোগী প্রতি এক হাজার থেকে ২ হাজার টাকা প্রদান করেন।

আর তিনি কি চিকিৎসা করেন জানতে বলেন, বিয়ের বর কাটা, জ্বিন তাড়ানোসহ সবকাজই করেন তিনি পুরুষদের সাথে দেখা না দিয়ে। তার চিকিৎসায় কলেজ পড়ুয়া অনেক মেয়ের বিয়ে হয়েছে দাবি করেন ভুয়া হেকিম রোশন।

এছাড়া কথা হয় সদর উপজেলার পেয়ারাপুর এলাকার ওহিদুল হকের স্ত্রী লাকী বেগমসহ ওই এলাকার জোৎসা বেগমসহ নারগীসের সাথে। তারা জানান, ভবানীগঞ্জে খেজুর তলীতে আব্দুল খালেকের অপচিকিৎসার কথা। খালেক এলাকায় বর কাটা, বান টোনার কাজ, ক্যান্সার, লিভার, জন্ডিস, সরকারি চাকুরি পাওয়ার তকদির দেয়ার কাজ করেন চুক্তি ভিত্তিক।

তার খপ্পরে নারগীস ও জোৎসা বেগমের প্রায় ত্রিশ হাজার বেশি দিয়েছেন খালেককে। কিন্তু তারা চিকিৎসা ও তকদির না পেয়ে ওই টাকা  ফেরত চেয়ে ৯ বছরেও ফেরত পাননি তারা।

এছাড়া পৌর শহরের ১৫ নং ওয়ার্ডে পশ্চিম লক্ষ্মীপুরে মৃত অরুন চন্দ্রের ছেলে ক্যাশব বাবুর সাথে। তিনি নিজেকে বড় হেকিম চিকিৎসক দাবি করেন। দেখা যায় তার চার পাশ ঘিরে রয়েছেন রায়পুরের কেরোয়া গ্রাম ও বামনী ইউনিয়ন থেকে আসা রোগী। তার সামনে কথা হয় রোগীদের সাথে।

রোগী শাহ আলম জানান, তিনি তার বাড়ির পাশের এক মহিলার পরামর্শে এসেছেন। রোগ তার পেট ব্যথা। এবারই প্রথম তিনি এসেছেন। হেকিম তাকে জানান, তার কিডনী নষ্ট হয়ে গেছে। ডাব পড়াসহ করাত কাটা পানিতে সেরে যাবে চিকিৎসা। এমন বিশ্বাসে তিনি পাঁচ হাজার টাকা প্রদান করেন ক্যাশব বাবুকে। টিনের মরিচা ধরা করাত বিজিয়ে পানি ও তাবিজ যে মানুষের ক্ষতি হয় জানেন না তিনি।

জোর গলায় ক্যাশব বাবু জানান, তিনি এ চিকিৎসা করছেন গত ত্রিশ বছর ধরে। তার চিকিৎসায় কোন রোগীর ক্ষতি হয় নাই।

ক্যাশব বাবুর অপচিকিৎসার অভিযোগ করেন রায়পুর উপজেলার উত্তর চরবংশী গ্রামের হাসানের স্ত্রী খুকী বেগম। তিনি জানান, তার শশুর বাড়ির পার্শ্বের এক মহিলার পরামর্শে তার বিবাহিত মেয়েকে নিয়ে ক্যাসব বাবুর নিকট এসেছিলেন। সমস্যা তার বিয়ের পর বাচ্চা হয় না।

ক্যাশব বাবুর ঝাড় ফুঁ ও তাবিজসহ অপচিকিৎসা বন্ধের দাবি তুলেছেন ক্ষতিগ্রস্থসহ স্থানীয়রা।

জানা গেছে, সম্প্রতি অপচিকিৎসায় এক শিশু অসুস্থ্য হয়ে পড়লে গত ২৩ আগস্ট মঙ্গলবার রাতে ভ্রাম্যমাণ আদালত ভুয়া চিকিৎসক তৈয়বা খাতুনকে সরকারি কোষাগারে ২ লাখ টাকাসহ শিশুর  চিকিৎসা বাবদ আরো ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করেন। ডাক্তারি বিদ্যা ছাড়াই সেজে বসেছেন ডাক্তার তৈয়বার এমন অভিযোগ ভ্রাম্যমাণ আদালতে দোষ স্বীকার করে বাড়িতে আর চিকিৎসা করবেন না আদালতে জবানবন্দি প্রদান করেন তিনি।

নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ নুরুজ্জামান জানান, তিনি সম্প্রতি সদর হাসপাতালের ওটি বিভাগের ব্রাদার বিকাশ চন্দ্র ভৌমিককে ভুয়া চিকিৎসার অভিযোগে ২ লাখ টাকা অর্থদণ্ড দেন। এ পর্যন্ত ২ জনকে ভুয়া চিকিৎসার অভিযোগে অর্থদণ্ড করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। ভুয়া চিকিৎসায় কেউ ক্ষতিগ্রস্থ হলে তদন্ত করে বিচার করা হবে বলে জানান তিনি।

সদর হাসপাতালের ই.এম,ও ডা. কমলাশীষ রায় জানান, কিছু  অসুখ আছে তা সামান্য চিকিৎসায় ভাল হয়ে যায়। এ অসুখে অনেক রোগীরা চিকিৎসকের কাছে না এসে কেন যে ঝাঁড় ফুকের কাছে যাচ্ছেন তা ঠিক না।
 
জেলা সিভিল সার্জন ডা. মোস্তফা খালেদ জানান, চিকিৎসক নামধারী ডাক্তারি বিদ্যা ছাড়াই হাতুরেরা চিকিৎসা করছে সেটা অবৈধ। কয়েক দিনের মধ্যে কোয়াক চিকিৎসকসহ হেকিম, কবিরাজ ও ওজাদের বিরুদ্ধে অভিযান পরিচালনা করার জন্য যথাযথ কর্তপক্ষকে জানানো  হবে। এছাড়া জেলায় স্বাস্থ্য বিভাগে ২৮৬টি পদ শূন্য পদে লোক নিয়োগের ব্যাপারটি প্রক্রিয়াধীন আছে।

রোগী পরামর্শ প্রদান করেন তিনি জানান, প্রতিটি এলাকায় ওয়ার্ড পর্যায়ে রয়েছে কমিউনিটি ক্লিনিক, ইউনিয়ন পর্যায়ে রয়েছে ইউনিয়ন উপ-স্বাস্থ্য কেন্দ্র, এছাড়া উপজেলা পর্যায়ে রয়েছে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও সদর হাসপাতাল। এসব স্থানে রোগীরা চিকিৎসা সেবা পাবে বিনামূল্যে। সে সাথে পাবেন বিনামূল্যে ওষুধও। তাতে করে জেলায় পর্যায়ক্রমে বন্ধ হবে অপচিকিৎসা।

2017-08-08-05-11-19নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: শরীরের ওজন কমাতে কতজন কতকিছুই না করে থাকেন। শরীরের বাড়তি মেদ কমাতে কেউ কেউ খাওয়া-দাওয়াই কমিয়ে দিয়েছেন।মেনে চলছেন অনেক বিধি-নিষেধ। তারপরও কমছে না ওজন। তবে প্রতিদিনের খাবার সম্পর্কে একটু সচেতন থাকলেই শরীরে বাড়তি মেদ জমবে না। দ্রুত শরীরের ওজন কমাতে ফলের বিকল্প নেই। নিচে ওজন কমাতে সহায়ক...
     
 
FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -