শেখ এহছানুল হক খোকন, বর্তমানকন্ঠ ডটকম, কুয়েত : পবিত্র ঈদ উল আযহা উপলক্ষে কুয়েতের শহরে আর মরু পল্লীতে যেন ভিন্ন ঈদের আমেজ। জীবনের খুব কাছাকাছি কষ্ট গুলাকে মুছে, আনন্দ আর পরিবারের মুখে হাসি ফোটাতে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করে যে সকল প্রবাসী বাংলাদেশী কুয়েতে রয়েছেন। তাদেরকে একটু আনন্দ দিতে আমরা অনেকটাই পিছিয়ে থাকি। কুয়েতে এমন অনেক প্রবাসী বাংলাদেশী রয়েছেন, যারা শহরের থেকে অনেকটা বিচ্ছিন্ন, সুদুর মরুভূমিতে তেমন কিছু মানুষের খোজ মেলে শহর থেকে একশত কি:মি: দুরে সুদুর মরুভূমিতে আবাদী ও অনাবাদী জমির মধ্যে থেকে যারা দিন কাটান। তেমন একটি স্থান ইরাক বর্ডারের (সীমান্তবর্তী) এলাকার কাছাকাছি আবদালি। এখানে রয়েছে বাংলাদেশী প্রবাসী যারা কৃষিকাজ, পশুপালনসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে ব্যস্ত থাকেন। শহরের মানুষের সাথে তেমন একটা দেখা সাক্ষাত না মিললেও, পবিত্র ঈদে অনেকটা কাছাকাছি হন। আর কাছাকাছি হওয়ার সুবাদে তাদের সুখ-দুঃখে জড়িত জীবনের খানিকটা আনন্দ উপভোগ করেন।

যখন শহরের বন্ধু বান্ধব সেখানে দেখা করতে যান, সেখানে গিয়ে কর্মজীবি কৃষক । অনেক বাঙালীদের সাথে দেখা হয়, তাদের মধ্যে প্রায় ১০ বছর একটি র্ফামে রয়েছে এমন একজন প্রবাসী যার সঙ্গে রিপোটিং টিমের কথা হয়। তিনি হলেন কুয়েত প্রবাসী বাংলাদেশী ইব্রাহিম তার কাছে জানতে চাই কেমন আছেন, কি কি কাজ করেন ইত্যাদি ইত্যাদি তখন তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, কষ্ট আমাদের যতই হোক আমরা আমাদের পরিবারের মুখে হাসি দেখতে চাই, এখানে আমরা চাষাবাদ করি কৃষি ফলন করতে প্রখর রৌদ্রে ক্লান্ত হলেও অনেক আনন্দ পাই। যখন আমাদের বন্ধু বান্ধব বা আপনারা শহর হতে আমাদের দেখতে আসেন । তিনি বলেন, এখানে শাক- শবজি, খেজুর, মাছ, উট, দুম্বা, হরিন, হাস, মুরগিসহ নানা জাতের ফলমুলও আবাদ হয়। বিঘায়-বিঘায় জমি মরুভুমিতে সবুজ অরন্য সত্যিই প্রশংসনিয় আর এই প্রশংসার দাবীদার কৃষিজীবি বাংলাদেশী মানুষ গুলো। কুয়েতিদের মন রক্ষা করে এসকল প্রবাসীরা যে ভূমিকা রাখছে ভবিষ্যতে কুয়েত হয়তো সবুজ অরন্যের ভূমি হতে সময়ের ব্যাপার মাত্র। এখানে বেশ কিছু কৃষিজীবী শ্রমিক রয়েছেন যারা ইতিমধ্যে অনেক সফল পাশাপাশি লাভবান হচ্ছেন কুয়েতিরাও। ঈদের সরকারী ছুটিতে সবাই যেমন আনন্দে কাটান, তেমনি তারাও এই ছুটিতে ঈদ আনন্দ উপভোগ করেন। কিন্তু তাদের ঈদের আনান্দটা অনেকটা ব্যতিক্রম, যেহেতু ঘনবসতির মধ্যে তাদের অবস্থান নয়, এখানে অনেকটা ফাঁকা ফাঁকা পরিবেশে ঠিক যেন অদূর পাড়া গায়ের নিরব দৃশ্য লক্ষ্য করা যায়। এখানে অনেকটা দুরে এক একটি র্ফাম যা আরবিতে মাজরা এবং শালে বলে। বিশেষ দিনে বিশেষ ছুটিতে একে অপরের সঙ্গে আতিথীয়তার দৃশ্য সত্যই অনেক আবেগঘন মুহুর্তের পরিচায়ক। একজন রেমিটেন্স যোদ্ধা হিসাবে তারা আরো অগ্রগামী হবে সে আশার কথাই জানালেন।

     
 
FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -