তথ্য প্রযুক্তিতে বাড়ছে নারীর দক্ষতা

দিন পাল্টাচ্ছে। কর্মজীবনের সব সেক্টরেই বাড়ছে নারীর অংশগ্রহণ। কয়েকবছর আগেও বাংলাদেশে কম্পিউটার তথা আইসিটি ক্ষেত্রে পুরুষদেরই বিচরণ ছিল। কারণ যারা শিক্ষা, চাকরি ও ব্যবসায় নিয়োজিত তাদের বেশিরভাগই ছিলেন পুরুষ। গত কয়েক বছরে এ চিত্র ধীরে ধীরে পাল্টে গেছে। এ খাতে এখন নারীরাও অনেক দূর এগিয়ে এসেছেন।


বাংলাদেশে আইসিটি খাতে নারীদের জন্য সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে। বাংলাদেশ সরকারের মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে কয়েকটি প্রকল্প রয়েছে। এগুলোতে সরাসরি বাংলাদেশের মহিলাদের ভাগ্যোন্নয়নে আইসিটিকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে জাতীয় মহিলা সংস্থার একটি প্রকল্পের নাম ‘জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ’। ১৬ কোটি ৭৫ লাখ টাকা ব্যয়ের এ প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য শিক্ষিত মহিলাদের তথ্যপ্রযুক্তি শিক্ষার মাধ্যমে কর্মসংস্থান এবং যোগাযোগ প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোক্তা হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করা।

এ প্রকল্প সম্পর্কে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা আবুল খায়ের  জানান, জেলাভিত্তিক মহিলা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ (২য় পর্যায়) প্রকল্পটি ২০১১ এর জুলাই থেকে জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন করা হয়। এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিলÑ শিক্ষিত মহিলাদের প্রযুক্তিনির্ভর হওয়ার সুযোগ সৃষ্টি করাসহ শিক্ষিত নারী সমাজের দারিদ্র্যবিমোচন এবং আর্থিক স্বনির্ভরতা অর্জনে সহায়তা করা, শিক্ষিত বেকার মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থানের মাধ্যমে স্বনির্ভর হওয়ার ব্যাপারে উদ্বুদ্ধ করা, নারী সমাজকে মানব সম্পদে পরিণত করার লক্ষ্যে উৎসাহ জোগানো ও আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়নে সর্বত প্রচেষ্টা নেয়া।

ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, বরিশাল, ময়মনসিংহ, বগুড়া, ফরিদপুর, দিনাজপুর, কুমিল্লা, নোয়াখালী, রংপুর, টাঙ্গাইল, কুষ্টিয়া, পাবনা, কুড়িগ্রাম, নাটোর, লালমনিরহাট, নীলফামারী, নেত্রকোনা, জয়পুরহাট, গাইবান্ধা, নওগাঁ, গোপালগঞ্জ, নারায়ণগঞ্জ, ভোলা, গাজীপুর, পঞ্চগড়, ও কক্সবাজার জেলায় এ প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হয়। এছাড়া জাতীয় মহিলা সংস্থা তিন বছর মেয়াদি একটি প্রকল্পের কাজ করেন। এ প্রকল্পের নাম হচ্ছে ‘তথ্য আপা’।

 ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে তথ্যপ্রযুক্তির মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন প্রকল্প নাম দেয়া হয়েছে 'তথ্য আপা'। দেশের ১০টি উপজেলায় কিছুসংখ্যক নারীকে নির্বাচিত করা হয়। ‘তথ্য আপা’ প্রযুক্তির অধীনে একটি নারীর জন্য ডিজিটাল তথ্যভা-ার গড়ে তোলা হয় এবং গ্রাম ও শহরের সব নারী সেই ডিজিটাল তথ্যভা-ারে প্রবেশাধিকার পান।

 বাংলাদেশ উইমেন ইন টেকনোলজি তথা বিডব্লিউআইটি সেসব নারীদের সংগঠন, যারা কোনো না কোনোভাবে বাংলাদেশের আইসিটি খাতের সঙ্গে জড়িত। বাংলাদেশে প্রযুক্তি খাতে পেশাগতভাবে জড়িত নারীদের এটি প্রধান সংগঠন।

এ সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য আইটি খাতের সঙ্গে জড়িত নারীদের একত্রিত করে তাদের পরিচিতির ব্যবস্থা করা। তাদের জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি করা। এছাড়া এ সংগঠনটি তরুণীদের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পকে পেশা হিসেবে বেছে নিতে এবং এ শিল্পে উদ্যোগী হতে উৎসাহিত করে থাকে। নারী উদ্যোক্তা এবং পেশাজীবীদের আইসিটিতে সাফল্য অর্জনের জন্য নেতৃত্ব গুণাবলিসহ অন্যান্য দক্ষতা বাড়ানোর সর্বাত্মক চেষ্টাও করা হয় এ সংগঠনটির পক্ষ থেকে।

এদিকে বিডব্লিউআইটির মিশন হচ্ছে, বাংলাদেশে নারীদের প্রযুক্তি শিল্পে ক্যারিয়ার গড়তে উৎসাহিত করা এবং প্রযুক্তি বিষয়ে সচেতনতা বাড়ানোর পাশাপাশি নারীদের শিক্ষা, নেতৃত্ব দক্ষতা এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা দিয়ে তাদের ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করা।  তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পে জড়িত উদ্যোক্তা পেশাজীবী নারীরা এ সংগঠনের সদস্য হওয়ার জন্য উপযুক্ত।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নারীর সহযোগিতা ছাড়া যেমন স্বাধীনতা অর্জিত হয়নি, তেমনি ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ায় নারীর ভূমিকা বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ। আইসিটি খাতে নারীর অংশগ্রহণ বাংলাদেশের নারী সমাজের অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষমতায়ন ঘটাবে, যা বাংলাদেশকে উন্নতির পথে আরও এগিয়ে নিয়ে যেতে সাহায্য করবে। তবে এ সেক্টরে সফল হতে হলে একজন উদ্যোক্তাকে একটি সুনির্দিষ্ট ব্যবসায়িক পরিকল্পনা নিয়ে নামার আহ্বান জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ বাংলাদেশে অনেক সুযোগ আছে এবং একজন উদ্যোক্তা কী ধরনের ব্যবসায় ভালো করতে পারবেন, তা নিজেকেই চিহ্নিত করতে হবে। তবে আশার কথা হলো, বাংলাদেশে নারী উদ্যোক্তারা এগিয়ে আসছেন এবং ভবিষ্যতে আইসিটি ইন্ডাস্ট্রি যত বেশি স্থিতিশীল হবে এবং আকার যত বাড়তে থাকবে, তত বেশি নারী উদ্যোক্তা এ সেক্টরে এগিয়ে আসবেন।

2017-05-27-12-26-09নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: ঢাকা থেকে সিলেটগামী বিজি ১৬০৫ ফ্লাইটে ১১৫ জন যাত্রীর মধ্যে ৩০ জনই শিশু-কিশোর। এরা কেউ উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান নয়। অনাথ, সুবিধা বঞ্চিত। সমাজ সেবা অধিদফতে পরিচালিত শিশু পরিবারের (নিবাস) এই সদস্য। তবু এরাই ছিল ফ্লাইটের বিশেষ যাত্রী। শনিবার (২৬ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় এরা যখন উড়োজাহাজে ওঠে,...
2017-05-27-12-26-09নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: ঢাকা থেকে সিলেটগামী বিজি ১৬০৫ ফ্লাইটে ১১৫ জন যাত্রীর মধ্যে ৩০ জনই শিশু-কিশোর। এরা কেউ উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান নয়। অনাথ, সুবিধা বঞ্চিত। সমাজ সেবা অধিদফতে পরিচালিত শিশু পরিবারের (নিবাস) এই সদস্য। তবু এরাই ছিল ফ্লাইটের বিশেষ যাত্রী। শনিবার (২৬ মে) সকাল সাড়ে সাতটায় এরা যখন উড়োজাহাজে ওঠে,...
     
 
FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -