হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে নগর আওয়ামী লীগ ও মেয়র মুখোমুখি

চট্টগ্রাম,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: চট্টগ্রামে নগরবাসীর হোল্ডিং ট্যাক্স নিয়ে মুখোমুখি মেয়র আ.জ.ম নাছির উদ্দিন ও নগর আওয়ামী লীগ। ট্যাক্স না বাড়াতে অনুরোধ জানিয়ে মেয়রকে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর আওয়ামী লীগ।

হোল্ডিং ট্যাক্সের পুরনো হার বহালের দাবি জানিয়ে ‘করদাতা সুরক্ষা পরিষদের’ সমাবেশ থেকে মেয়রকে এক সপ্তাহের সময় বেঁধে দেয়ার ৩ দিনের মাথায় নগর আওয়ামী লীগ এ সিদ্ধান্ত নিলো।

আগের ধার্য হোল্ডিং ট্যাক্স বহাল রাখাসহ নগরীর ভাঙা সড়কগুলে দ্রুত মেরামত করতে চিঠিতে মেয়রকে অনুরোধ জানানোর সিদ্ধান্ত হয়েছে। মঙ্গলবার (৩ অক্টোবর) চিঠি প্রস্তুত করে বুধবার তা মেয়রের কাছে পৌঁছে দেয়া হবে।

এ ছাড়া নগরীর গ্যাস, বিদ্যুৎ ও পানি সংকট; বেহাল সড়ক ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি বিষয়ে যথাক্রমে কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড (কেজিডিসিএল), পিডিবি, ওয়াসা, চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ) এবং নগর পুলিশের কমিশনারকেও চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নগর আওয়ামী লীগ।

নগরীর বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পসহ সড়কগুলোর সংস্কার কাজ দ্রুত শেষ করতে সিডিএকে, অপর্যাপ্ত গ্যাস সরবরাহের কারণে আবাসিক গ্রাহকদের ভোগান্তি ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ব্যাঘাতের বিষয় উল্লেখ করে কেজিডিসিএলকে, পানির অপ্রতুলতা নিরসনে ওয়াসাকে, ঘনঘন লোডশেডিং ও লো ভোল্টেজ বন্ধে পিডিবিকে এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও মাদক নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ কমিশনারকে চিঠি দেয়া হবে।

নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক মেয়র এ বি এম মহিউদ্দিন চৌধুরীর চশমা হিলের বাসায় সোমবার রাতে এ সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। ওই সভায় নগর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আ. জ. ম নাছির উদ্দিন উপস্থিত ছিলেন না।

এই সিদ্ধান্ত নগর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদেকর পুরনো বিরোধ আবার উস্কে দেয় কি না এ নিয়ে কৌতূহল রাজনৈতিক অঙ্গনে।

নগর আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন সভার সিদ্ধান্তের বিষয়ে বলেন, ‘হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্তে শহর উত্যপ্ত। মহল্লায় মহল্লায় ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।’

সভায় মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমরা এই সমাজেই বাস করি। সমাজের মানুষের বাইরে আমরা নই। রাজনীতি করি বলেই আমরা নিশ্চুপ থাকতে পারি না। যেহেতু মেয়র দলের তাই রিভিউ করতে অনুরোধ করতে পারি। এতে জনগণও দলের অবস্থান জানতে পারবে।’ আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর বিষয়টি প্রভাব ফেলতে পারে বলেও আলোচনা হয় সভায়।

মহিউদ্দিন চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের তো মানুষের কাছে যেতে হবে ভোটের জন্য। বিভিন্ন মহল্লা থেকে লোকজন আমাদের কাছে আসছে। পথে-ঘাটে যেখানেই যাই মানুষ আমাদের বলছে। তাই দলের অবস্থান জানানোটাও জরুরি।’

২০১৬ সালের মার্চে ‘পঞ্চবার্ষিকী কর মূল্যায়ন কর্মসূচি’র মধ্য দিয়ে নতুন করে হোল্ডিং এর কর নির্ধারণ শুরু হয়। মূল্যায়ন শেষে গত ৩১ আগস্ট তা প্রকাশ করা হয়।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (সিসিসি)এ বিষয়ে আপিল করতে যে সময় নির্ধারণ করেছে মঙ্গলবার তা শেষ হচ্ছে। আপিলের সময়সীমা আরও ৩ মাস বাড়াতে চেয়ে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে চিঠিও দিয়েছে সিসিসি।নতুন কর মূল্যায়নের পর থেকেই নগরবাসী অতিরিক্ত হোল্ডিং ট্যাক্স ধার্য করা হয়েছে বলে অভিযোগ করছেন।

করদাতা সুরক্ষা পরিষদ নতুন পদ্ধতিতে ভাড়ারভিত্তিতে হোল্ডিং ট্যাক্সের পরিবর্তে আগের নিয়মে স্থাপনার আয়তন হিসেবে হোল্ডিং ট্যাক্স নির্ধারণ ও আদায়ের দাবিতে আন্দোলন করছে।

নির্বাচনী প্রচারের সময় হোল্ডিং ট্যাক্স না বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিলেও পুনর্মূল্যায়ন শুরুর সময় থেকে মেয়র নাছির বলছেন- হোল্ডিং ট্যাক্স বাড়ানোর এখতিয়ার সরকারের। তিনি কেবল মন্ত্রণালয়ের অধ্যাদেশ অনুসারে কর আদায়ের চেষ্টা করছেন।

সিসিসি নতুন করে যে ১৭ শতাংশ কর নির্ধারণ করেছে তার মধ্যে ৭ শতাংশ হোল্ডিং বাবদ, ৩ শতাংশ বিদ্যুতায়ন বাবদ এবং আর্বজনা অপসারণের জন্য ৭ শতাংশ। নতুন নিয়ম অনুসারে যে কোনও বহুতল স্থাপনার সবগুলো ফ্ল্যাটের মোট বার্ষিক ভাড়া থেকে ২ মাসের ভাড়া বাদ যাবে রক্ষণাবেক্ষণ খরচ হিসেবে।

ভবন মালিক যদি ঘর ভাড়া না দিয়ে শুধুমাত্র নিজেই বসবাস করেন সেক্ষেত্রে এ থেকে আরও ৪০ শতাংশ ছাড় দেয়া হবে। এরপর বার্ষিক ভাড়ার যে মোট অঙ্ক বাকি থাকবে তার উপর ১৭ শতাংশ কর দিতে হবে।

পুরনো নিয়মে গত অর্থ বছরে সিসিসি হোল্ডিং ট্যাক্স বাবদ আদায় লক্ষ্যমাত্রা ছিলো ৩৪৭ কোটি ৫২ লাখ টাকা। যদিও ওই অর্থ বছরে আদায় হয়েছে ১০৩ কোটি ৪৪ লাখ টাকা।

এ বছর শেষ হওয়া কর পুনর্মূল্যায়ন অনুসারে নগরীতে মোট হোল্ডিং আছে এক লাখ ৮৫ হাজার ২৪৮টি। যা আগের হোল্ডিং এর চেয়ে ২৮ হাজার ৭০২টি বেশি। মূল্যায়নে নগরীর সব হোল্ডিং এর বিপরীতে চলতি অর্থ বছরে মোট ৮৫১ কোটি ৩০ লাখ ৬৪ হাজার টাকা কর আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে।

সোমবার রাতের সভায় উপস্থিত ছিলেন নগর কমিটির সহ-সভাপতি সুনীল সরকার, খোরশেদ আলম সুজন ও জহিরুল আলম দোভাষ, সাংগঠনিক সম্পাদক শফিক আদনান ও নোমান আল মাহমুদ, সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য শফিকুল ইসলাম ফারুক, হাসান মাহমুদ শমসের ও আবু তাহের ও উপ-দফতর সম্পাদক জহর লাল হাজারী।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -