‘রাজনীতির যেমন নীতি থাকা দরকার, তেমনি সাংবাদিকতারও’

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম : ‘রাজনীতির যেমন নীতি থাকতে হবে, তেমনি সাংবাদিকতারও নীতি থাকা দরকার। নীতিহীন রাজনীতি দেশ ও জনকল্যাণ করতে পারে না, ঠিক তেমনি নীতিহীন সাংবাদিকতাও সমাজের জন্য কিছু করতে পারে না। বরং দেশ ও সমাজ ক্ষতিগ্রস্ত হয়।’

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা রোববার বিকেলে জাতীয় প্রেসক্লাব মিলনায়তনে বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) আয়োজিত ইফতার পার্টিতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু বলতেন, রাজনীতি করলে নীতির সঙ্গে করতে হবে, সাংবাদিকতায়ও নীতি থাকতে হবে। নীতিহীন সাংবাদিকতায় দেশ-সমাজ কলুষিত হয়, তাতে দেশ ও জাতির ক্ষতি। হলুদ সাংবাদিকতা গ্রহণযোগ্য নয়।’

‘জাতির পিতা সাংবাদিকতা দিয়ে জীবন শুরু করেছিলেন। আমি সাংবাদিক পরিবারের একজন সদস্য। সেই হিসেবে আপনাদের কাছে আমার আসা। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন, দোয়া করবেন দেশ ও জাতির জন্য,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্য সরকার দায়ী নয় মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সংবাদ পত্রে নবম ওয়েজবোর্ড বাস্তবায়ন না হওয়ার জন্য সরকারের কোনো দোষ নাই, দোষ মালিকদের। মালিকরা প্রতিনিধি দিলে আমরা ওয়েজবোর্ডের কাজ শুরু করে দিতে পারি। মালিকরা সদস্য দেবেন, সুপারিশ করবেন।’

‘আমি চাই প্রত্যেক সংবাদপত্রে ওয়েজবোর্ড থাকুক। কিন্তু কিছু পত্রিকা ছাড়া বাকিরা মানে না। প্রত্যেক সংবাদপত্রে ওয়েজবোর্ড থাকা দরকার। মালিকরা ওয়েজবোর্ড মেনে চলবেন। একইভাবে ইলেকট্রনিক মিডিয়াও নীতিমালা মেনে ওয়েজবোর্ডের আওতায় আসা উচিত,’ বলেন প্রধানমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ‘১৯৯৬ সালের আগে প্রাইভেট টিভি চ্যানেল ছিল না। ক্ষমতায় আসার পর আমরাই প্রথম ইলেকট্রনিক মিডিয়া উন্মুক্ত করে দিয়েছিলাম। চালু করেছি এফএম রেডিও। আমাদের আমলেই অনলাইন মিডিয়াসহ গণমাধ্যম অবাধ স্বাধীনতা ভোগ করছে।’

সাংবাদিকদের সম্মান দেওয়ার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আগে মামলা হলে তাৎক্ষণিক সাংবাদিকদের গ্রেপ্তার করা হতো। আইন সংশোধন করে সেটা এখন বাদ দেওয়া হয়েছে। এখন গ্রেপ্তারের আগে সমন জারি হয়, সরাসরি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয় না। এই ব্যবস্থা সাংবাদিকদের সম্মানের দিকে তাকিয়ে করা হয়েছে।’


সাংবাদিকদের জন্য আবাসন সুবিধার কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তিনি বলেন, ‘সাংবাদিকদের আবাসন সমস্যা সমাধানে উত্তরায় প্লট ও ফ্ল্যাট নির্মাণ করা হচ্ছে। সেখানে দীর্ঘমেয়াদি কিস্তি দিয়ে তারা প্লট নিতে পারবেন। সাংবাদিকদের জন্য আলাদা কোটা রাখার জন্য গণপূর্ত মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমান সরকার এই প্রথম তথ্য অধিকার আইন ও তথ্য অধিকার কমিশন গঠন করেছে। সংবাদপত্রকে সেবা শিল্পখাত হিসেবে করে দেওয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের কল্যাণে ট্রাস্ট করেছে। সেখান থেকে দুস্থ ও অসহায় সাংবাদিকদের সহযোগিতা করা হচ্ছে।’

জাতির পিতার কর্মের স্মৃতি উল্লেখ করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘বাংলাদেশকে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে জাতির পিতা সব ক্ষেত্রে সব ধরনের আইন-কানুন ও নীতি প্রণয়ন করে গেছেন। কিন্তু সব কিছু তিনি সম্পন্ন করে যেতে পারেননি। ১৯৭৫ সালে যদি বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যা করা না হতো তাহলে বাংলাদেশ অল্প সময়ে বিশ্বের দরবারে উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে মাথা উচু করে দাঁড়াতো।’

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সংবিধান লঙ্ঘন করে জাতির পিতাকে হত্যা করা হয়।’

জিয়াউর রহমানের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেনা আইন লঙ্ঘন করে জিয়াউর রহমান রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করেছিলেন। সেনাপ্রধান থাকা অবস্থায় এভাবে একাধারে রাষ্ট্রপতিসহ দুটি পদে থাকার সুযোগ নাই। সেনা আইন ভঙ্গ করেই তিনি সেনাপ্রধান ও রাষ্ট্রপতি হয়েছিলেন। তার আমলে ১৯টি ক্যু হয়। স্বাধীনতা বিরোধীদের পুনর্বাসন করা হয়। মহান স্বাধীনতা যুদ্ধের লুটেরা মানবতাবিরোধীদের হাতে তুলে দেওয়া প্রভাব-ক্ষমতা। লঙ্ঘন করা হয় সংবিধান। এভাবে মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ধূলিস্যাৎ করে বাংলাদেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।’

প্রস্তাবিত বাজেটকে বড় বাজেট উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘৪ লাখ ২৬৬ কোটি টাকার বাজেট দেওয়া হয়েছে। এই বাজেটে কোনো সমস্যা থাকলে সংসদে আলোচনা করে তার সমাধান করা হবে।’

বিএফইউজে সভাপতি মনজুরুল আহসান বুলবুলের সভাপতিত্বে ইফতার পার্টিতে বক্তব্য রাখেন তথ্যমন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, প্রধানমন্ত্রীর তথ্য উপদেষ্টা ইকবাল সোবহান চৌধুরী, বিএফইউজের মহাসচিব ওমর ফারুক, ডিই্উজের সভাপতি শাবান মাহমুদ।

ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক সোহেল হায়দার চৌধুরীর সঞ্চালনায় ইফতার পার্টিতে উপস্থিত ছিলেন কৃষিমন্ত্রী মতিয়া চৌধুরী, খাদ্যমন্ত্রী কামরুল ইসলাম, রেলমন্ত্রী মুজিবুল হক, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা এইচ টি ইমাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যাঞ্চেলর আ ম স আরেফিন সিদ্দিক, জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি শফিকুর রহমান, সহসভাপতি সাইফুল আলম, সাধারণ সম্পাদক ফরিদা ইয়াসমিন, সাংবাদিক নেতা শ্যামল দত্ত, কুদ্দুস আফ্রাদ প্রমুখ।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -