বাজেট ডিজিটাল লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সাংঘর্ষিক: অ্যামটব

নিউজ ডেস্ক,বর্তমানকণ্ঠ ডটকম: মোবাইল হ্যান্ডসেট, বিশেষ করে স্মার্ট ফোন–এর আমদানির উপর চাপিয়ে দেয়া বাড়তি কর ‘অসময়োপযোগী’ বলে আখ্যা দিয়েছে মোবাইল অপারেটরদের সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন অফ মোবাইল অপারেটর্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামটব)।

হ্যান্ডসেট এবং মোবাইল টেলিকম পরিকাঠামোর উপর দুঃখজনক ভাবে কর বৃদ্ধি এবং সিম ট্যাক্স বাড়ানোর পদক্ষেপ টেলিযোগাযোগ সেবা ও ডাটা সেবা আরও স্বল্প-ব্যয় সাপেক্ষ করে তোলার পক্ষে সরকারের ডিজিটাল লক্ষ্যমাত্রার সঙ্গে সাংঘর্ষিক বলেও মন্তব্য করে সংগঠনটি।

বুধবার (০৭ জুন) রাজধানীর একটি অভিজাত রোস্তরাঁয় সাংবাদিকদের নিয়ে আয়োজিত ইফতার পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে এমন কথা বলেন খাত সংশ্লিষ্টরা।

অনুষ্ঠানে রবি আজিয়াটা লিমিটেডের চিফ কর্পোরেট অ্যান্ড পিপল অফিসার মতিউল ইসলাম নওশাদ, গ্রামীণফোনের চিফ কর্পোরেট অ্যাফেয়ার্স অফিসার মাহমুদ হোসেন, বাংলালিংকের রেগুলেটরি অ্যাফেয়ার্সের সিনিয়র ডিরেক্টর তৈমুর রহমান ও অ্যমটবের সেক্রেটারি টিআইএম নুরুল কবির উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে এক লিখিত বক্তব্যে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট সম্পর্কে অসন্তোষ প্রকাশ করা হয়।

অ্যামটব'র অভিযোগ, টেলিযোগাযোগ শিল্প খাত যেখানে জিডিপি-তে ৬ শতাংশ অবদান রাখছে অদূর ভবিষ্যতে যা ৮ শতাংশে উন্নীত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, তথাপি, ইন্ডাস্ট্রি–এর পক্ষ হতে উপস্থাপিত বাজেট-পূর্ব প্রস্তাবনার কোনো প্রতিফলন বাজেট ভাষনে লক্ষ্য করা যায়নি।  বাজেট অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে সাধারণ কাস্টমারদের উপর বাড়তি ব্যয়ের বোঝা চাপানো হয়েছে অথচ কোনো প্রকার সুযোগ সুবিধা দেওয়া হয়নি।

দেশীয় হ্যান্ডসেট উৎপাদনকারী শিল্প এখনও তা থেকে সুফল গ্রহণ করার উপযুক্ত হয়ে ওঠতে পারেনি বলে দাবি সংগঠনটির।

দাবির স্বপক্ষে যুক্তি দিয়ে বলা হয়েছে, যেহেতু ৯৫% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইল যন্ত্রের মাধ্যমে ইন্টারনেট সংযোগ গ্রহণ করে থাকে, হ্যান্ডসেট–এর উপর আরোপিত নতুন কর আগামীতে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা বৃদ্ধির পথে প্রতিবন্ধক হবে। অ্যামটব ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর ১৫% ভ্যাট প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলে, তা করা না হলে সরকারের ‘ডিজিটাল বাংলাদেশ’ গড়ে তোলার রাজনৈতিক লক্ষ্য বাধাপ্রাপ্ত হওয়ার সম্ভাবনা থেকে যাবে।

মোবাইল অপারেটরদের পক্ষ থেকে সিম ট্যাক্স সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করার দাবি জানিয়ে বলা হয়েছে, ইতোপূর্বে উক্ত কর হ্রাসের সুফল হিসাবে ইউনিক সিম ৫৪% বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং পরবর্তী প্রবৃদ্ধির স্বার্থে সম্পূর্ণ রূপে প্রত্যাহার করে নেয়া আবশ্যকীয়। অন্যান্য শিল্পখাতের সঙ্গে করপোরেট ট্যাক্স-এর  সমতা বিধান করার পরামর্শও দেয়া হয়েছে।

অ্যামটব মনে করে হ্যান্ডসেট এবং মোবাইল টেলিযোগযোগ পরিকাঠামোর উপর বাড়তি কর এবং সেই সাথে সিম ট্যাক্স বাড়ানোর সিদ্ধান্ত সরকারের টেলিযোগাযোগ এবং ডাটা-সেবা স্বল্প-ব্যয়-সাপেক্ষ করে তোলার উচ্চাশার পরিপন্থি।

অ্যামটব বলছে, কোনও মোবাইল অপারেশনই লাভজনক নয়, একটি ব্যতিরেকে এবং  পরিকাঠামোগত ব্যয় বৃদ্ধির ফলে সে সকল অপারেশনের ক্ষেত্রে মুনাফা অর্জন নতুন করে অনিশ্চিত হয়ে উঠবে। অ্যামটব মনে করে, সরকার আবারও তাৎক্ষণিক ক্ষুদ্র ফল লাভের প্রত্যাশায় দীর্ঘমেয়াদি বৃহৎ স্বার্থ বিসর্জন দিয়েছে। যদিও টেকসই জাতীয় উন্নয়নের জন্য সরকারের গৃহিত উন্নয়ন কৌশল-নীতির ক্ষেত্রে মোবাইল নেটওযার্ক অপারেটররা অপরিসীম গুরুত্ব বহন করে, কারণ ইন্ডাস্ট্রি কর্তৃক উপার্জিত প্রতি ১০০ টাকা হতে সরকারের রাজস্বে যায় ৪৭ টাকা।
 
অপারেটররা মনে করনে, ডিজিটাল বাংলাদেশ-এর লক্ষ্য অর্জনের ইন্টারনেট অন্যতম পথ এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করে। এখন দেশে ৬ কোটি মানুষ ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করছে। ৯৫% ইন্টারনেট ব্যবহারকারী মোবাইল ফোনের মাধ্যমে ইন্টারনেট ব্যবহার করছে। এই চিত্র থেকে পষ্ট হয়ে ওঠে, মোবাইল টেলিযোগাযোগ খাত ডিজিটাল বাংলাদেশে–এর লক্ষ্য অর্জনের পথে কতোটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

সুতরাং বাজেট যখন এই সেবা শিল্পের আয়ের আরও বেশি অংশ সরকারি রাজস্বে তুলে দেওয়ার জন্য বাধ্যবাধকতা তৈরি করে তা দেশের ডিজিটাল ভবিষ্যতে বিনিয়োগের সামর্থ সংকুচিত করে দেয়। যে কারণে আমরা মনে করছি প্রস্তাবিত বাজেট জাতীর ডিজিটাল লক্ষ্য অর্জনের প্রতিবন্ধক।

অ্যামটব জনিয়েছে, অপারেটরগুলো বিগত তিন বছরে ৩০ হাজার কোটি টাকার অধিক বিনিয়োগ করেছে। ইতোমধ্যে ফোর-জি'র প্রস্তুতি নিচ্ছি। যদিও ফোর-জি হ্যান্ডসেট ব্যবহারের হার মাত্র ৪%।  এমতাবস্থায় মোবাইল হ্যান্ডসেট–এর উপর আমদানি কর বৃদ্ধি মোবাইল শিল্পের ভবিষ্যৎ আরও দুর্বল করে তুলবে। তদুপরি, দেশে যখন ফোর-জি প্রযুক্তি চালু করার জন্য বিনিয়োগ আসন্ন, টেলিকম যন্ত্রাদির উপর ন্যাস্ত আমদানি কর ৫% থেকে বাড়িয়ে ১০% করার ফলে মোবাইল শিল্পের উপর চাপ আরও বেড়ে যাবে।

FacebookTwitterDiggStumbleuponRedditLinkedinPinterest
Pin It
এই পাতার আরো খবর -